Homeহুগলিআরামবাগআরামবাগের বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১২০০ কোটির মাস্টার প্ল্যান, কাজ শুরু ২০২৭-এ

আরামবাগের বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১২০০ কোটির মাস্টার প্ল্যান, কাজ শুরু ২০২৭-এ

প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীর জলে প্লাবিত হয় খানাকুল, গোঘাট-সহ আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। নদীর জলস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কে
ChatGPT Image Aug 21, 2026, 01_04_53 PM (1)

প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীর জলে প্লাবিত হয় খানাকুল, গোঘাট-সহ আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। নদীর জলস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় এলাকার মানুষকে। কোথাও বাঁধ উপচে জল ঢোকে, কোথাও আবার নদীর জল গ্রামে ঢুকে প্লাবিত করে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি। এর জেরে একদিকে যেমন বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ, তেমনই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকেরা। ভেঙে যায় বহু মাটির বাড়ি, নষ্ট হয় জমির ফসল। বন্যার জল নেমে গেলেও তার ক্ষত থেকে যায় দীর্ঘদিন।

এই পরিস্থিতি থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে আরামবাগ মহকুমার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। প্রতি বছর বন্যার সময় সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে নদী, বাঁধ, জলনিকাশি এবং এলাকার সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি ছিল স্থানীয়দের। সেই দাবিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল।

বিধানসভা ভোটের আগেও এই বিষয়টি রাজনৈতিক প্রচারে উঠে এসেছিল। বিজেপির তরফে তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যে নতুন সরকার তৈরি হলে আরামবাগের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। এবার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগোল আরামবাগ। দেরিতে হলেও দীর্ঘদিনের সেই ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে।

আরামবাগের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য সরকার মোট ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করবে বলে জানা গিয়েছে। পরিকল্পনার কাজ শুরু হবে ২০২৭ সালে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরামবাগ মহকুমার দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নদীর জল নিয়ন্ত্রণ, বাঁধের সুরক্ষা, জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত করার মতো বিষয়গুলি এই বৃহৎ পরিকল্পনার আওতায় আসতে পারে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আরামবাগের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হয়েছে। দ্বারকেশ্বর নদীর উপরে দ্বিতীয় রামকৃষ্ণ সেতু তৈরির জন্য রাজ্য সরকার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। নতুন সেতু তৈরি হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে যানজট কমানো এবং একাধিক এলাকার মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করার ক্ষেত্রে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আরামবাগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এই খবর জানান পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ এবং খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। তাঁদের দাবি, আরামবাগের বন্যা রোধে প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যানের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এবার বাস্তবে প্রকল্পের কাজ এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আরামবাগ মহকুমার মানুষের কাছে এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতি বছর বন্যার ফলে শুধু বাড়িঘর বা ফসলের ক্ষতি হয় না, এলাকার অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। একটি স্থায়ী এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হলে সেই ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর ২০২৭ সালের দিকে। ১২০০ কোটি টাকার এই মাস্টার প্ল্যান কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার মাধ্যমে আরামবাগের দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, সেটাই আগামী দিনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় রামকৃষ্ণ সেতুর কাজ বাস্তবে কবে শুরু হয়, তার দিকেও তাকিয়ে রয়েছেন মহকুমাবাসী। দীর্ঘদিনের বন্যা-দুর্ভোগের পর এই ঘোষণাই এখন আরামবাগবাসীর কাছে নতুন আশার আলো।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved