HomeবিদেশB-21 ও F-35-এর মতো শত্রুপক্ষের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের নকল করতে বিশেষ ‘টার্গেট ড্রোন’ মার্কিন বিমানবাহিনীর

B-21 ও F-35-এর মতো শত্রুপক্ষের স্টেলথ যুদ্ধবিমানের নকল করতে বিশেষ ‘টার্গেট ড্রোন’ মার্কিন বিমানবাহিনীর

নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশপথে শত্রুর আক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল মার্কিন বিমানবাহিনী (ইউএস এয়ার
Gemini_Generated_Image_m8qf18m8qf18m8qf

নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশপথে শত্রুর আক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল মার্কিন বিমানবাহিনী (ইউএস এয়ার ফোর্স)। ভবিষ্যতের হাই-টেক যুদ্ধের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অস্ত্র পরীক্ষা ও সেনা মহড়া চালানোর জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের ‘টার্গেট ড্রোন’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে পেন্টাগন। এই ড্রোনগুলি ছোট বাণিজ্যিক খেলনা ড্রোন থেকে শুরু করে বি-২১ এবং এফ-৩৫-এর মতো সর্বাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান ও স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানের হুবহু নকল করতে সক্ষম হবে।

Table of Contents

    মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রকাশিত সাম্প্রতিক ‘রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন’ (আরএফআই) অনুযায়ী, তারা এমন একটি বহুমুখী ড্রোন ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়, যা যেকোনো ধরনের বায়ুবাহিত হুমকির রূপ ধারণ করতে পারবে। শুধু তা-ই নয়, এই প্ল্যাটফর্মগুলিকে অত্যন্ত সস্তা ও সহজে উৎপাদনযোগ্য হতে হবে, যাতে সামরিক অনুশীলনের সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সেগুলি ধ্বংস হয়ে গেলেও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়। খরচ কমাতে এবং উৎপাদনের গতি বাড়াতে প্রথাগত প্রতিরক্ষা সংস্থার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও অপ্রচলিত প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেও এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে এই টার্গেট ড্রোনের প্রযুক্তিগত মাপকাঠি রাখা হয়েছে অত্যন্ত উচ্চস্তরে। প্রস্তাবিত ড্রোনগুলিকে ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে (ম্যাক ১.৬ বা তার বেশি) উড়তে এবং তীব্র বাঁক বা হাই-জি ম্যানুভার করতে সক্ষম হতে হবে। আধুনিক রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা (লো-অবজার্ভেবল রাডার ক্রস-সেকশন), ইনফ্রারেড সিগনেচার, রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি নির্গমন এবং ইলেকট্রনিক আক্রমণের ক্ষমতাও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে হবে এই ড্রোনগুলিকে। ফলে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী কেবল আকারের দিক থেকেই নয়, ইলেকট্রনিক এবং সেন্সরগত দিক থেকেও আধুনিক স্টেলথ বিমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভ্যাস চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা পাবে।

    কেবল ছোট ও দ্রুতগামী যুদ্ধবিমানই নয়, সি-১৩০ হারকিউলিসের মতো বিশালাকার সামরিক পরিবহন বিমান, নজরদারি বিমান (AWACS) এবং স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানের নকল করার মতো আলাদা ড্রোনও তৈরি করা হবে। এগুলির ক্ষেত্রে অতি-উচ্চ গতির বদলে বড় শারীরিক কাঠামো, থার্মাল সিগনেচার ও নির্দিষ্ট রাডার প্রতিচ্ছবি তৈরি করাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছোট ড্রোন দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণের (Swarm Operations) মোকাবিলা করার প্রস্তুতি হিসেবে গ্রুপ ১ থেকে গ্রুপ ৫ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের মনুষ্যবিহীন আকাশযানের নকশাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই প্রকল্পে।

    বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহিনী বিকিউএম-১৬৭এ এবং পুরনো এফ-১৬ বিমানকে রূপান্তর করে তৈরি কিউএফ-১৬ টার্গেট ড্রোন হিসেবে ব্যবহার করে। তবে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ বিমানকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে এই পুরনো ব্যবস্থাগুলি সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং খরচের দিক থেকেও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সেই অভাব মেটাতেই এমন নতুন প্রযুক্তির অবতারণা, যা আধুনিক সেন্সর ও ক্ষেপণাস্ত্রকে তীব্র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবে, আবার একই সঙ্গে অনুশীলনের স্বার্থে কম খরচে সহজে ব্যবহারও করা যাবে।

    No Comments

    তাজা খবর

    একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

    Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved