
নিউজ ডেস্ক : ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা, জ়িম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় হতে চলা সেই বিশ্বকাপের আগে মিডল অর্ডারে পর্যাপ্ত বিকল্প তৈরি করাই অন্যতম লক্ষ্য। সেই পরিকল্পনাতেই ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বাঁহাতি ব্যাটার তিলক বর্মার নাম। শ্রেয়স আইয়ারের বিকল্প হিসেবে তাঁকে তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজনে কয়েক ওভার অফ-ব্রেক বল করার মতো ক্রিকেটার হিসাবেও দেখতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা আগামী বছরের ৪ অক্টোবর। ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর। অর্থাৎ হাতে এখনও সময় থাকলেও ভারতীয় শিবিরের পরিকল্পনা যে অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে, তিলককে ঘিরে নতুন ভাবনাই তার ইঙ্গিত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক কমিটি এবং টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় তরুণ এই ব্যাটারকে ফের ওয়ান ডে সেট-আপে নিয়ে আসার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে খবর।
তিলক ভারতের হয়ে শেষ ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর। বিশাখাপত্তনমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচের পর থেকে এক দিনের দলে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায়নি। তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। বাঁহাতি ব্যাটার হিসেবে তিলকের উপস্থিতি ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে বৈচিত্র্য আনতে পারে বলেই মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
বর্তমান ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপে ডানহাতি ব্যাটারের আধিক্য রয়েছে। ফলে মিডল অর্ডারে একজন বাঁহাতি ক্রিকেটার থাকলে বোলারদের পরিকল্পনা বদলাতে হয়। তিলকের ব্যাটিং দক্ষতার পাশাপাশি এই কারণেও তাঁকে ভবিষ্যতের ওয়ান ডে পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শুধু ব্যাটিং নয়, তিলকের বোলিং নিয়েও কাজ করতে চাইছে ভারতীয় দল। তাঁর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন দলের দায়িত্বশীলরা। পরিকল্পনাটি সফল হলে একজন অতিরিক্ত ব্যাটারকে খেলিয়েও কয়েক ওভার বোলিংয়ের বিকল্প পাওয়া যেতে পারে। আধুনিক এক দিনের ক্রিকেটে এই ধরনের অলরাউন্ড ক্ষমতা দলের ভারসাম্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে হার্দিক পাণ্ড্য বা নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো ক্রিকেটার চোটের কারণে বাইরে চলে গেলে ভারতীয় একাদশের ভারসাম্য নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারে এমন ক্রিকেটার তৈরি রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক শুভমন গিলও এই বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গত এক বছরে ভারতকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ বা ছয় নম্বরে ওয়াশিংটন সুন্দর কিংবা অক্ষর পটেলকে খেলাতে হয়েছে। তাঁদের অলরাউন্ড দক্ষতা দলকে ভারসাম্য দিলেও, বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার জন্য প্রতিটি জায়গায় একাধিক বিকল্প তৈরি রাখাই নির্বাচকদের লক্ষ্য। সেই জায়গা থেকেই তিলকের নাম আরও জোরালো হচ্ছে।
তবে ভারতীয় ক্রিকেটে আগামী বিশ্বকাপের আগে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা দলে থাকলেও ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় তাঁদের বয়স ও ফিটনেস নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন থাকবে। কেএল রাহুলও তখন ৩৫ বছরের গণ্ডি পেরিয়ে যাবেন। রবীন্দ্র জাডেজার ক্ষেত্রেও সেই সময় তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকবেন কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফিটনেস এবং ফিল্ডিংয়ের বিষয়টি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার সক্ষমতা এবং ফিল্ডিংয়ের তীব্রতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে এখন থেকেই তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ভারতীয় শিবির।
তিলকের ক্ষেত্রে তাই শুধু একজন শ্রেয়স আইয়ারের ব্যাকআপ তৈরি করার ভাবনা নয়, আরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতের ওয়ান ডে দলে এমন ক্রিকেটার প্রয়োজন, যিনি ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে বল হাতেও দায়িত্ব নিতে পারবেন। তিলক সেই প্রোফাইলের সঙ্গে কতটা মানানসই হয়ে উঠতে পারেন, আগামী কয়েকটি সিরিজেই তার পরীক্ষা হতে পারে।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ বিশ্বকাপের মূল পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট ভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সময় ভারতীয় দলের নিউজ়িল্যান্ড সফরের সূচি রয়েছে। তার আগে বিভিন্ন সিরিজে তরুণ ক্রিকেটারদের পরীক্ষা করে দেখে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে নির্বাচকদের হাতে।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা ঘরোয়া ওয়ান ডে সিরিজে তিলক, শ্রেয়স আইয়ার, ঈশান কিষাণ এবং অক্ষর পটেলকে পাওয়া যাবে না বলে সূত্রের খবর। একই সময়ে এশিয়ান গেমসকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি দলের একটি সফর জাপানে যাওয়ার কথা। ফলে সেই সিরিজে ভারতীয় দলকে কিছুটা নতুন চেহারায় দেখা যেতে পারে।
এদিকে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে নয়াদিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার কথা। এই সিরিজের জন্য দল নির্বাচনের বৈঠক ৩ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচকেরা এশিয়ান গেমসের জন্য যে দল বেছে নিয়েছেন, সেটি আপাতত অপরিবর্তিত রাখার পথে হাঁটতে পারেন বলেও খবর।
হার্দিক পাণ্ড্য, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং জসপ্রীত বুমরাহের ফিটনেস রিপোর্টের দিকেও নজর রয়েছে নির্বাচকদের। একই সঙ্গে বরুণ চক্রবর্তী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলেও জানা গিয়েছে। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি দল নির্বাচনকে ঘিরে যেমন একাধিক বিষয় বিবেচনায় রয়েছে, তেমনই দূরের লক্ষ্য হিসেবে ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনাও চলছে পাশাপাশি।
সব মিলিয়ে শ্রেয়স আইয়ারের জায়গায় একজন নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরির পাশাপাশি ভারতীয় দল যে ভবিষ্যতের জন্য একাধিক ‘ব্যাকআপ’ তৈরি করতে চাইছে, তিলক বর্মাকে ঘিরে নতুন ভাবনা তারই ইঙ্গিত। ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনের সময়ে অফ-ব্রেক বোলিং এবং ফিল্ডিং—এই তিন জায়গাতেই নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তিলকের জায়গা আরও শক্ত হতে পারে। এখন দেখার, আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলিতে তাঁকে কী ভাবে ব্যবহার করে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিলক নিজেকে ২০২৭-এর সম্ভাব্য বিশ্বকাপ দলে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
contact@ngtvnews.com
+৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯
আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
কলকাতা - ৭০০০৯১
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments