
নিউজ ডেস্ক; রাতের অন্ধকারে বাজারের একের পর এক দোকানের তালা ভেঙে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার শান্তিপুরে। শান্তিপুর-ফুলিয়া কো-অপারেটিভ বাজারে শনিবার গভীর রাতে পাঁচটি দোকানে চুরির অভিযোগ উঠেছে। ডিমের দোকান, মুদিখানা, চিড়ে-মুড়ির দোকান-সহ একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় দুষ্কৃতীরা। দোকানগুলির ভিতর থেকে নগদ টাকা এবং বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে। সকালে দোকান খুলতে এসে ব্যবসায়ীরা বিষয়টি জানতে পারেন।
ঘটনার পর থেকেই বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। রাতের নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারিও যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তার উপর বর্তমানে বাজার পরিচালনার জন্য কোনও কার্যকর কমিটি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
শনিবার রাতে অন্যান্য দিনের মতোই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরেছিলেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় দোকানদার দীপঙ্কর পাল জানিয়েছেন, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। তখন বাজারে কোনও অস্বাভাবিকতা তাঁর নজরে পড়েনি। কিন্তু রবিবার সকালে দোকানে ফিরে এসে তিনি দেখেন, দোকানের তালা ভাঙা। দোকানের ভিতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি।
দীপঙ্করের অভিযোগ, দোকান থেকে বেশ কিছু নগদ টাকা চুরি হয়েছে। পাশাপাশি বিড়ি, সিগারেট এবং ডিমভর্তি একাধিক ট্রে-ও উধাও। শুধু তা-ই নয়, দোকানের মধ্যে রাখা পেঁয়াজ ও আলুভর্তি গামলাও উল্টে পড়ে ছিল। অর্থাৎ, চোরেরা দোকানের ভিতরে ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করে খোঁজাখুঁজি করেছে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ী।
প্রথমে নিজের দোকানে চুরির ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে যান দীপঙ্কর। পরে আশপাশের দোকানগুলিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর দোকানই একমাত্র নয়। বাজারের আরও কয়েকটি দোকানের তালা ভাঙা হয়েছে। মুদিখানা এবং চিড়ে-মুড়ির দোকানেও চুরির অভিযোগ ওঠে। একই রাতে বাজারের অন্তত পাঁচটি দোকান দুষ্কৃতীদের নিশানায় ছিল বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাজারে ভিড় জমে যায়। ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুরু করেন। চুরির খবর দেওয়া হয় শান্তিপুর থানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বাজারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারীরা। কী ভাবে দুষ্কৃতীরা বাজারে ঢুকল, কোন পথে পালাল এবং চুরির সঙ্গে কারা জড়িত—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে বেশ কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তার অধিকাংশই বর্তমানে কাজ করে না। ফলে রাতে কোনও অপরাধ ঘটলে তা ক্যামেরায় ধরা পড়ার সম্ভাবনাও কম। নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও তাঁদের নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।
বাজার পরিচালনা নিয়েও তৈরি হয়েছে সমস্যা। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে কোনও নির্বাচিত কমিটি নেই। নির্বাচন না হওয়ায় আগের কমিটি ভেঙে গিয়েছে। ফলে বাজারের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা থেকে নিরাপত্তা—একাধিক বিষয়েই সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাতের নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বাজারে প্রতিদিন বহু মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানে ব্যবসা চলে। ফলে এত বড় একটি বাজারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাতের সময়ে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাজারের ভিতরে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে সেই ব্যবস্থার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, নগদ টাকা বা সামগ্রী হারানোর আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কিত করে তুলেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় কোনও ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাই অবিলম্বে বাজারে কার্যকর সিসিটিভি ব্যবস্থা চালু, পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন এবং রাতে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের আরও দাবি, বাজার পরিচালনার জন্য দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা হোক। বাজারের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে একটি সক্রিয় পরিচালন ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তাঁরা। পাশাপাশি অকেজো সিসিটিভিগুলি দ্রুত মেরামত করে এমন জায়গায় ক্যামেরা বসানোর দাবি উঠেছে, যাতে বাজারের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ-সহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলিতে নজর রাখা যায়।
এ দিকে পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। বাজারের আশপাশের এলাকা, সম্ভাব্য প্রবেশপথ এবং চুরির ধরন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে আগে কোনও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
শনিবার রাতের এই চুরির ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শান্তিপুর-ফুলিয়া কো-অপারেটিভ বাজারের ব্যবসায়ী মহলে। একসঙ্গে পাঁচটি দোকানে চুরির অভিযোগে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে দুষ্কৃতীদের হদিশ মেলে কি না, সেটাই দেখার। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ কতটা জোরদার করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments