Last updated: September 30th, 2026 at 07:16 pm

নিউজ ডেস্ক: শ্বশুরবাড়ি থেকে দুই নাবালিকাকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদে। সোমবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁদের উদ্ধার করে রানিনগর থানার পুলিশ। এরপর মঙ্গলবার দুই নাবালিকাকে বহরমপুরের সরকারি হোম ‘শিলায়ন’-এ পাঠানো হয়েছে। নাবালিকাদের উদ্ধার ঘিরে বাল্যবিবাহ ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে ফের সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই নাবালিকাই শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন। তাঁদের বয়স ১৮ বছরের কম বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরই নাবালিকাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁদের উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোমবার রাতে রানিনগর থানার পুলিশ শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দু’জনকেই উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর রাতেই তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর মঙ্গলবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে দুই নাবালিকাকে বহরমপুরের সরকারি হোম ‘শিলায়ন’-এ পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁদের থাকা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
নাবালিকাদের কীভাবে বিয়ে হয়েছিল, তাঁদের বিয়ের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন এবং এতদিন তাঁরা কী পরিস্থিতিতে শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের বয়স সংক্রান্ত নথিপত্রও পরীক্ষা করা হতে পারে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
১৮ বছরের কম বয়সি কোনও মেয়ের বিয়ে আইনত বৈধ নয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে বা এমন কোনও প্রস্তুতি চলছে বলে জানতে পারলে দ্রুত প্রশাসন বা পুলিশের কাছে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের নিরাপদ পরিবেশে রাখা এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সেই কারণেই তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আপাতত সরকারি হোমে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিস্থিতি এবং পরিবারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হতে পারে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। নাবালিকাদের বয়স জানা সত্ত্বেও তাঁদের কীভাবে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে থাকতে দেওয়া হল, পরিবারের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না—তা তদন্তে স্পষ্ট হবে।
এদিকে, দুই নাবালিকাকে উদ্ধারের পর তাঁদের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রানিনগর থানার পুলিশের এই পদক্ষেপের পর এখন তদন্তের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রয়েছে। বাল্যবিবাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ঘটনাটি ফের সামনে আনল নাবালিকাদের সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা। প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষও সচেতন হলে এই ধরনের ঘটনা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments