Homeনদিয়ারানাঘাটরানাঘাটে মহানায়কের বন্দনা, শারদোৎসবে রূপোলি পর্দার নস্টালজিয়ায় ভাসবে পান্থাপাড়া

রানাঘাটে মহানায়কের বন্দনা, শারদোৎসবে রূপোলি পর্দার নস্টালজিয়ায় ভাসবে পান্থাপাড়া

WhatsApp Image 2026-10-01 at 6.29.55 PM (1)

বিশ্ব ব্যানার্জী, রানাঘাট: শারদোৎসবের আর বেশি দেরি নেই। পুজোমণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত উদ্যোক্তা থেকে শিল্পী—সকলেই। কোথাও থিমের চমক, কোথাও সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। তারই মধ্যে নদিয়ার রানাঘাটের পান্থাপাড়ায় এ বার দুর্গাপুজোয় দেখা যাবে অন্য রকম ভাবনা। পুজোমণ্ডপে উঠে আসছে বাঙালির চিরকালীন আবেগের এক নাম—বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমার।

এবার পান্থাপাড়ার পুজোর মূল ভাবনা ‘মহাপুজোয় আমাদের মহানায়ক’। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীদের সামনে খুলে যাবে বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের এক টুকরো স্মৃতি। রূপোলি পর্দার সেই নস্টালজিয়াকে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন শিল্পীরা।

মণ্ডপ তৈরিতে বাঁশের সূক্ষ্ম কারুকাজের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উপকরণ। সাজসজ্জার প্রতিটি অংশে থাকবে মহানায়কের চলচ্চিত্রজীবনের নানা স্মৃতি। উত্তম কুমারের স্মরণীয় অভিনয়ের মুহূর্ত, তাঁর জনপ্রিয় সিনেমার দৃশ্য, পুরনো দিনের চলচ্চিত্রের পোস্টার এবং বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি উত্তম-সুচিত্রার কালজয়ী স্মৃতিও মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে ফুটিয়ে তোলা হবে।

শুধু মণ্ডপসজ্জা নয়, গোটা আয়োজনের মধ্যেই পুরনো বাংলা সিনেমার আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। দর্শনার্থীরা যাতে শুধু প্রতিমা দর্শন না করে, একই সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণযুগের স্মৃতির মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন, সেই ভাবনাতেই তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।

উদ্যোক্তাদের কথায়, উত্তম কুমার শুধুমাত্র একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং চলচ্চিত্রজীবন বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর সিনেমা ও অভিনয়ের প্রতি দর্শকদের ভালোবাসা আজও অটুট। তাই শারদোৎসবের মতো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ থিমের ভাবনা।

পান্থাপাড়ার পুজো ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। মণ্ডপ তৈরির কাজ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে কৌতূহল। উদ্যোক্তাদের আশা, পুজোর দিনগুলিতে দূরদূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা এই মণ্ডপে ভিড় করবেন।

থিমের অভিনবত্বের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহারও এ বারের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং বাংলা চলচ্চিত্রের নস্টালজিয়াকে একসঙ্গে মেলানোর এই প্রয়াস দর্শনার্থীদের মনে আলাদা জায়গা করে নেবে বলেই আশাবাদী পুজো উদ্যোক্তারা।

সব মিলিয়ে, রানাঘাটের পান্থাপাড়ায় এ বার দুর্গাপুজো শুধু দেবী আরাধনার উৎসব নয়, হয়ে উঠতে চলেছে বাঙালির চলচ্চিত্র-স্মৃতিকে ফিরে দেখারও এক বিশেষ আয়োজন। পুজোর আলোয় মহানায়কের সেই চিরচেনা হাসি আর উত্তম-সুচিত্রার রূপোলি পর্দার স্মৃতি যে দর্শনার্থীদের নস্টালজিয়ায় ভাসাবে, তা বলাই যায়।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved