
নিউজ ডেস্ক; এক দিকে টানা বৃষ্টি, অন্য দিকে জলাধার থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ার খবর। দুইয়ের জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে ফের বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা। শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জলস্তর ইতিমধ্যেই অনেকটা বেড়েছে। তার উপর দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে ছাড়া জল দ্বারকেশ্বর হয়ে ঝুমি নদীতে এসে পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। প্রশাসন অবশ্য এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন রাত পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। সেই জল দ্বারকেশ্বর হয়ে ঘাটালের ঝুমি নদীতে পৌঁছতে আরও প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। কিন্তু তার আগেই বৃষ্টির জলে নদীর জলস্তর বেড়ে রয়েছে। ফলে জলাধার থেকে ছাড়া জল নদীতে এসে মিশলে জলস্তর বিপদসীমা ছুঁয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘাটালের নদীগুলিতে জলাধার থেকে ছাড়া জলের প্রভাব সরাসরি পড়ে না। তবে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে ছাড়া জল দ্বারকেশ্বর নদী হয়ে ঝুমি নদীতে এসে মেশে। সেই কারণেই দুর্গাপুরের জল ছাড়ার খবর ঘাটালের মানুষের চিন্তা বাড়িয়েছে।
এ দিন রাত পর্যন্ত ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ কিউসেক জল ছাড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই জল ঘাটালে পৌঁছতে সময় লাগবে। কিন্তু তার আগেই ঝুমি নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নদীতে জলস্তর আরও বাড়লে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে কংসাবতী জলাধার থেকে ছাড়া জল দাসপুরের রাজনগর হয়ে ঘাটালের শিলাবতী নদীতে মেশে। তবে মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে এখনও জল ছাড়ার খবর নেই। কিন্তু বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি হলে সেই জল গড়বেতা, চন্দ্রকোণা হয়ে ঘাটালের শিলাবতীতে এসে মেশে। ফলে জলাধার থেকে জল না ছাড়লেও উজানের বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর বেড়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির জেরে শিলাবতী নদীর জলস্তর বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে ঘাটালের নিচু এলাকাগুলিতে। নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘাটাল ব্লকের দেওয়ানচক হয়ে শিলাবতী নদীর জল ঢুকেছে অজবনগর পঞ্চায়েতের পান্না এলাকায়। ডুবে গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে বরদাচৌকান হয়ে ঘাটাল শহরে পৌঁছনো যায়। বুধবার সকাল থেকেই রাস্তাটির উপর দিয়ে হাঁটু সমান জল বইছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন মানুষজন। কোথাও কোথাও রাস্তার উপর দিয়ে জল বয়ে যাওয়ায় যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির জল ও নদীর জল একসঙ্গে বাড়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দৈনন্দিন কাজের জন্য শহরে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পান্না গ্রামেই বাড়ি ঘাটাল বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটের। গ্রামের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় তাঁকেও খালি পায়ে হেঁটে জল পেরিয়ে ঘাটালে পৌঁছতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
বিধায়ক বলেন, “বাঁকুড়া, পুরুলিয়া উপরিভাগ এলাকায়। ভারী বৃষ্টি হলে ঘাটালে শিলাবতী নদীতে জলের চাপ বাড়ে। ঘাটালে আরও কিছু নিচু এলাকায় জল ঢুকছে। তবে ভয়ের কিছু নেই, পুলিশ-প্রশাসন আগে থেকেই বন্যা মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।”
তাঁর বক্তব্য, উজানের জলের চাপ বাড়লে ঘাটালের নদীগুলিতে তার প্রভাব পড়ে। তবে প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
ঘাটাল ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দেওয়ানচক, অজবনগর-সহ একাধিক এলাকার কৃষিজমি ও মাঠ জলে ডুবে গিয়েছে। পুর এলাকার কিছু অংশেও জল ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে কৃষিকাজ এবং স্থানীয় জনজীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিডিও অভীক বিশ্বাস বলেন, “ভারী বৃষ্টি আর জলাধার থেকে জল ছাড়ার কারণে শিলাবতী নদীতে জল বেড়েছে। মনসুকায় ঝুমি নদীর জলস্তর কিছুটা বেড়েছে। পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।”
প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীর জলস্তর, নিচু এলাকার অবস্থা এবং জল ঢোকার প্রবণতা নিয়মিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করে উজানের বৃষ্টি এবং জলাধার থেকে জল ছাড়ার উপর। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলে সেই জল নদীপথে ঘাটালে এসে পৌঁছয়। আবার দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে ছাড়া জল দ্বারকেশ্বর হয়ে ঝুমি নদীতে মেশে। ফলে একাধিক দিক থেকে জল এলে নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের নজর এখন নদীর জলস্তরের দিকে। জলাধার থেকে ছাড়া জল ঘাটালে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি কতটা বদলায়, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে টানা বৃষ্টি ও উজানের জলের চাপে ঘাটালে ফের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জলস্তর বাড়ছে, গ্রামীণ সড়ক ডুবে গিয়েছে, কৃষিজমি ও মাঠে জল জমেছে। দুর্গাপুর ব্যারাজের ছাড়া জল ঘাটালে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টা ঘাটালের মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। प्रशासन পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে, আর স্থানীয়দের চোখ এখন নদীর জলস্তরের দিকে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments