Homeরাজ্যখরিফ ফসল বিমায় বাড়ল সময়, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন কৃষকেরা

খরিফ ফসল বিমায় বাড়ল সময়, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন কৃষকেরা

নিউজ ডেস্ক; রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় কৃষকদের নাম নথিভুক্তকরণ এবং প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াল কেন্দ্রীয়
resizeplus_Screenshot 2026-08-29 161836_edited

নিউজ ডেস্ক; রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় কৃষকদের নাম নথিভুক্তকরণ এবং প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি খরিফ মরসুমে এই প্রকল্পে অংশ নিতে ঋণগ্রহীতা এবং ঋণ না নেওয়া—উভয় শ্রেণির কৃষকরাই আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যকে চিঠি দিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষককল্যাণ মন্ত্রক।

চলতি মরসুমে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় কৃষকদের নাম নথিভুক্তির গতি প্রত্যাশামতো হয়নি। প্রশাসনিক স্তরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে দেরি, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে কৃষকদের একটা বড় অংশ এখনও বিমার আওতায় আসতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কৃষকদের আরও সময় দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য কৃষি দপ্তর।

রাজ্যের কৃষি-অধিকর্তার তরফে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রকের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রের তরফে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাজ্যকে সম্মতিসূচক চিঠি পাঠিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রের চিঠিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাঁরা নতুন করে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করবেন, তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অংশের প্রিমিয়ামও পরিশোধ করা হবে। ফলে সময়সীমা বাড়ানোর কারণে নতুন করে নাম নথিভুক্ত হওয়া কৃষকদের বিমা-সুবিধা নিয়ে কোনও জটিলতা তৈরি হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত প্রধান বিমা সংস্থাগুলিও সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। ফলে রাজ্যের কৃষকদের জন্য নতুন করে সুযোগ তৈরি হয়েছে। যাঁরা এখনও পর্যন্ত প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি, তাঁরা এই বাড়তি সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মূল উদ্দেশ্য হল প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনও কারণে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি কীটপতঙ্গের আক্রমণ বা ফসলের রোগের কারণে ক্ষতি হলেও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বিমার আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কৃষকদের।

কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলিতে এই ধরনের ফসল বিমার গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ চাষাবাদে কৃষকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রোগ-পোকার আক্রমণে মুহূর্তের মধ্যে সেই বিনিয়োগ এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ফসল বিমা কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে।

কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা চালু করেছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ফসলের ঝুঁকির বিরুদ্ধে বিমার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম দিতে হয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অংশীদারির মাধ্যমে বাকি প্রিমিয়ামের ব্যবস্থা করা হয়।

বাংলায় এ বার প্রকল্পটি চালু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও প্রথম দিকে নাম নথিভুক্তির গতি প্রত্যাশামতো হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে দেরি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কিছু প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে কৃষকদের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না। সেই কারণেই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

সময় বাড়ানোর ফলে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করছে কৃষি দপ্তর। বিশেষ করে যাঁরা শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পেরেছেন বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেননি, তাঁদের কাছে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন সুযোগ থাকছে।

এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা কৃষকদের পাশাপাশি ঋণ না নেওয়া কৃষকদেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কৃষিঋণের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও যোগ্য কৃষকেরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। ফলে প্রকল্পটির আওতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।

কেন্দ্রের সম্মতি পাওয়ার পরে এখন রাজ্যের সামনে মূল লক্ষ্য হল বাড়তি সময়ের মধ্যে যত বেশি সংখ্যক যোগ্য কৃষককে প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা। জেলা ও ব্লক স্তরে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত নাম নথিভুক্তির ব্যবস্থা করা হলে এই বর্ধিত সময়সীমার সুফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের কৃষকদের কাছে তাই এখন ১৫ সেপ্টেম্বর গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। যাঁরা চলতি খরিফ মরসুমে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় নিজেদের নাম এখনও নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ ফসলের ক্ষতি হলে আর্থিক বিপর্যয় সামাল দিতে এই বিমা কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা-কবচ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, রাজ্যের আবেদনে কেন্দ্রের সম্মতির ফলে চলতি খরিফ মরসুমে ফসল বিমার আওতায় আরও বেশি কৃষককে আনার পথ খুলল। এখন দেখার, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়তি সময়ের মধ্যে রাজ্যের কত সংখ্যক কৃষক এই সুযোগ গ্রহণ করেন।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved