Homeবীরভূমতারাপীঠমেয়ের খোঁজে প্ল্যাকার্ড গলায় তারাপীঠে বৃদ্ধ বাবা, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে

মেয়ের খোঁজে প্ল্যাকার্ড গলায় তারাপীঠে বৃদ্ধ বাবা, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে

নিউজ ডেস্ক; মেয়ের ছবি ও নাম লেখা প্ল্যাকার্ড গলায়। হাতে আরও একটি বোর্ড—‘মেয়ে নিখোঁজ। হেল্প মি।’ মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার আশায়
resizeplus_Screenshot 2026-08-29 155338_edited

নিউজ ডেস্ক; মেয়ের ছবি ও নাম লেখা প্ল্যাকার্ড গলায়। হাতে আরও একটি বোর্ড—‘মেয়ে নিখোঁজ। হেল্প মি।’ মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার আশায় এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন বাবা। কখনও থানার দরজায়, কখনও প্রশাসনের কাছে, কখনও আবার কোনও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ফোন পেয়ে অন্য শহরে। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি নিজের আর্জি জানাতে তারাপীঠে পৌঁছে গিয়েছিলেন সিউড়ির বাসিন্দা অর্ধেন্দু সিনহা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হল না।

বীরভূমে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক সভা ছিল। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী তারাপীঠের কালীমন্দিরে যাবেন—এই খবর পেয়েই শুক্রবার প্রস্তুতি নেন অর্ধেন্দু। গলায় মেয়ের ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে, হাতে ‘মেয়ে নিখোঁজ। হেল্প মি’ লেখা বোর্ড নিয়ে সিউড়ির বাড়ি থেকে তারাপীঠের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর আশা ছিল, মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাবেন। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন একটি চিঠিও। সেই চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাইতে চেয়েছিলেন বৃদ্ধ।

কিন্তু সেই আশাও পূরণ হল না। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাননি অর্ধেন্দু। এর আগেও একই ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের আর্জি জানানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সে ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বারও হাল ছাড়েননি তিনি। তাঁর একটাই আবেদন—মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অন্তত তাঁর চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হোক।

অর্ধেন্দুর মেয়ে অমৃতা সিনহা, বয়স ২৪ বছর। গত মার্চ মাস থেকে তাঁর কোনও সন্ধান নেই। দীর্ঘ সময় ধরে মেয়ের খোঁজ না মেলায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের। অমৃতার নিখোঁজ হওয়ার পর সিউড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর বাবা। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে বার বার যোগাযোগ করেছেন। রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও গিয়েছেন সাহায্যের আশায়। কিন্তু এত দিন পরেও অমৃতার কোনও হদিশ মেলেনি।

মেয়ের সন্ধানে শেষ পর্যন্ত নিজের হাতেই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন অর্ধেন্দু। গলায় মেয়ের ছবি-নাম-সহ প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে তিনি ঘুরছেন বিভিন্ন জায়গায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে পথচলতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তাঁর হাতে থাকা অন্য প্ল্যাকার্ডে মেয়েকে খুঁজে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অমৃতার ছবি যত বেশি মানুষের চোখে পড়বে, ততই হয়তো কেউ তাঁকে চিনতে পারবেন—এই আশাতেই তাঁর এই উদ্যোগ।

শুধু বীরভূমের বিভিন্ন এলাকা নয়, মেয়ের সন্ধানে কলকাতাতেও গিয়েছেন অর্ধেন্দু। আবার অজ্ঞাতপরিচয় কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে ফোন পেলে সেই সূত্র ধরে আসানসোলেও ছুটে গিয়েছেন। কোনও সূত্র সত্যি কি না, তা যাচাই করার আগেই মেয়ের সন্ধান পাওয়ার আশায় ছুটে যান তিনি। কারণ, তাঁর কাছে প্রতিটি ফোনই যেন অমৃতাকে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা।

অমৃতার সন্ধানে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং সিআইডির সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তদন্তকারীদের হাতে এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য আসেনি, যার ভিত্তিতে অমৃতার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে আশ্বস্ত করা যায়।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমে আসছেন জানতে পেরে নতুন করে আশার আলো দেখেছিলেন অর্ধেন্দু। তাঁর ধারণা ছিল, প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে সরাসরি বিষয়টি জানাতে পারলে হয়তো তদন্তে আরও গতি আসবে। সেই কারণেই তারাপীঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে যাওয়ার আগে সেখানে পৌঁছে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

গলায় ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে মেয়ের ছবি, হাতে সাহায্যের আবেদন—এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বৃদ্ধ। তাঁর চোখ ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের দিকে। আশা ছিল, এক মুহূর্তের জন্য হলেও মুখ্যমন্ত্রীর নজর তাঁর দিকে পড়বে। হয়তো গাড়ি থামবে, হয়তো কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগ হবে। সেই সঙ্গে তুলে দেবেন নিজের লেখা চিঠি। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হলেও নিজের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অর্ধেন্দু। এর আগেও কনভয়ের সামনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। নিরাপত্তার কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলেও পুলিশ আধিকারিকদের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তাঁর দাবি, সেই চিঠি তিনি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

একজন বাবার কাছে মেয়ের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া যে কী গভীর উদ্বেগের কারণ হতে পারে, অর্ধেন্দুর গত কয়েক মাসের ছুটে বেড়ানো তারই ছবি তুলে ধরছে। থানায় অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে আবেদন, নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ—কিছুতেই সুরাহা না হওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানাচ্ছেন তিনি। মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে তাঁর ঘুরে বেড়ানো যেন একটাই প্রশ্ন সামনে আনছে—অমৃতা কোথায়?

এখন পরিবারের আশা, তদন্তকারী সংস্থাগুলি দ্রুত অমৃতার সন্ধান করতে পারবে। একই সঙ্গে অর্ধেন্দুর দেওয়া চিঠি এবং তাঁর আবেদন প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছলে হয়তো তদন্তে নতুন কোনও দিশা মিলতে পারে। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আপাতত রাস্তায় রাস্তায় বাবার এই লড়াইই চলতে থাকবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved