HomeজেলাECL-এর কয়লাখনিতে ঢুকল জল, মাটি ফুঁড়ে বেরোল গ্যাসও, ভয়ে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় স্থানীয়রা

ECL-এর কয়লাখনিতে ঢুকল জল, মাটি ফুঁড়ে বেরোল গ্যাসও, ভয়ে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় স্থানীয়রা

resizeplus_eisamay_2026-10-05_wfdf0ntp_2es22

নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের সিদুলি কোলিয়ারিতে আচমকা খনির ভিতরে জল ঢুকে পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়াল। খনির ভিতরে জল ঢোকার পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকায় মৃদু কম্পনের মতো পরিস্থিতি এবং কয়েকটি জায়গায় মাটি ফুঁড়ে গ্যাস বেরোনোর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনায় খনির ভিতরে থাকা দুই শ্রমিক আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিদুলি কোলিয়ারিটি ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)-এর আওতাধীন। এ দিন আচমকাই ভূগর্ভস্থ কোনও একটি অজ্ঞাত জায়গা থেকে খনির ভিতরে জল ঢুকতে শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় কোলিয়ারি কর্তৃপক্ষ। খনির ভিতরে থাকা শ্রমিকদের একে একে বাইরে বের করে আনা হয়। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, সেই সময় তুলনামূলক কম সংখ্যক শ্রমিক খনির ভিতরে ছিলেন। ফলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়।

তবে খনির বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক তৈরি হয় সংলগ্ন বসতিগুলিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেছেন, আচমকা মৃদু ভূমিকম্পের মতো কম্পন অনুভূত হয়েছে। কোথাও কোথাও জোরালো শব্দও শোনা যায় বলে অভিযোগ। এর পর কয়েকটি জায়গায় মাটি ফুঁড়ে গ্যাস বেরোতে দেখা যায় বলেও স্থানীয়দের দাবি। ঘটনাটি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কায় বেশ কিছু পরিবার বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে অনেকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় সরে যান বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। বিশেষ করে মাটির নীচে গ্যাস বেরোনোর খবর ছড়িয়ে পড়ায় আগুন বা অন্য কোনও বিপদের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তবে গ্যাসের প্রকৃতি এবং তার উৎস সম্পর্কে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

অন্য একটি প্রতিবেদনে সিদুলি কোলিয়ারি সংলগ্ন এলাকায় মিথেন গ্যাসের আতঙ্কের কথাও উঠে এসেছে। তবে গ্যাস নির্গমনের সঠিক কারণ কী এবং খনির ভিতরে জল ঢোকার সঙ্গে তার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ দিকে আহত দুই শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। খনির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খনি এলাকার আশপাশে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এ দিনের ঘটনায় সেই আশঙ্কাই নতুন করে সামনে এসেছে। জল ঢোকার কারণ, কম্পনের উৎস, মাটি ফুঁড়ে গ্যাস বেরোনোর প্রকৃতি এবং বসতিগুলির উপর তার কোনও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে কি না—সবই এখন তদন্তের বিষয়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ দিনের ঘটনায় কোনও বড় বিপর্যয় ঘটেনি ঠিকই, কিন্তু খনি সংলগ্ন জনবসতিতে আতঙ্ক যে যথেষ্ট, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved