Last updated: September 3rd, 2026 at 07:43 pm

নিউজ ডেস্ক; কলকাতা থেকে রাঁচির পথে যাত্রিবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ল ঝাড়গ্রামে। বুধবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রাম থানার গজাশিমুল এলাকায় খড়্গপুর-চিচিড়া ৪৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটনাটি ঘটে। রাস্তার উপর খারাপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিকে পাশ কাটানোর সময় সামনে থেকে অন্য একটি গাড়ি চলে আসায় বিপত্তি ঘটে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। সেই গাড়িতে ধাক্কা মেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ধানের জমিতে ঢুকে যায় বাসটি।
দুর্ঘটনায় বাসের চালক উদিত শর্মা এবং খালাসি প্রমথ এক্কা আহত হয়েছেন। চালকের বাঁ পা ভেঙে গিয়েছে। খালাসির মাথায় চোট লেগেছে। ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’জনেরই চিকিৎসা চলছে। তবে বাসে থাকা ২০ জন যাত্রীর কেউ আহত হননি। দুর্ঘটনার পর তাঁদের অন্য একটি গাড়িতে রাঁচির উদ্দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা-রাঁচি রুটে নিয়মিত চলাচল করে ওই বেসরকারি বাসটি। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে যাত্রী নিয়ে রাঁচির দিকে রওনা দিয়েছিল বাস। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার মধ্যে রাঁচিতে পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু রাত প্রায় ১টা নাগাদ গজাশিমুল এলাকায় পৌঁছতেই ঘটে দুর্ঘটনা।
বাসচালক উদিত শর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় সড়কের উপর একটি লরি খারাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। লরিটির কারণে রাস্তার একটি অংশ কার্যত আটকে যায়। সেই সময় সেটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বাসটি। ঠিক তখনই সামনে থেকে একটি অন্য গাড়ি চলে আসে। সরু জায়গায় দু’টি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি ওই গাড়িতে ধাক্কা মারে। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ধানের জমিতে ঢুকে পড়ে।
দুর্ঘটনার অভিঘাতে বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চালকের আসনের কাছে থাকা উদিত শর্মা গুরুতর ভাবে আহত হন। তাঁর বাঁ পায়ে চোট লাগে এবং পরে চিকিৎসকেরা হাড় ভাঙার কথা জানান। খালাসি প্রমথ এক্কার মাথাতেও আঘাত লাগে। তবে বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীরা কোনও ভাবে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পান। দুর্ঘটনার সময় বাসের গতি কত ছিল এবং চালক ঠিক কী ভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। রাস্তার পাশে ধানের জমিতে বাসটি পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা প্রথমে যাত্রীদের উদ্ধার করার কাজে হাত লাগান। পরে খবর দেওয়া হয় ঝাড়গ্রাম থানায়। পুলিশ এসে আহত চালক ও খালাসিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। যাত্রীদেরও বাস থেকে নামিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পরে জাতীয় সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। বাসটি রাস্তার পাশের জমিতে ঢুকে যাওয়ায় এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলি রাস্তার একাংশে থাকায় যানজট তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই রাতে দুর্ঘটনার পরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রীদের বক্তব্য, আচমকা ধাক্কার পর বাসটি রাস্তার বাইরে চলে যাওয়ায় তাঁরা ভয় পেয়ে যান। তবে চালক ও খালাসি আহত হলেও যাত্রীরা নিরাপদে থাকায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।
জাতীয় সড়কে খারাপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভারী গাড়ি ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় লরি বা ট্রাক খারাপ হয়ে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকলেও তার সামনে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক আলো, ব্যারিকেড বা সংকেত থাকে না। রাতের অন্ধকারে দূর থেকে এমন গাড়ি দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় রাস্তার বাঁক এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় ঝুঁকি আরও বেশি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা লরিটির অবস্থান, সামনে থেকে আসা গাড়িটির গতিবিধি এবং বাসের চালকের বক্তব্য—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে দুর্ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে বাসটির যান্ত্রিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হতে পারে।
এই ঘটনায় আপাতত সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, বাসে থাকা ২০ জন যাত্রীই নিরাপদে রয়েছেন। তবে রাতের জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা বিকল গাড়ি এবং পর্যাপ্ত সতর্কতা না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার পর আহত চালক ও খালাসির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তাঁদের সহকর্মী এবং যাত্রীরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments