Last updated: August 27th, 2026 at 06:08 pm

নিউজ ডেস্ক; তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পুলিশের হানা ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতায়। শেক্সপিয়র থানার পুলিশের একটি দল এ দিন বিকেলে ওই অফিসে পৌঁছয়। সেই সময় অফিসের ভিতরেই ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ পৌঁছতেই অফিসের সামনে রাস্তায় শুরু হয় তর্কাতর্কি।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার একটি নোটিস দেখিয়েই অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরাও ছিলেন। পরে অফিসে থাকা কর্মীদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর পুরসভার আধিকারিক এবং পুলিশকর্মীরা অফিসের ভিতরে ঢোকেন।
হঠাৎ করে তৃণমূল সাংসদের দফতরে পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও ঠিক কী কারণে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকেরা সেখানে গিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। পুরসভার নোটিসে কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই পুলিশ গিয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে যখন পুলিশ পৌঁছয়, তখন সেখানে অভিষেক নিজেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশকর্মীদের উপস্থিতি নজরে আসতেই অফিসের সামনে কর্মী ও পুলিশের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনাও তৈরি হয়।
এরপর অফিসের কর্মীদের বাইরে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে। একটি পুরসভা সংক্রান্ত নোটিস দেখিয়ে পুলিশ অফিসে ঢোকে বলে জানা গিয়েছে। তবে ভিতরে গিয়ে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে বা কী কী নথি খতিয়ে দেখা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূলের অন্দরে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দলের শীর্ষ নেতার অফিসে পুলিশি উপস্থিতি রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এই মুহূর্তে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।
ক্যামাক স্ট্রিটের এই দফতর তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। সেখানে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়মিত রাজনৈতিক বৈঠক ও দলীয় কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা হয়ে থাকে। সেই অফিসেই পুলিশের প্রবেশ ঘিরে তাই প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভার নোটিসের সঙ্গে এর যোগ কোথায় এবং কেন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পুর আধিকারিকেরা সেখানে গেলেন।
ঘটনার সময় অফিসের সামনে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কির পর পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য কর্মীদের বাইরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকেরা ভিতরে গিয়ে তাঁদের কাজ করেন। তবে পুলিশি অভিযানের প্রকৃতি—তল্লাশি, নথি যাচাই নাকি অন্য কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ—তা এখনও নিশ্চিত নয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় অফিসে থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় আধিকারিকেরা ভিতরে প্রবেশ করলেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার নোটিসটির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে এলে গোটা ঘটনার কারণ আরও পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ দিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ ও পুরসভার তরফে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত অভিযানের উদ্দেশ্য বা এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments