Last updated: October 5th, 2026 at 03:02 pm

নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ককপিটের ভিতরে হামলার ঘটনায় একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইট FZ1073-এ সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি তাঁর ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। পরে যাত্রী ও অন্য পাইলটদের তৎপরতায় বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। কিন্তু ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ইজ়রায়েলের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে—কারণ বিমানের যাত্রী এবং ক্রুদের তালিকা আগেই ইজ়রায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ইজ়রায়েলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে যাত্রী ও ক্রুদের তথ্য পাঠানো হয়েছিল। সেই তালিকায় পাইলটদের নাম এবং তাঁদের জাতীয়তার তথ্যও ছিল। কিন্তু হামাম আল-হামামিকে নিয়ে কোনও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়নি। পরে জানা যায়, ওমানি এই পাইলট এর আগেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন। ফলে এখন তদন্তকারীদের সামনে প্রশ্ন, আগাম তথ্য থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্যের ভিত্তিতে কেন কোনও সতর্কতা তৈরি হল না?
হামাম আল-হামামি আগে ওমান এয়ারে প্রশিক্ষণরত পাইলট হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সেই সময় তাঁর অনলাইন কার্যকলাপ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসনিক কাজে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্ত সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরে তিনি ওই সংস্থা ছেড়ে দেন। কী ভাবে পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ে তাঁর নিয়োগ হল এবং শেষ পর্যন্ত ইজ়রায়েলগামী বিমানের ককপিটে তিনি পৌঁছে গেলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ইজ়রায়েলের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিদেশি বিমানের যাত্রী ও ক্রুদের তথ্য আগে থেকে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আইনের অধীনে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট তথ্য আগাম জমা দিতে হয়। সেই তথ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও পৌঁছনোর কথা। কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে সেই তালিকা কী ভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়ে এখনই স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর ইজ়রায়েল ইতিমধ্যেই বিদেশি বিমানের পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে বিদেশি বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাইলটদের পরিচয়, পেশাগত ইতিহাস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আরও গভীর ভাবে যাচাই করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ঘটনার দিন বিমানটি আচমকা ভয়াবহ ভাবে নীচে নামতে শুরু করেছিল। ক্যাপ্টেনকে আক্রমণের পর হামাম বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েক জন যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
তবে তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। হামামের উদ্দেশ্য, তাঁর আগের কর্মকাণ্ড এবং ফ্লাইদুবাইয়ে নিয়োগের প্রক্রিয়া—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইজ়রায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে। আগাম তালিকা হাতে থাকার পরেও এমন ঘটনা কী ভাবে ঘটল, সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments