
নিউজ ডেস্ক; জঙ্গলের মধ্যে পড়ে রয়েছে একের পর এক ভোটার কার্ড! কোথা থেকে এল এতগুলি ভোটার কার্ড, তা ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে নদিয়ার শান্তিপুরে। পুরসভার নিউ ঘোষ মার্কেটের কাছে জঙ্গল থেকে প্রায় ১৫টি ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্যের বিষয়, উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাম রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলির কয়েকটিতে ঠিকানা, তারিখ এবং অন্যান্য তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এমনকি, কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেও তা হাতে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। সেই কার্ডগুলিই কীভাবে জঙ্গলের মধ্যে এল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শান্তিপুর পুরসভার নিউ ঘোষ মার্কেটের কাছে একটি জঙ্গল এলাকায় স্থানীয়দের নজরে আসে বেশ কিছু ভোটার কার্ড। প্রথমে বিষয়টি সাধারণ ঘটনা বলে মনে হলেও একের পর এক কার্ড উদ্ধার হতে থাকায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির মধ্যে প্রায় ১৫টি ভোটার কার্ড রয়েছে।
কার্ডগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাম দেখতে পাওয়ার পরেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিনতে পারছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু আবেদন করার পরেও কার্ড হাতে পাননি। ফলে জঙ্গল থেকে তাঁদের নামে ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির সব তথ্য একরকম নয়। কয়েকটি কার্ডে ঠিকানা, তারিখ এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও কার্ডগুলি আসল না নকল, অথবা কোনওভাবে বাতিল বা পুরনো কার্ড সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তদন্তের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ভোটার কার্ডগুলি কারা সেখানে নিয়ে গিয়ে ফেলল? এগুলি কি কোনও নির্দিষ্ট জায়গা থেকে একসঙ্গে সেখানে ফেলা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনও কারণে জঙ্গলে এসে পড়েছিল? ভোটার তালিকা সংশোধন বা নতুন কার্ড তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভোটার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি এভাবে জঙ্গলে পড়ে থাকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ভোটার কার্ডে একজন নাগরিকের নাম, ঠিকানা এবং পরিচয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। সেই নথি কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে পৌঁছনোর আগেই অন্যত্র চলে গেল, তা নিয়ে তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ভোটার কার্ডগুলি সংগ্রহ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্ডগুলির তথ্য যাচাই করা হতে পারে। কার্ডগুলি কোথা থেকে ইস্যু করা হয়েছিল, কার নামে তৈরি হয়েছিল এবং কীভাবে সেগুলি নিউ ঘোষ মার্কেট সংলগ্ন জঙ্গলে পৌঁছল—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভোটার কার্ড নিয়ে কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না। যদিও শুধুমাত্র জঙ্গল থেকে কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্ডগুলির উৎস বা ঘটনার পিছনে কারও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলির মধ্যে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হতে পারে। তাঁরা কবে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন, আবেদন কোথায় জমা দিয়েছিলেন এবং কার্ড তাঁদের হাতে পৌঁছেছিল কি না—সেই তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে ভোটার কার্ড তৈরির ও বিলি করার প্রক্রিয়াতেও কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, কোনও নাগরিক নতুন ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন করার পর সেটি তাঁর হাতে না পৌঁছে যদি অন্য জায়গায় পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
শান্তিপুরের নিউ ঘোষ মার্কেটের কাছে জঙ্গল থেকে একসঙ্গে প্রায় ১৫টি ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় তাই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। কার্ডগুলি কোথা থেকে এল, কেনই বা সেগুলি জঙ্গলে ফেলা হল, কার্ডগুলির তথ্যের অসঙ্গতির কারণ কী এবং আবেদনকারীদের হাতে কেন সেগুলি পৌঁছল না—সবকিছুর উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের উপর নির্ভর করছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments