Homeদক্ষিণ দিনাজপুরগঙ্গারামপুরবিল্লি পোলাও’ ১২০ টাকা প্লেট! গঙ্গারামপুরে মটন পোলাও ঘিরে হইচই

বিল্লি পোলাও’ ১২০ টাকা প্লেট! গঙ্গারামপুরে মটন পোলাও ঘিরে হইচই

eisamay_2026-10-01_6nkurdf7_polao

নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে মটন পোলাওয়ের প্লেটে বেড়ালের মাংস দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে। মাত্র ১২০ টাকার এক প্লেট মটন পোলাওকে ঘিরে মঙ্গলবার রাতে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে শুরু হয় বচসা। অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মাংসটি আসলে কোন প্রাণীর, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ঠেলা গাড়িতে পোলাওয়ের ব্যবসা করেন বাঞ্ছা কুণ্ডু। ডিটলহাটের বাসিন্দা অমিত সরকার ওই দোকান থেকে ১২০ টাকা দিয়ে এক প্লেট মটন পোলাও কিনেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, মাংস মুখে দেওয়ার পরই স্বাদ ও গন্ধে অস্বাভাবিকতা টের পান। এরপর মাংসের হাড়ের গঠন নিয়েও তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়।

অমিতের দাবি, সাধারণত খাসি বা পাঠার মাংসের হাড়ের গঠন এক ধরনের হয়। কিন্তু ওই পোলাওয়ের মাংসের টুকরোয় হাড়ের গঠন আলাদা বলে তাঁর মনে হয়। সেখান থেকেই মাংসটি আদৌ খাসির কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তিনি দোকানদারের কাছে মাংসের উৎস জানতে চান। অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়।

খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ব্যবসায়ীকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতর।

বুধবার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে পৌঁছন। পাশাপাশি যে দোকান থেকে মাংস কেনা হয়েছিল, সেখানেও অভিযান চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট দোকানগুলির প্রয়োজনীয় নথি ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। পোলাওয়ের দোকানে ফুড লাইসেন্স না থাকায় সেটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মাংস বিক্রির দোকানটিকেও প্রয়োজনীয় নথির অভাবে বন্ধ করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দোকানদার বাঞ্ছা কুণ্ডু। তাঁর বক্তব্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে মাংস কেনেন এবং এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ওই মাংস খেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এখন গোটা ঘটনার আসল সত্য নির্ভর করছে পরীক্ষার রিপোর্টের উপর। মাংসের নমুনা কলকাতার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত সেটি খাসির মাংস ছিল, নাকি অভিযোগে ওঠা অন্য কোনও প্রাণীর মাংস—তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।

তবে পুজোর ঠিক আগে গঙ্গারামপুরের মতো ব্যস্ত এলাকায় মটন পোলাওয়ের একটি প্লেটকে ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন পরীক্ষার রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে ক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসন।

No Comments

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved