Homeকলকাতা‘ক্যামাক স্ট্রিটে বিজেপির গুন্ডা পাঠানো হয়েছে!’ হামলার অভিযোগে বিস্ফোরক মমতা, দিল্লিতে ধর্নার হুঁশিয়ারি

‘ক্যামাক স্ট্রিটে বিজেপির গুন্ডা পাঠানো হয়েছে!’ হামলার অভিযোগে বিস্ফোরক মমতা, দিল্লিতে ধর্নার হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত রাজ্যে। এই ঘটনার
resizeplus_AI চিত্র (10)

নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত রাজ্যে। এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে দিল্লি পর্যন্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মধ্যরাতে দুষ্কৃতী পাঠিয়ে তৃণমূলের দফতরে হামলা, ভাঙচুর এবং কর্মীদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। অত্যাচার বন্ধ না হলে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ কয়েক জন দুষ্কৃতী দফতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ, সেই সময় সেখানে থাকা কর্মীদের মারধরও করা হয়। ঘটনার সময় অভিষেক কলকাতায় ছিলেন না বলে দলীয় সূত্রে দাবি।

সকালে সমাজমাধ্যমে দফতরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক। তাঁর দাবি, হামলার খবর পাওয়ার পর পুলিশে যোগাযোগ করা হলেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়।

বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী, দফতরের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, দলিল এবং অন্যান্য নথিপত্র তছনছ করা হয়েছে। সেখানে থাকা কয়েক জনকে আটকে রেখে অত্যাচার চালানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

মমতার অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও তাঁর দাবি। কলকাতার মতো শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মধ্যরাতে এমন ঘটনা ঘটলে গ্রামবাংলার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, কিছু পুলিশ আধিকারিক নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। যদিও কর্তব্যনিষ্ঠ পুলিশকর্মীদের প্রতি তাঁর সম্মান রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মমতা। তবে সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করা বা আইনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠা উচিত নয় বলেই মন্তব্য তাঁর।

এই ঘটনায় দফতর থেকে বিভিন্ন সামগ্রী তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এয়ার পিউরিফায়ার, প্রিন্টার, টেলিভিশন-সহ একাধিক ইলেকট্রনিক সামগ্রী খোয়া গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

তবে হামলার ঘটনায় বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ মানতে চাননি বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এটি সাজানো ঘটনা হতে পারে। কেন গভীর রাতে তৃণমূল কর্মীরা ওই দফতরে উপস্থিত ছিলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। অর্থাৎ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মমতার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য এসেছে দিল্লি অভিযান প্রসঙ্গে। তাঁর হুঁশিয়ারি, রাজনৈতিক অত্যাচার ও বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের অভিযোগ বন্ধ না হলে তিনি দিল্লি গিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামবেন। প্রয়োজনে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসার কথাও বলেছেন তিনি।

মমতার অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হচ্ছে। তাঁর দাবি, হাজার হাজার দলীয় কার্যালয় দখল করা হয়েছে এবং বহু নেতা-কর্মী রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে বিজেপির পাল্টা বক্তব্য রয়েছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে ভুয়ো তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। যদিও তিনি সরকারের দেওয়া বিশেষ নিরাপত্তা চান না বলেও মন্তব্য করেছেন।

মমতার বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উপেক্ষা করলে তার প্রভাব বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির উপরও পড়তে পারে।

ক্যামাক স্ট্রিটের হামলার অভিযোগে এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য সামনে আসে এবং সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র কী পাওয়া যায়— সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে মমতার গুরুতর অভিযোগ এবং দিল্লিতে ধর্নার হুঁশিয়ারি রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved