
নিউজ ডেস্ক: কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট সংলগ্ন একটি পেট্রল পাম্পে জ্বালানির গুণমান নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগ, পাম্প থেকে সরবরাহ করা পেট্রলে ভেজাল বা গুণগত ত্রুটি রয়েছে। সেই অভিযোগ ঘিরেই গ্রাহকদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পাম্প চত্বরে জমায়েত হয়ে জ্বালানি পরীক্ষা ও বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি তোলেন তাঁরা।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পেট্রল পাম্পের ভিতরে এবং আশপাশে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন। কয়েক জনের হাতে স্বচ্ছ পাত্রে রাখা তরল দেখা যায়। আবার জ্বালানির পরিমাণ বা নমুনা পরীক্ষা করার জন্য মাপজোকের পাত্র ব্যবহার করতেও দেখা যায় উপস্থিত কয়েক জনকে। পরিস্থিতি নিয়ে পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে গ্রাহকদের তর্ক-বিতর্কের দৃশ্যও ধরা পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট মোড়ের কাছাকাছি ওই পেট্রল পাম্পে জ্বালানি নেওয়ার পর কয়েক জন গ্রাহকের সন্দেহ হয় পেট্রলের গুণমান নিয়ে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সরবরাহ করা পেট্রলে কোনও ধরনের ভেজাল থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থা বা প্রশাসনের পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি স্বচ্ছ পাত্রে সংগৃহীত তরল ঘিরে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ সেই তরলের রং এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। পরে মেজারিং সিলিন্ডার বা পরিমাপের পাত্র ব্যবহার করে বিষয়টি পরীক্ষা করার চেষ্টাও করা হয়।
তবে শুধুমাত্র ভিডিওর দৃশ্য দেখে পেট্রলে ভেজাল রয়েছে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। জ্বালানির প্রকৃত গুণমান নির্ধারণের জন্য অনুমোদিত পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা প্রয়োজন। ফলে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থার তদন্ত হলে তবেই বিষয়টির প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
ঘটনার জেরে পাম্প চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বহু মানুষ ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং কী ঘটছে তা জানার চেষ্টা করছেন। কয়েক জন মোবাইল ফোনে পুরো পরিস্থিতি রেকর্ডও করছেন। অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা ও তদন্তের দাবিও উঠেছে।
পার্ক সার্কাস কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা হওয়ায় এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই পথচলতি মানুষ ও গাড়িচালকদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত পেট্রল পাম্পে হঠাৎ গ্রাহকদের বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় নজর কেড়েছে ঘটনাটি।
অভিযোগকারীদের দাবি, জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। পাম্পের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি ট্যাঙ্ক, ডিসপেন্সিং ইউনিট এবং জ্বালানির নমুনা পরীক্ষা করার দাবিও উঠতে পারে।
অন্য দিকে, পেট্রল পাম্প কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট তেল সংস্থা বা প্রশাসনের তরফেও অভিযোগের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি। তাই ‘মিলাওয়াটি পেট্রল’ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগকে এখনও অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভিডিওতে ধরা পড়া পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট, বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। পাম্পে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জ্বালানির নমুনা পরীক্ষা করার দাবি তুলছিলেন বলেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত।
এখন দেখার, পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট সংলগ্ন ওই পেট্রল পাম্পে জ্বালানির গুণমান নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত হয় কি না। নমুনা পরীক্ষা হলে কী রিপোর্ট সামনে আসে, এবং গ্রাহকদের অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়— সেই উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments