Homeকলকাতা১ সেপ্টেম্বর থেকে শহর কলকাতায় ডিজিটাল পার্কিং ধামাকা! অ্যাপ খুললেই মিলবে খালি জায়গা, দিতে হবে নাইট পার্কিং চার্জও

১ সেপ্টেম্বর থেকে শহর কলকাতায় ডিজিটাল পার্কিং ধামাকা! অ্যাপ খুললেই মিলবে খালি জায়গা, দিতে হবে নাইট পার্কিং চার্জও

নিউজ ডেস্ক; কলকাতার যানজট কমানো এবং শহরের পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও নিয়মের মধ্যে আনতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে পুরসভা। আগামী মঙ্গলবার,
resizeplus_Screenshot 2026-08-30 160720_edited

নিউজ ডেস্ক; কলকাতার যানজট কমানো এবং শহরের পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও নিয়মের মধ্যে আনতে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে পুরসভা। আগামী মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কলকাতায় চালু হচ্ছে নতুন পার্কিং ব্যবস্থা। শুধু কলকাতা নয়, প্রাথমিক ভাবে হাওড়া এবং বিধাননগর পুর এলাকাতেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তায় যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার প্রবণতা বন্ধ করা, নির্দিষ্ট পার্কিং স্পেসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের আগে থেকেই পার্কিংয়ের জায়গা সম্পর্কে তথ্য দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আগেই কলকাতার পার্কিং ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনা এ বার বাস্তবায়নের পথে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট জায়গায় সরকারি ভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। কোন এলাকায় কতগুলি পার্কিং স্পেস থাকবে, কোথায় গাড়ির চাপ বেশি, ব্যস্ত সময়ে কতটা জায়গা প্রয়োজন—এই সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করে প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল একটি বিশেষ অ্যাপ। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাপটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হবে। অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা রাস্তায় বেরোনোর আগেই জানতে পারবেন, তাঁদের গন্তব্যের কাছাকাছি নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় কতগুলি জায়গা খালি রয়েছে। ফলে পার্কিংয়ের জায়গা খুঁজতে গিয়ে রাস্তায় অযথা ঘোরাঘুরি এবং তার জেরে যানজট তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমবে বলে প্রশাসনের আশা।

ধরা যাক, কেউ পার্ক স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড বা শহরের অন্য কোনও ব্যস্ত এলাকায় যাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থায় তিনি আগে থেকেই অ্যাপে দেখে নিতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় পার্কিং স্পেস পাওয়া যাচ্ছে কি না। সেই অনুযায়ী নিজের যাতায়াতের পরিকল্পনা করতে পারবেন। প্রশাসনের ধারণা, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু হলে পার্কিং নিয়ে নাগরিকদের অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে।

শনিবার নবান্নে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগর পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনারদের পাশাপাশি তিন পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মূলত পার্কিং ব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। কোন পুর এলাকার কোন কোন জায়গায় সরকারি ভাবে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে, ব্যস্ত সময়ে সেখানে কতগুলি যানবাহন রাখা সম্ভব এবং কোন এলাকাগুলিতে পার্কিংয়ের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে বেশি—এই বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি বা মোটরবাইক দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। রাস্তার যে অংশে পার্কিংয়ের অনুমতি নেই, সেখানে যানবাহন রাখলে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কড়া পদক্ষেপও করা হতে পারে। তবে জরিমানার পরিমাণ কত হবে এবং প্রতিটি পার্কিং এলাকায় সর্বোচ্চ কতগুলি গাড়ি রাখা যাবে, সেই বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই ব্যবস্থার আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল রাতের পার্কিং। কলকাতায় আগে থেকেই চালু থাকা নাইট পার্কিংয়ের ধাঁচে এ বার হাওড়া এবং বিধাননগর পুর এলাকাতেও রাতের বেলায় রাস্তায় গাড়ি রাখলে নির্দিষ্ট চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ রাতের সময়ে রাস্তার উপর গাড়ি রেখে দেওয়াও আর সম্পূর্ণ বিনামূল্যের বিষয় থাকবে না।

বিশেষ করে বিধাননগরের ক্ষেত্রে এই নিয়মকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, সল্টলেকের অনেক বাড়ি বা আবাসনে নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কিছু মানুষ রাস্তার উপর গাড়ি রেখে দেন। এর ফলে রাস্তার জায়গা দখল হয়ে যায় এবং অন্য যানবাহনের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই নাইট পার্কিং চার্জের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, রাস্তায় গাড়ি রেখে চলাচলের জায়গা আটকে দেওয়া কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁদের নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, তাঁদের সেই জায়গা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় রাস

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved