Homeকলকাতামারধরের অভিযোগে ফের চর্চায় সোহম চক্রবর্তী

মারধরের অভিযোগে ফের চর্চায় সোহম চক্রবর্তী

নিউজ ডেস্ক; অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কাঠমিস্ত্রি রাজ কাপুর শর্মার দাবি, বকেয়া পারিশ্রমিকের টাকা চাইতে
AI চিত্র (4)

নিউজ ডেস্ক; অভিযোগের ভিত্তিতে বেহালা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কাঠমিস্ত্রি রাজ কাপুর শর্মার দাবি, বকেয়া পারিশ্রমিকের টাকা চাইতে গিয়ে তিনি মারধর, হুমকি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েন। যদিও অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, সোহম চক্রবর্তীর বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

অভিযোগকারী রাজ কাপুর শর্মার দাবি, সোহম চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে কাঠের ফার্নিচারের কাজের জন্য তিনি কন্ট্রাক্ট পেয়েছিলেন। সেই কাজের জন্য তাঁকে প্রাথমিক ভাবে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। এরপর ধাপে ধাপে ফার্নিচারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। অভিযোগকারীর দাবি, কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাঁর বকেয়া পারিশ্রমিকের টাকা পাওনা হয়ে যায়। সেই টাকা চাইতে গেলে তাঁকে বারবার পরে টাকা দেওয়ার কথা বলে ঘোরানো হচ্ছিল।

রাজ কাপুর শর্মার অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু টাকা মেটানো হয়নি বলে তাঁর দাবি। এরপর গতকাল সোহম চক্রবর্তীর বাড়ির এক নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। সেই ফোন পাওয়ার পরই তিনি অভিনেতার বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এরপর আজ সোহমের বাড়িতে গিয়ে বকেয়া টাকা চাওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। রাজ কাপুর শর্মার দাবি, তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ বাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি তাঁর পাওনা ৭৯ হাজার টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। অভিযোগ, সেই টাকা দেওয়া হবে না বলে তাঁকে জানানো হয়। এরপরই তাঁর উপর শারীরিক ভাবে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কাঠমিস্ত্রি।

শুধু মারধর নয়, তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রাজ কাপুর শর্মার। একইসঙ্গে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও ঠিক কী কারণে এবং কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও তদন্তের বিষয়। অভিযোগকারী তাঁর বক্তব্যে যে ঘটনাগুলির কথা জানিয়েছেন, সেগুলিই এখন পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনার পর বেহালা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজ কাপুর শর্মা। সেখানে মারধর, হুমকি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। ঘটনাস্থলে কী হয়েছিল, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্যও তদন্তকারীরা যাচাই করছেন বলে জানা গিয়েছে।

অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন, তাঁর মূল দাবি ছিল বকেয়া পারিশ্রমিকের টাকা পাওয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফার্নিচারের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও ৭৯ হাজার টাকা বাকি ছিল। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এখন পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, সত্যিই ওই টাকা বকেয়া ছিল কি না এবং সেই টাকা নিয়ে কোনও বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল কি না।

সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এর আগেও মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। একটি রেস্তোরাঁয় মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নাম জড়িয়েছিল। সেই ঘটনার পর ফের এবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি ও অভিনেতার বিরুদ্ধে পরপর এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চর্চা তৈরি হয়েছে।

তবে বর্তমান ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। অভিযোগ উঠেছে বলেই সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কার ভূমিকা কতটা ছিল, তা স্পষ্ট হবে। একইসঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সোহম চক্রবর্তীর বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তদন্তের পাশাপাশি সেই বক্তব্যও সামনে আসতে পারে।

ঘটনাটি ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে কি সত্যিই দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল? কাঠমিস্ত্রির দাবি করা ৭৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল কি না? টাকা চাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল? অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর মোবাইল ফোন কেন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল? এবং সেখানে আর কারা উপস্থিত ছিলেন? এই সমস্ত বিষয়ই তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, সম্ভাব্য সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ করবে বলে জানা গিয়েছে। প্রয়োজনে ঘটনাস্থলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারণ সোহম চক্রবর্তী শুধু টলিউডের পরিচিত মুখ নন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও যুক্ত। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনার জন্য নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, বকেয়া পারিশ্রমিককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অভিযোগ এখন পৌঁছেছে থানার দরজায়। কাঠমিস্ত্রি রাজ কাপুর শর্মার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগগুলি কতটা সত্য এবং ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী হয়েছিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে এই অভিযোগের পরবর্তী গতিপথ।

No Comments

তাজা খবর