Homeদার্জিলিংশিলিগুড়িশিলিগুড়িতে টোটোচালকদের থেকে তোলাবাজির অভিযোগ, কোর্ট মোড়ে মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

শিলিগুড়িতে টোটোচালকদের থেকে তোলাবাজির অভিযোগ, কোর্ট মোড়ে মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক; টোটোচালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে বুধবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিলিগুড়ির কোর্ট মোড় এলাকা।
Screenshot 2026-08-27 114257

নিউজ ডেস্ক; টোটোচালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে বুধবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিলিগুড়ির কোর্ট মোড় এলাকা। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরাসরি অভিযুক্তদের সতর্ক করলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। সঙ্গে ছিল পুলিশ, হাতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে প্রকাশ্যেই তিনি জানিয়ে দিলেন—টোটোচালকদের কাছ থেকে কোনও ধরনের তোলাবাজি বা কাটমানি বরদাস্ত করা হবে না। ইউনিয়নের নাম করে টাকা তোলা বন্ধ করার পাশাপাশি এলাকায় কোনও সিন্ডিকেটও রাখা যাবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী।

কোর্ট মোড়ে দাঁড়িয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, টোটোচালকদের থেকে কোনও রকম কাটমানি নেওয়া যাবে না। তোলাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং কোনও সিন্ডিকেট চলবে না। কারা, কোথায় এবং কীভাবে টোটোচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা দফতরকেও নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশের উপস্থিতিতেই মন্ত্রীর এই বার্তাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

অভিযোগ, শিলিগুড়ি শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় টোটো স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই টাকা আদায়ের একটি ব্যবস্থা চলছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহর ও সংলগ্ন এলাকায় পঞ্চাশটিরও বেশি টোটো স্ট্যান্ড রয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু স্ট্যান্ডে ইউনিয়নের নাম করে প্রতিদিন টোটোচালকদের কাছ থেকে ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। স্ট্যান্ডে টোটো নিয়ে দাঁড়াতে গেলেই চালকদের টাকা দিতে হয় বলে দাবি।

চালকদের একাংশের অভিযোগ, এই টাকা না দিলে নির্দিষ্ট জায়গায় টোটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ফলে অনেক চালক টাকা বাঁচাতে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এড়িয়ে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় টোটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলেন। এতে একদিকে যেমন তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়, অন্যদিকে শহরের যান চলাচলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টোটোচালক অভিযোগ করেন, এনজেপি স্টেশন এলাকায় একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট রয়েছে। বাইরের টোটোচালকদের সেখান থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না বলেও তাঁর দাবি। একই ভাবে রেল হাসপাতাল মোড়ে টোটো দাঁড় করাতে গেলে ২০ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। টাকা না দিলে সেখানে দাঁড়ানোর অনুমতি মেলে না বলেই দাবি ওই চালকের।

শুধু এনজেপি বা রেল হাসপাতাল মোড় নয়, মহাবীরস্থান, বিধান রোড এবং রাজা রামমোহন রায় রোডের সংযোগস্থলেও সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই টোটোচালক। ফলে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টোটো পরিষেবাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের টাকা আদায়ের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।

এই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে কড়া অবস্থান নেন পর্যটনমন্ত্রী। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এডিসিপি পূর্ণিমা শেরপা এবং ট্র্যাফিক বিভাগের এসিপি সুবীর দত্তকে তিনি বিশেষ ভাবে নজর রাখতে বলেন। ইউনিয়নের নাম করে যাতে কোনও টোটোচালকের কাছ থেকে টাকা তোলা না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে শঙ্কর ঘোষের বার্তা ছিল, কোনও টোটোচালকের কাছ থেকে যেন কেউ সামান্য টাকাও আদায় করতে না পারে। অভিযোগ পাওয়ার পরও যদি এই ধরনের তোলাবাজি বন্ধ না হয়, তাহলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তোলাবাজি চলতে থাকলে প্রয়োজন হলে সমস্ত জায়গা থেকে টোটো স্ট্যান্ড তুলে দেওয়া হবে। শুধু স্ট্যান্ড তুলে দেওয়াই নয়, অভিযোগে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানোর কথাও বলেছেন তিনি। ফলে টোটো স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে বেআইনি টাকা আদায়ের অভিযোগে প্রশাসন যে কঠোর অবস্থান নিতে চাইছে, মন্ত্রীর বক্তব্যে তা স্পষ্ট।

কেন হঠাৎ বুধবার দুপুরে কোর্ট মোড়ে হাজির হলেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর দাবি, কোর্ট মোড় এলাকায় সিন্ডিকেটের নামে টোটোচালকদের কাছ থেকে কেউ বা কারা টাকা আদায় করছে—এমন অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তিনি ঘটনাস্থলে এসেছিলেন।

এদিকে মন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি (ঋতব্রত শিবির) নির্জল দে। তাঁর দাবি, কোর্ট মোড় এলাকায় তাঁদের ইউনিয়নের কোনও দিনই সংগঠন ছিল না। তবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা কয়েক জন ব্যক্তি আগে তাঁদের ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে তাঁরা বিজেপিতে চলে গিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তোলাবাজির অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পক্ষে সওয়াল করেছেন নির্জল দে।

তবে সরকার পরিবর্তনের পরেও যদি সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজির অভিযোগ একই ভাবে থেকে থাকে, তাহলে তা প্রশাসনের জন্যও বড় প্রশ্ন। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় টোটো স্ট্যান্ডকে ঘিরে টাকা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। প্রতিদিনের সামান্য অঙ্ক হলেও বহু চালকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হলে তার মোট পরিমাণ যথেষ্ট বড় হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডে জায়গা পাওয়া বা যাত্রী তোলার অধিকারকে কেন্দ্র করে একটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা তৈরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

টোটোচালকদের একাংশের বক্তব্য, তাঁরা দিনভর রাস্তায় পরিশ্রম করে যে আয় করেন, তার মধ্যে থেকে স্ট্যান্ডে দাঁড়ানোর জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হলে তাঁদের উপার্জনে সরাসরি প্রভাব পড়ে। এই কারণে অনেকেই নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এড়িয়ে চলেন। প্রশাসনের তরফে যদি সত্যিই সব ধরনের বেআইনি টাকা আদায় বন্ধ করা যায়, তাহলে চালকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও সুবিধা হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।

এখন দেখার, মন্ত্রীর কড়া বার্তার পর শিলিগুড়ির টোটো স্ট্যান্ডগুলিতে আদৌ তোলাবাজি বন্ধ হয় কি না। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এবং গোয়েন্দা দফতর কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেও নজর থাকবে। কারণ মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন—অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে শুধু সতর্কবার্তায় থেমে থাকবে না প্রশাসন; প্রয়োজনে টোটো স্ট্যান্ড তুলে দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved