Homeআলিপুরদুয়ারবক্সাবাহন ‘হারকিউলিস’! বক্সায় ঢুকল বাঘিনি, দেশে প্রথমবার বায়ুসেনার C-130J বিমানে বাঘ

বাহন ‘হারকিউলিস’! বক্সায় ঢুকল বাঘিনি, দেশে প্রথমবার বায়ুসেনার C-130J বিমানে বাঘ

eisamay_2026-10-01_25i0v5az_Buxa-Tiger-Reserve

নিউজ ডেস্ক: বক্সার জঙ্গলে ফের বাঘের গর্জন শোনানোর প্রস্তুতি শুরু। আর সেই লক্ষ্যেই এবার আকাশপথে বিশেষ অভিযানে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনিকে নিয়ে আসা হল উত্তরবঙ্গের বক্সায়। তবে এই যাত্রাপথের বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। দেশে প্রথম বার ভারতীয় বায়ুসেনার C-130J ‘সুপার হারকিউলিস’ সামরিক পরিবহণ বিমানে করে কোনও বাঘকে এক বনাঞ্চল থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হল বলে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

বুধবার ভোরে বাঘিনিকে নিয়ে হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পৌঁছয় বিশেষ সামরিক বিমান। প্রায় তিন বছরের এই বাঘিনিকে বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে ধরার পর বিশেষ খাঁচায় নিরাপদে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও বনকর্মীদের তৎপরতার পর শুরু হয় তার বক্সা যাত্রা। হাসিমারায় পৌঁছনোর পর বিমান থেকে নামিয়ে বন্যপ্রাণী পরিবহণের বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের নির্দিষ্ট এনক্লোজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসিমারা থেকে বক্সার নির্দিষ্ট এলাকায় প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় বাঘিনিটি। আকাশপথের দীর্ঘ যাত্রার পরে প্রথমে তাকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম দেওয়া হয়। এরপর পশু চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার পর বাঘিনিটিকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ২৫ মাইল এলাকার একটি প্রায় ২.৩ হেক্টরের সফট এনক্লোজারে রাখা হয়েছে। সেখানে তার মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এনক্লোজারের ভিতরে আগে থেকেই চিতল হরিণ রাখা হয়েছে, যাতে নতুন পরিবেশে বাঘিনিটির স্বাভাবিক শিকারি আচরণ বজায় থাকে। পাশাপাশি তার গতিবিধির উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাঘিনিটির গলায় রেডিয়ো কলার লাগানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার পরও তার অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন বনকর্মীরা।

বন দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ভাবে সফট এনক্লোজারে রাখার পর শুক্রবার বাঘিনিটিকে বক্সার মুক্ত জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার কথা। পুরো প্রক্রিয়াই নির্ধারিত বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ বিধি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় করা হচ্ছে।

বক্সায় দীর্ঘদিন ধরে বাঘের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই স্থানান্তর। বিহারের জঙ্গল থেকে বাঘিনিকে আনার ঘটনাকে বক্সার বাঘ পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর এই গোটা অভিযানে C-130J ‘সুপার হারকিউলিস’-এর ব্যবহারই তৈরি করেছে নতুন নজির। সাধারণত সেনাবাহিনীর এই ধরনের পরিবহণ বিমান মূলত বিশেষ সামরিক ও জরুরি পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়। এবার সেই অত্যাধুনিক বিমানেই বাঘিনির নিরাপদ স্থানান্তর হয়ে গেল—বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ইতিহাসে যা নিঃসন্দেহে অভিনব অধ্যায়।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved