Homeজেলাদোকান থেকে হোটেল, সটান ঢুকে কর আদায়ে হুঁশিয়ারি পুরপ্রধানের

দোকান থেকে হোটেল, সটান ঢুকে কর আদায়ে হুঁশিয়ারি পুরপ্রধানের

eisamay_2026-02-03_t90mam0y_Bardhaman-Municipality

নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে বকেয়া পুরকর আদায়ে এবার সরাসরি রাস্তায় নামল বর্ধমান পুরসভা। দোকান থেকে হোটেল, শপিং মল থেকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বকেয়া কর মেটানোর জন্য কড়া বার্তা দিলেন পুরপ্রধান পরেশচন্দ্র সরকার। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পুরকর এখনও বকেয়া রয়েছে। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেই বকেয়া টাকার অঙ্ক ২০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং প্রাথমিক হিসাবে তা ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।

বুধবার পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে বের হন পুরপ্রধান। একাধিক দোকান, হোটেল এবং বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বকেয়া কর দ্রুত পরিশোধের জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। পুরপ্রধানের বক্তব্য, নাগরিক পরিষেবা নিতে হলে পুরকরও নিয়মিত দিতে হবে।

কার্জন গেট এলাকার একটি লস্যির দোকানেও যান পুরপ্রধান। সেখানে বকেয়া কর নিয়ে দোকান মালিকের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। পুরসভার তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না মেটালে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হতে পারে। একটি হোটেলে গিয়েও বিপুল অঙ্কের বকেয়া করের প্রসঙ্গ তোলা হয়। ওই হোটেলের প্রায় ১২ লক্ষ টাকা কর বকেয়া রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুরপ্রধানের বক্তব্য, পুরসভার কর্মীরা শহরের আবর্জনা পরিষ্কার থেকে শুরু করে নিকাশি ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা দিয়ে থাকেন। কিন্তু কর আদায়ের সময় অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাত দেখাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাই এবার নোটিশের পাশাপাশি সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে গিয়ে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শহরের একাধিক বড় সংস্থা ও শপিং মলের কাছেও দীর্ঘদিনের কর বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া আদায় না হলে পুরসভার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরসভার আর্থিক সংকটের কারণে কর্মীদের পুজোর বোনাস এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পুরপ্রধান জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া কর না মেটালে পরবর্তী পদক্ষেপ আইন মেনেই করা হবে। ফলে পুজোর আগে বর্ধমান শহরে পুরকর আদায়ের এই অভিযান আরও জোরদার হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিন শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক এলাকায় পুরসভার অভিযান চলবে বলে জানা গিয়েছে।

No Comments

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved