Homeকলকাতা১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন সিপিএম নেতা লাহেক আলির, মায়ের অসুস্থতায় আদালতের দ্বারস্থ

১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন সিপিএম নেতা লাহেক আলির, মায়ের অসুস্থতায় আদালতের দ্বারস্থ

নিউজ ডেস্ক; বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। গুরুতর অসুস্থ মাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো
resizeplus_Lahek-Ali-3

নিউজ ডেস্ক; বারুইপুরের সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। গুরুতর অসুস্থ মাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে—এই পরিস্থিতিতে তাঁর জামিনের আবেদন করেছিলেন আইনজীবী। সেই আবেদন মঞ্জুর করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিয়েছেন, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিনে থাকবেন লাহেক। তবে জামিন পেলেও তাঁর চলাফেরায় রয়েছে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তিনি নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। পাশাপাশি বারুইপুর থানার পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হতে হবে।

লাহেক আলি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের কমিটির সদস্য। সম্প্রতি বারুইপুর থানা এলাকায় এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, সেই ঘটনার পরবর্তী অশান্তিতে তাঁর নাম জড়ায়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন এই সিপিএম নেতা বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশকর্মীদের উপর আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। সেই মামলার সূত্রেই লাহেকের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাটির সূত্রপাত গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে। বারুইপুর থানা এলাকার একটি স্কুলের নাবালিকা পড়ুয়াকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ সামনে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামেন স্থানীয় মানুষ। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশ নেন লাহেক আলি।

অভিযোগ, নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতার একাংশ এক অটোচালককে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করে তাঁর উপর চড়াও হয়। গণপিটুনিতে ওই অটোচালকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা কমেনি।

এর পরেই স্থানীয় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশকর্মীদের উপরেও হামলা করা হয় এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসে। নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ধীরে ধীরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে পরিণত হয়।

এই অশান্তির ঘটনায় বেশ কয়েক জনের নাম তদন্তের আওতায় আসে। তাঁদের মধ্যে লাহেক আলির নামও রয়েছে। তিনি ওই সময় আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন বলে জানা যায়। পুলিশের তদন্তে অশান্তির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মামলার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন লাহেকের মা। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। মায়ের এই পরিস্থিতির কথা জানিয়ে হাই কোর্টে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেন লাহেকের আইনজীবী। আবেদনে মূলত মায়ের অসুস্থতা এবং পরিবারের এই জরুরি পরিস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন শুনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, জামিন মানে তদন্ত থেকে অব্যাহতি নয়। লাহেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারবে এবং সেই নির্দেশ অমান্য করা যাবে না।

আদালতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল, অন্তর্বর্তী জামিনের সময় লাহেক নিজের এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ মায়ের চিকিৎসা ও পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে স্থানীয় পরিসরের মধ্যেই থাকতে হবে। পাশাপাশি বারুইপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকেরা তাঁকে যখনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবেন, তখন তাঁকে থানায় হাজির হতে হবে।

আইনি মহলের মতে, অন্তর্বর্তী জামিন সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হয় এবং সেই সময়সীমা শেষ হলে মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লাহেকের ক্ষেত্রেও ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে। ওই সময়ের মধ্যে তাঁকে আদালতের সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হবে।

অন্য দিকে, বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অশান্তির তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার মূল অভিযোগের পাশাপাশি পরবর্তী গণপিটুনি, পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো অভিযোগগুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সেই তদন্তে লাহেকের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়েই পুলিশের নজর রয়েছে।

নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অভিযোগের পর স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সন্দেহের বশে এক অটোচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এবং তার পর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। প্রশাসনের সামনে তখন একদিকে ছিল মূল অপরাধের তদন্ত, অন্য দিকে জনতার হিংসা নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ।

লাহেক আলির আইনজীবীর বক্তব্য, মায়ের গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করেই আদালতে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে শর্তগুলি কঠোর ভাবেই মেনে চলতে হবে।

এখন নজর ১০ সেপ্টেম্বরের দিকে। তার আগে তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, পুলিশ লাহেককে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে কি না এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ কী হয়—সেদিকেই নজর রয়েছে। আপাতত আদালতের দেওয়া শর্ত মেনে স্থানীয় পরিসরে থাকার পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে বারুইপুরের এই সিপিএম নেতাকে।

ঘটনার শুরু হয়েছিল একটি নাবালিকার উপর ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ থেকে। তার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু সেই প্রতিবাদই পরবর্তী সময়ে গণপিটুনি, পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় রূপ নেয় বলে অভিযোগ। সেই অশান্তির মামলায় নাম জড়ানো লাহেক আলির অন্তর্বর্তী জামিন তাই আইনি দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও নজর কেড়েছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved