Homeহুগলিআরামবাগআরামবাগে তোলাবাজি-কাণ্ড, পুলিশের নজরে প্রাক্তন চেয়ারম্যান

আরামবাগে তোলাবাজি-কাণ্ড, পুলিশের নজরে প্রাক্তন চেয়ারম্যান

নিউজ ডেস্ক; আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পর এবার একই পুরসভার আরও এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল
AI চিত্র (2)

নিউজ ডেস্ক; আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পর এবার একই পুরসভার আরও এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সমীর ভাণ্ডারীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমীর ভাণ্ডারীর বিরুদ্ধে উঠেছে তোলাবাজি, বাস মালিকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় এবং বাসকর্মীদের মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে একটি তোলাবাজির চক্র সক্রিয় ছিল। সেই চক্রের নেপথ্যে সমীর ভাণ্ডারী মূল ভূমিকা পালন করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক বাস মালিকের পক্ষ থেকে আরামবাগ থানায় সমীর ভাণ্ডারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সমীর ভাণ্ডারীর বাড়িতেও পুলিশ গিয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এরপর থেকেই তাঁর সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

বাস মালিকদের অভিযোগ, আরামবাগ বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অনিয়ম এবং টাকা আদায়ের অভিযোগ ছিল। তাঁদের দাবি, বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং স্ট্যান্ডে ব্যবসা চালাতে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হত। শুধু বাস মালিক নয়, বাসকর্মীদের উপরেও চাপ তৈরি করা হত বলে অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকার করলে ভয় দেখানো এবং মারধরের মতো ঘটনা ঘটত বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাস মালিক।

অভিযোগের আরও একটি গুরুতর দিক হল, এই কাজে এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতীকে ব্যবহার করা হত বলে দাবি করা হয়েছে। বাসকর্মীদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে তাঁদের মারধর করার পিছনে সমাজবিরোধীদের ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনার পর আরামবাগের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কারণ, সমীর ভাণ্ডারী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাস-মিনিবাস অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মধুমিতা ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা বেআইনি ভাবে তোলাবাজিতে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তোলাবাজিতে মদত দিয়ে থাকলে তাঁর শাস্তি হওয়াই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে সামনে রেখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আরামবাগে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং দাদাগিরির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাস মালিকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় এবং বাসকর্মীদের মারধরের অভিযোগকে তিনি অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন।

বিজেপি বিধায়কের দাবি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাস মালিক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে।

এদিকে, রাজনৈতিক মহলে আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, গত ২১ জুলাই সমীর ভাণ্ডারী ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর উপস্থিতির একটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে সমীর ভাণ্ডারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে এখনও তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে বলে সূত্রের খবর। অভিযোগের পর থেকেই তিনি এলাকায় নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। পুলিশ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর চালাচ্ছে।

তদন্তকারীদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন, আরামবাগ বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে সত্যিই দীর্ঘদিন ধরে কোনও সংগঠিত তোলাবাজির চক্র চলত কি না এবং সেখানে সমীর ভাণ্ডারীর ভূমিকা কতটা ছিল। বাস মালিকদের অভিযোগের পাশাপাশি টাকা লেনদেন, স্ট্যান্ড পরিচালনা এবং বাসকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাগুলিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরামবাগে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের কাছে দাবি উঠেছে, রাজনৈতিক চাপমুক্ত ভাবে গোটা ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক।

বর্তমানে সমীর ভাণ্ডারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তই পুলিশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর সন্ধান চালানোর পাশাপাশি, বাস মালিক ও কর্মীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তোলাবাজির অভিযোগের নেপথ্যে কারা ছিলেন এবং পুরো ঘটনায় প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ভূমিকা আদৌ কতটা ছিল, তা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

No Comments

তাজা খবর