Homeদার্জিলিংশিলিগুড়িচিকেনস নেকের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় জোর, শিলিগুড়িতে শাহের মেগা বৈঠক, পেশ ১০০ দিনের সাফল্যের রিপোর্ট

চিকেনস নেকের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় জোর, শিলিগুড়িতে শাহের মেগা বৈঠক, পেশ ১০০ দিনের সাফল্যের রিপোর্ট

নিউজ ডেস্ক: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'চিকেনস নেক' বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা
images (2)

নিউজ ডেস্ক: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গ সফরে একগুচ্ছ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়িতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সম্পর্কিত একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে মূলত সীমান্ত সুরক্ষা, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), নবগঠিত অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) এবং অ্যান্টি নার্কোটিকস টাস্ক ফোর্সের (এএনটিএফ) কার্যকারিতা ও সমন্বয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।

এই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশের অধীনে থেকে এটিএস এবং এএনটিএফ কীভাবে কেন্দ্রীয় ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথ সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করবে, তার ব্লু-প্রিন্ট নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, গত ১০০ দিনে বিভিন্ন জঙ্গি দমন ও অপরাধ বিরোধী অভিযানে এসটিএফ যে সমস্ত উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং আগামী দিনে তাদের কী কী রণকৌশল রয়েছে, তা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে সবিস্তারে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তথা বিএসএফের পরিকাঠামো উন্নয়ন। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরির জন্য বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গত ১০০ দিনের উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ:

  • বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর: আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া ও প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে ইতিমধ্যে ৭৬৭.১০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য পরিকাঠামোর প্রয়োজনে আরও ৩৬১.৯৩ একর জমি ব্যবহারের অনুমোদন মিলেছে।
  • সীমান্ত সমীক্ষা: উত্তর ২৪ পরগনার ইছামতী নদী সংলগ্ন স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় দ্রুত বেড়া দিতে প্রায় ৯১৫ একর জমির সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
  • সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন: রাজ্যের ১২টি সীমান্তবর্তী জেলার সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়ে মোট ১৮২.৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১,৩৮৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে।
  • বিশেষ আদালত গঠন: সন্ত্রাসবাদ ও নাশকতামূলক মামলার দ্রুত শুনানির স্বার্থে ৩টি বিশেষ এনআইএ (NIA) আদালত স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২টি কার্যকর হয়েছে।
  • পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ: নজরদারি জোরদার করতে গত তিন মাসে রাজ্যের ২৫টি থানায় সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া টহলদারির জন্য ১২টি রেডিও মোবাইল ভ্যান ও ৯টি বিশেষ মহিলা টহলদারি গাড়ি প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি যোগাযোগ উন্নত করতে ১,৫০০টি উন্নত রেডিও হ্যান্ডসেট ট্রান্সমিটার সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved