Homeদার্জিলিংশিলিগুড়িউত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বৃষ্টির পূর্বাভাস! ৪৮ ঘণ্টায় ধস-বজ্রপাতের আশঙ্কা, পাহাড়ি নদী নিয়েও সতর্কতা

উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বৃষ্টির পূর্বাভাস! ৪৮ ঘণ্টায় ধস-বজ্রপাতের আশঙ্কা, পাহাড়ি নদী নিয়েও সতর্কতা

ezgif-sixteen_nine_161

নিউজ ডেস্ক : উত্তরবঙ্গের আকাশে ফের দুর্যোগের ঘনঘটা। নিম্নচাপের প্রভাব এবং সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর জোড়া ফলায় আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার সম্ভাবনা। ফলে পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা—সকলকেই বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের শেষ বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর অবস্থান করা নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই সরে গিয়ে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশের দিকে অবস্থান করছে। তবে নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প উত্তরবঙ্গের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেই আর্দ্র বাতাস পাহাড়ে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঘনীভূত হতে পারে। তার ফলেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও পার্বত্য জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস।

ইতিমধ্যেই বৃষ্টির নজরদারি

গত ২৪ ঘণ্টাতেও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির খবর মিলেছে। তবে কয়েকটি জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল। কালিম্পংয়ে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ৭ সেন্টিমিটার বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে।

এ ছাড়াও রায়গঞ্জ, মালদহ, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের শ্যাঙ্কোস ও নিউল্যান্ডস চা-বাগান এলাকায় প্রায় ২ সেন্টিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, আগামী দিনে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর সবচেয়ে বেশি সতর্কতা

আগামী ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাসেই রয়েছে উদ্বেগের ইঙ্গিত। ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং দার্জিলিং।

এই জেলাগুলির কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে, আবার বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় অতিভারী বৃষ্টিও দেখা দিতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তায় একাধিক জায়গায় ধসের কারণে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়। নতুন করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে সেই সমস্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাহাড়ে ধস, নদীতে জল বাড়ার আশঙ্কা

টানা বৃষ্টির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে পাহাড়ি এলাকাগুলিতে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ি জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে মাটির উপরিভাগে জল জমে তার স্থায়িত্ব কমতে পারে। ফলে পাহাড়ের ঢালে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হবে।

পাহাড়ি নদী ও ছোট জলধারাগুলির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত বৃষ্টির জল দ্রুত নেমে আসায় নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যেতে পারে। যে সমস্ত এলাকা নদী বা ঝরনার কাছাকাছি, সেখানে তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

পাহাড়ি পথে পর্যটকদের জন্যও এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রবল বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে। রাস্তার কোথাও পাথর বা মাটি পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে আবহাওয়া খারাপ থাকলে অপ্রয়োজনে পাহাড়ি রাস্তায় বেরোনো এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়ার সম্ভাবনা

শুধু বৃষ্টিই নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ারও সতর্কতা রয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, চা-বাগান কিংবা উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। গাছের নীচে আশ্রয় নেওয়াও নিরাপদ নয়। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে দ্রুত কোনও নিরাপদ পাকা স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চা-বাগান ও কৃষিতেও প্রভাব

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির একটি বড় অংশ চা-বাগান ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত। অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে নিচু এলাকায় জল জমার পাশাপাশি চা-বাগানের কাজেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত জল ক্ষতির কারণ হতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে মাটির আর্দ্রতা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কৃষিজমিতে জল নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে কৃষকদেরও স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

৫ সেপ্টেম্বরের পর কিছুটা স্বস্তি?

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বরের পর উত্তরবঙ্গের বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কিছুটা কমতে পারে। তবে তার অর্থ এই নয় যে সঙ্গে সঙ্গে পুরোপুরি দুর্যোগ কেটে যাবে। ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যেও দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

অর্থাৎ, বৃষ্টির মূল দাপট কমলেও উত্তরবঙ্গে সম্পূর্ণ শুষ্ক আবহাওয়া ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। অন্তত ৮ সেপ্টেম্বরের পর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পর্যটকদের জন্য কী সতর্কতা?

এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ি রাস্তা ধরে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। রাস্তার ধারে ধসপ্রবণ জায়গায় অযথা গাড়ি থামানো উচিত নয়। স্থানীয় প্রশাসনের কোনও রাস্তা বন্ধের নির্দেশ থাকলে তা অমান্য না করাই নিরাপদ।

পাহাড়ি নদী, ঝরনা কিংবা জলাধারের কাছেও এই সময়ে ভিড় না করাই ভাল। হঠাৎ জলস্তর বেড়ে গেলে বিপদ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া যথেষ্ট প্রতিকূল থাকতে পারে। ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক—উভয়কেই সতর্ক থাকতে হবে। আবহাওয়ার সর্বশেষ সরকারি আপডেট নজরে রেখে তবেই যাতায়াতের পরিকল্পনা করা নিরাপদ।

No Comments

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    LINKS

    ABOUT US

    ফোন নম্বর

    +৯১ ৮৪২০৬৫৮৯৯৯

    আমাদের ঠিকানা

    আর্চ স্কোয়ার X2 বিল্ডিং
    কলেজ মোড়, সেক্টর ৫
    কলকাতা - ৭০০০৯১

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved