
নিউজ ডেস্ক; বারুইপুর থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই যুবকের। বৃহস্পতিবার সকালে সোনারপুর থানার চৌহাটি সংলগ্ন এলাকায় একটি স্কুলের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারে একটি গাড়ি। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন মোট পাঁচ জন। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় বাকি তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই যুবকের নাম সাগ্নিক সেন এবং সৌনক ভট্টাচার্য। দু’জনেরই বাড়ি যাদবপুর এলাকায়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি থেকে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ যুবক একটি গাড়িতে করে বারুইপুরের দিক থেকে ফিরছিলেন। চৌহাটি সংলগ্ন এলাকায় একটি স্কুলের সামনে পৌঁছনোর পর আচমকাই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর রাস্তার পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে গাড়িটির সামনের অংশ ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গাড়ির ভিতরে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য দ্রুত ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। দু’জনকে গাড়ির ভিতরেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বাকি তিন জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৃত সাগ্নিক সেন এবং সৌনক ভট্টাচার্য যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার খবর তাঁদের পরিবারে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। আচমকা এমন ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্য ও পরিচিতরা। কী ভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। যদিও ঠিক কত গতিতে গাড়িটি চলছিল, তা এখনও পুলিশ নিশ্চিত করে জানায়নি। তবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারার বিষয়টি সামনে আসায় গাড়ির গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ এবং রাস্তার পরিস্থিতি— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চৌহাটি সংলগ্ন ওই এলাকায় স্কুলের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সকালের সময়ে ওই এলাকায় সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াত থাকে। ফলে গাড়িটি অন্য কোনও পথচারী বা পড়ুয়াকে ধাক্কা দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ।
দুর্ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। গাড়িটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। চালকের ভূমিকা, গাড়ির গতি এবং রাস্তার পরিস্থিতি— সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি যে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কে। পাঁচ জনের মধ্যে চালকের অবস্থাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ঘটনার সময় কেউ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, গাড়িতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না কিংবা অন্য কোনও কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানো হয়েছিল কি না, সে সব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনার আগে গাড়িটির গতিবিধি সম্পর্কে জানতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গাড়িটি কোন দিক থেকে আসছিল এবং ঠিক কী ভাবে রাস্তার উপর নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা ফুটেজে ধরা পড়লে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
এই দুর্ঘটনা ফের এক বার দ্রুতগতির যান চলাচল নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শহরতলি এবং সংলগ্ন এলাকায় রাত-বিরেতে বা ভোরের দিকে অনেক সময় ফাঁকা রাস্তা পেয়ে যানবাহনের গতি বেড়ে যায়। কিন্তু আচমকা কোনও বাধা, বাঁক কিংবা রাস্তার পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে অতিরিক্ত গতির কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও এমন কিছু ঘটেছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
আহত তিন জনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তাঁদের গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্ঘটনার অভিঘাতে তাঁরা কতটা আঘাত পেয়েছেন, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে।
এ দিকে দুই যুবকের মৃত্যুতে যাদবপুর এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একসঙ্গে পাঁচ জনের সফর যে ভাবে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শেষ হল, তা নিয়ে তাঁদের পরিচিত মহলেও শোক নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালের এই দুর্ঘটনা স্থানীয়দের মনে ফের পথ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে স্কুলের সামনে দুর্ঘটনা ঘটায় রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আরও নজরদারি প্রয়োজন। স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় গাড়ির গতি কমানো এবং নিয়মিত পুলিশি নজরদারি থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব বলে তাঁদের মত।
তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানোর নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। ময়নাতদন্ত এবং অন্যান্য তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে মৃত্যুর বিষয়েও আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
বারুইপুর থেকে ফেরার পথে পাঁচ যুবকের গাড়ি এ ভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়বে, তা কেউ ভাবেননি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারালেন সাগ্নিক সেন ও সৌনক ভট্টাচার্য। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে লড়াই করছেন তাঁদের তিন সঙ্গী। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ঠিক কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মেরেছিল।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments