Homeহুগলিআরামবাগনেপালে বিপর্যয়, আরামবাগের ৬৫ পর্যটককে নিয়ে উদ্বেগ! বাসচালকের ফোনে ফিরল স্বস্তি

নেপালে বিপর্যয়, আরামবাগের ৬৫ পর্যটককে নিয়ে উদ্বেগ! বাসচালকের ফোনে ফিরল স্বস্তি

নিউজ ডেস্ক; নেপালে বেড়াতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়লেন আরামবাগের ৬৫ জন পর্যটক। উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলায় চিন সীমান্তবর্তী ভোটেকোশি নদীতে
Screenshot 2026-08-28 190546_edited

নিউজ ডেস্ক; নেপালে বেড়াতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়লেন আরামবাগের ৬৫ জন পর্যটক। উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলায় চিন সীমান্তবর্তী ভোটেকোশি নদীতে হড়পা বান এবং তার জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগে পড়ে যায় আরামবাগের একাধিক পরিবার। যে বাসে করে পর্যটকেরা নেপালে গিয়েছেন, তার চালক সুরজিৎ কুণ্ডু এবং সহযোগী মন্টু বটব্যালের পরিবারও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে শুরু করে। প্রথম দিকে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত নেপাল থেকেই আসে স্বস্তির খবর। ৬৫ জন পর্যটকই সুস্থ রয়েছেন বলে জানতে পেরে কিছুটা নিশ্চিন্ত তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা।

গত ২৪ অগস্ট একটি লাক্সারি বাসে করে আরামবাগ এলাকা থেকে ৬৫ জন পর্যটককে নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন বাসচালক সুরজিৎ কুণ্ডু। পরিকল্পনা ছিল নেপালের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা। কিন্তু পর্যটকদের সফরের মধ্যেই উত্তর নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর সামনে আসে। রাসুয়া জেলার চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোটেকোশি নদীতে হড়পা বান নেমে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। নেপালের ওই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আরামবাগের পর্যটকদের পরিজনেরা।

পরিবারগুলির দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ ছিল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। নেপালের প্রত্যন্ত এলাকায় থাকার কারণে শুরুতে অনেকের সঙ্গেই পরিবারের সদস্যেরা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। ফলে বিপর্যয়ের খবরের সঙ্গে যখন প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগের অভাব যোগ হয়, তখন উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে। অনেকেই বার বার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বাসচালক সুরজিৎ এবং তাঁর সহযোগী মন্টু বটব্যালের বাড়িতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি আরামবাগ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়ায়। এত জন পর্যটক একসঙ্গে নেপালে রয়েছেন, তার উপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হলে জানা যায়, পর্যটক দলের প্রত্যেকেই নিরাপদে রয়েছেন। সেই খবর পাওয়ার পরেই উদ্বেগ অনেকটাই কাটে পরিবারের সদস্যদের।

এই সফরে পর্যটকদের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাসচালক সুরজিৎ কুণ্ডু। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাণিজ্যিক দিকের তুলনায় মানুষের জীবন তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবরের পর পর্যটকদের নিরাপদে রাখা এবং পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়াই তাঁর প্রধান চিন্তা।

সুরজিৎ জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারও যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। আরামবাগের বাসিন্দারাও তাঁদের নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান না। তাঁর কথায়, মানুষের জীবনই প্রথম। অর্থ বা ব্যবসার বিষয় পরে। পর্যটকদের নিয়ে যে দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছেন, সেই দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত পালন করাই তাঁর লক্ষ্য।

নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সুরজিৎ জানিয়েছেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয় ফের যদি নতুন করে বন্যা বা হড়পা বান হয়, তা হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা কী ভাবে নিশ্চিত করা যাবে। পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া এবং নদীর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই সতর্কতার সঙ্গে পর্যটকদের নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

সুরজিতের বক্তব্য, নেপাল এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ জীবনে একাধিক বার বেড়াতে যেতে পারেন। কিন্তু মানুষের জীবনের কোনও বিকল্প নেই। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে তিনি রাজি নন। তাঁর কাছে এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যাঁদের নিয়ে তিনি নেপালে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া।

পর্যটকদের পরিজনদের কাছেও এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হল, ৬৫ জনই সুস্থ রয়েছেন। কয়েক দিন ধরে উৎকণ্ঠায় থাকার পরে পরিবারের সদস্যেরা তাঁদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। ফলে নেপালের বিপর্যয়ের খবর ঘিরে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমেছে।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ থাকছেই। পর্যটকদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর বিষয়টিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাসচালক সুরজিৎও জানিয়েছেন, তাঁর একমাত্র লক্ষ্য পর্যটকদের নিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারা। নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতি বদলালে যাত্রাপথেও পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তাই স্থানীয় পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

আরামবাগের এই ৬৫ জনের নেপাল সফর তাই আপাতত আনন্দের পর্যটনযাত্রার বদলে উদ্বেগ ও স্বস্তির এক মিশ্র অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর তাঁদের সফরে আতঙ্ক তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত পর্যটক দলের সকলের নিরাপদ থাকার খবরই পরিবারের মুখে হাসি ফিরিয়েছে। আর সেই সঙ্গে সামনে এসেছে এক বাসচালকের দায়িত্ববোধের কথাও— পর্যটকদের নিয়ে যখন পথে বেরিয়েছেন, তখন তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে নিয়েছেন সুরজিৎ।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved