Last updated: August 18th, 2026 at 09:50 pm

নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে আরও একবার প্রকাশ্যে চলে এল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই ও সমীকরণ। আগামী ২৮ অগস্ট ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের ঐতিহ্যবাহী সমাবেশস্থল কলকাতার মেয়ো রোডের অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে দলের দুটি ভিন্ন অংশ। একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল কালীঘাটপন্থী শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী গোষ্ঠী। একই দিনে এবং একই নির্দিষ্ট স্থানে পৃথক কর্মসূচি আয়োজনের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই জটিল মোড় নিয়েছে যে, মেয়ো রোডের প্রশাসনিক ছাড়পত্র আদায় ও নিজেদের কর্মসূচির নিশ্চয়তা পেতে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের দরবারে নিয়ে গিয়েছেন কালীঘাটপন্থীরা।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চকে কেন্দ্র করে যে ধরনের সমান্তরাল শক্তি প্রদর্শনের আবহ তৈরি হয়েছিল, ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের প্রাক্কালে ঠিক তেমনই এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মেয়ো রোডের গান্ধী মূর্তির পাদদেশ। প্রতি বছরের মতো এবারও দলীয় স্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন ও উপস্থিতিতে বড় মাপের রাজ্য সম্মেলন ও সমাবেশ করার প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু করেছে কালীঘাটপন্থী শিবির। মঞ্চ তৈরি, বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকদের কলকাতায় আনার ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক প্রচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে।
তবে জটিলতার সূত্রপাত ঘটে যখন একই স্থানে এবং একই দিনে নিজেদের পৃথক প্রতিষ্ঠা দিবস কর্মসূচি পালনের লিখিত আবেদন নিয়ে কলকাতা পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। তাদের পক্ষ থেকেও দাবি তোলা হয় যে, ছাত্র সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিতে তারা মেয়ো রোডেই সমাবেশ করতে চায়। একই স্থানে একই দিনে শাসকদলের দুটি পৃথক শিবিরের পক্ষ থেকে কর্মসূচি আয়োজনের আবেদন জমা পড়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়ে কলকাতা পুলিশ ও লালবাজারের শীর্ষ প্রশাসন। নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোর ক্ষেত্রে তৈরি হয় বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের টানাপোড়েনের মধ্যেই কালীঘাটপন্থী শিবিরের নেতারা আইনি পদক্ষেপের পথ বেছে নেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের ঘোষিত আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি এই চত্বরেই হয়ে আসছে, তাই কোনো সমান্তরাল গোষ্ঠীকে একই জায়গায় সভা করার সুযোগ দেওয়া দলীয় শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা—উভয় দিক থেকেই অনুচিত। সেই যুক্তিতে মেয়ো রোডে সভা করার একক অনুমতি নিশ্চিত করতে এবং বিরোধী শিবিরের আবেদন বাতিলের আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টিএমসিপির প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে এই সংঘাত কেবল একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক স্থানের দখল নেওয়ার লড়াই নয়; বরং এর গভীরে রয়েছে ছাত্র ও যুব নেতৃত্বের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী কৌশল। একদিকে দলের দীর্ঘদিনের পুরনো অনুগতরা নিজেদের একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে অপর পক্ষও সংগঠনে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে কোনো জায়গা ছাড়তে নারাজ। মেয়ো রোডের নিয়ন্ত্রণের এই আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন কার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং মহামান্য আদালত কী নির্দেশ জারি করে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আলিমুদ্দিন থেকে মুরলীধর সেন লেন পর্যন্ত সমগ্র রাজনৈতিক মহল।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments