Last updated: August 29th, 2026 at 03:26 pm

নিউজ ডেস্ক: আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথির আগেই বীরভূম জেলা সফরে পৌঁছালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলা প্রশাসন ও দলীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এবং মা তারা মন্দিরে পুজো দিতেই তাঁর এই বহুমুখী কর্মসূচিতে ঠাসা বীরভূম সফর। মুখ্যমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে বীরভূম জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে তারাপীঠ মন্দির প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, রাজধানী কলকাতা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে প্রথমে রামপুরহাটের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা এবং বীরভূমের স্থানীয় নেতৃত্ব তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সফরসূচির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান তারাপীঠের মা তারা মন্দিরে। সেখানে মা তারার চরণে পুজো দিয়ে মাতৃদর্শন সারেন তিনি। প্রতি বছরই কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামে। সেই মহা উৎসবের প্রাক্কালে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর পুজো দেওয়া এবং সার্বিক পুজো প্রস্তুতির ওপর নজর রাখা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।
তারাপীঠ মন্দিরে পুজো অর্পণ ও মাতৃদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত হন রামপুরহাটের মূল প্রশাসনিক সভাগৃহে। সেখানে বীরভূম জেলার সার্বিক উন্নয়ন, একাধিক চলমান সরকারি প্রকল্পের পর্যালোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার, মহকুমা শাসক এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ, স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রাস্তাঘাটের মেরামতির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক বৈঠকের একটি মূল আকর্ষণ ছিল কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তারাপীঠ মহাশ্মশান ও মন্দির চত্বরে সারা দেশ থেকে ভক্ত ও সাধু-সন্তদের সমাগম ঘটবে। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিশদে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ (TADA) এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে ব্যাপারেও একটি ব্লু-প্রিন্ট মুখ্যমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। পর্যাপ্ত পানীয় জল, অস্থায়ী শৌচাগার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, মেডিকেল ক্যাম্প এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেন তিনি।
একই সঙ্গে জেলায় বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ দ্রুত মেটানোর ওপর জোর দেন শুভেন্দু অধিকারী। এ দিনের সভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি জানান, সরকারি পরিষেবার সুবিধা যেন একদম প্রান্তিক মানুষের কাছে নির্বিঘ্নে পৌঁছায়, তা সুনিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার।
বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা সফরে প্রশাসনিক তৎপরতা যেমন তুঙ্গে উঠেছে, তেমনই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ করা গিয়েছে। মা তারা মন্দিরে পুজো সমর্পণ থেকে শুরু করে রামপুরহাটের প্রশাসনিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাজ্যের প্রতি তাঁর উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি আরও একবার স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments