Homeদার্জিলিংটানা বৃষ্টিতে দার্জিলিঙে ভেঙে পড়ল টয় ট্রেনের শেড, আহত ৬ রেলকর্মী! বন্ধ ‘জয় রাইড’

টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিঙে ভেঙে পড়ল টয় ট্রেনের শেড, আহত ৬ রেলকর্মী! বন্ধ ‘জয় রাইড’

নিউজ ডেস্ক; টানা বৃষ্টির জেরে বুধবার বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। প্রবল বর্ষণের কারণে ঐতিহাসিক টয় ট্রেনের একটি
resizeplus_eisamay_2026-09-02_9izrev2o_Joy-Ride-Darjeeling

নিউজ ডেস্ক; টানা বৃষ্টির জেরে বুধবার বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। প্রবল বর্ষণের কারণে ঐতিহাসিক টয় ট্রেনের একটি শেডের কাঠামো ধসে পড়ে। সেই সময় সেখানে থাকা ছয় জন রেলকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। রেল সূত্রে খবর, তাঁদের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তবে পাহাড়ে একটানা বৃষ্টির মধ্যে ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনের শেড ধসে পড়ার ঘটনায় রেলকর্মী এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের জনপ্রিয় ‘জয় রাইড’ পরিষেবা সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পরিষেবায় দার্জিলিং থেকে ঘুম এবং আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় টয় ট্রেনে যাতায়াত করা হয়। বর্ষার সময় পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ভূমিধস, ধসপ্রবণ রাস্তা এবং দুর্বল নির্মাণ কাঠামোর কারণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। তার মধ্যেই বুধবার শেড ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে।

রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার জেরে টয় ট্রেনের ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভগুলির কোনও ক্ষতি হয়নি। শেডের কাঠামো ধসে পড়লেও রেলের গুরুত্বপূর্ণ লোকোমোটিভগুলি নিরাপদ রয়েছে। ফলে দীর্ঘপথের টয় ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়নি। রেলকর্তাদের দাবি, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই পরিষেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় আহত ছয় রেলকর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং শেডের কাঠামোগত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, দুর্ঘটনার পরেও এনজেপি-দার্জিলিং-এনজেপি রুটের দূরপাল্লার টয় ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে। অর্থাৎ পর্যটকদের জন্য ঐতিহাসিক এই রুটে নিয়মিত পরিষেবা আপাতত বন্ধ হয়নি। তবে ‘জয় রাইড’ পরিষেবা সাময়িক ভাবে স্থগিত থাকায় দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একাংশ সমস্যায় পড়েছেন। টয় ট্রেনের জয় রাইড দার্জিলিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ হওয়ায় বর্ষার মরসুমেও এই পরিষেবার চাহিদা থাকে যথেষ্ট।

বুধবারের ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটল, যখন টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিং পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় জনজীবন ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত। পাহাড়ি রাস্তায় জল জমা, কাদা এবং ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রেললাইনের আশপাশের কাঠামো এবং পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ছে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে শুধু একটি যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক ঐতিহ্যও। পাহাড়ি পথে সরু রেললাইনের উপর দিয়ে চলা এই টয় ট্রেন বহু দশক ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। দার্জিলিংয়ের পাহাড়, চা-বাগান, ঘন সবুজ বন এবং মেঘে ঢাকা উপত্যকার মধ্যে দিয়ে ট্রেনের যাত্রা পর্যটকদের কাছে আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে। ফলে এই রেল পরিষেবার কোনও অংশে দুর্ঘটনা ঘটলেই যাত্রী নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে চলে আসে।

বুধবারের দুর্ঘটনার পরে তাই রেলের পরিকাঠামো নিয়ে সতর্কতা আরও বাড়ানোর দাবি উঠতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার সময় পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যায়। কোথাও পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি সরে যায়, কোথাও জল ঢুকে পুরনো কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। পুরনো রেল স্থাপনা ও শেডগুলির ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

যদিও এই ঘটনায় লোকোমোটিভগুলির ক্ষতি না হওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্রুত আহত কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানো এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে যে কাঠামোটি ধসে পড়েছে, সেটি কেন এবং কীভাবে ভেঙে পড়ল, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রয়োজন।

রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, আহত কর্মীরা চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। দূরপাল্লার এনজেপি-দার্জিলিং-এনজেপি টয় ট্রেন পরিষেবাও চলছে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা পর্যালোচনার ভিত্তিতে পরিষেবায় পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, পর্যটন মরসুমে দার্জিলিংয়ে আসা পর্যটকদের জন্য ‘জয় রাইড’ পরিষেবা সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। কবে থেকে ফের এই পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে রেলের তরফে পরবর্তী ঘোষণা করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। শেডটি মেরামত বা পুনর্নির্মাণের আগে তার কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

একটানা বর্ষণে পাহাড়ের পরিস্থিতি যেহেতু এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, তাই রেললাইন, শেড, স্টেশন চত্বর এবং অন্যান্য পরিকাঠামো নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। বুধবারের ঘটনা সেই সতর্কবার্তাই আরও একবার সামনে এনে দিল। দুর্ঘটনায় ছয় কর্মী আহত হলেও বড় কোনও প্রাণহানি না হওয়ায় আপাতত স্বস্তি রয়েছে। এখন নজর দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি আগামী দিনে এমন ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই ব্যবস্থার দিকেই।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved