Homeনদিয়াশান্তিপুরশান্তিপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, পিসতুতো দাদার বিরুদ্ধে মামলা! দ্রুত গ্রেফতার অভিযুক্ত

শান্তিপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, পিসতুতো দাদার বিরুদ্ধে মামলা! দ্রুত গ্রেফতার অভিযুক্ত

নিউজ ডেস্ক : নদিয়ার শান্তিপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তারই আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাড়িতে একা থাকার সুযোগ
শান্তিপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, পিসতুতো দাদার বিরুদ্ধে মামলা! দ্রুত গ্রেফতার অভিযুক্তশান্তিপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, পিসতুতো দাদার বিরুদ্ধে মামলা! দ্রুত গ্রেফতার অভিযুক্ত

নিউজ ডেস্ক : নদিয়ার শান্তিপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তারই আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে ওই শিশুকে যৌন নির্যাতন করা হয়। ঘটনার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে পরিবারের তরফে অন্য কারণ দেখিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদে নাবালিকা গোটা ঘটনার কথা জানায়। তার বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম মন্টু শেখ। অভিযোগ, সে ওই নাবালিকার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকত। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বলে পরিবারের অভিযোগ। দুপুর প্রায় ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে নাবালিকা বাড়ির একটি ঘরে গেলে সেখানে তাকে একা পেয়ে অভিযুক্ত যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময় কী ভাবে আঘাত লেগেছে, সে বিষয়ে পরিবারের তরফে অন্য একটি কারণ জানানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে নাবালিকাকে ছেড়েও দেওয়া হয়।

কিন্তু বাড়ি ফেরার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সন্ধ্যার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপর তাকে ফের শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিষয়টি সন্দেহজনক বলে মনে হয়।

চিকিৎসকেরা নাবালিকার সঙ্গে কথা বলেন এবং কী ঘটেছে তা জানার চেষ্টা করেন। তখনই শিশুটি ঘটনার কথা খুলে বলে বলে জানা গিয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারেরই এক আত্মীয় তার উপর যৌন নির্যাতন করেছে। বিষয়টি জানার পর চিকিৎসকদের তরফে পরিবারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এর পর পরিবারের সদস্যরা পুরো ঘটনা জানতে পারেন এবং শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে আটক করা সম্ভব হয়।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মন্টু শেখকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। নাবালিকার বক্তব্য, পরিবারের অভিযোগ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য—সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পর নাবালিকাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উপর চিকিৎসকেরা নজর রাখছেন। একই সঙ্গে তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল, অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য-সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করছে।

শনিবার অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতের সাত দিনের পুলিশ হেফাজত চাওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, অভিযোগের প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযুক্তের সঙ্গে নাবালিকার সম্পর্ক, ঘটনার সময় বাড়িতে কারা ছিলেন এবং নির্যাতনের অভিযোগের আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল—এই সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং নাবালিকার বক্তব্যও মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, নাবালিকার বক্তব্য এবং তার চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য যথাযথ ভাবে নথিবদ্ধ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাতেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, এমন ঘটনায় কোনও ভাবেই অভিযুক্তকে ছাড় দেওয়া উচিত নয় এবং দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনত দোষী বলা যায় না। পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্ত ভাবে নির্ধারিত হবে।

নাবালিকাকে ঘিরে এমন ঘটনায় তার নিরাপত্তা এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত চলাকালীন শিশুটির পরিচয় যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সেই বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী, যৌন নির্যাতনের শিকার নাবালিকার পরিচয় প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। ফলে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পক্ষকেই শিশুটির গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।

শান্তিপুরের এই ঘটনায় এখন মূল নজর পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হবে।

একটি শিশুকে ঘিরে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগে দ্রুত পুলিশি পদক্ষেপে অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও, পুরো ঘটনার সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। আপাতত নাবালিকার চিকিৎসা এবং তদন্ত—দুই দিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনের।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved