Last updated: August 18th, 2026 at 09:48 pm

নিউজ ডেস্ক: কৌশলগত ভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী। সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা নিয়ে ইরানের সঙ্গে ওমানের একটি নতুন দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে এই কূটনৈতিক অগ্রগতির মাঝেই তেহরানকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বার্তা দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক বা আন্তর্জাতিক স্তরে যে ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেবে না ওয়াশিংটন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা কোনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অচলাবস্থা কাটেনি এবং দুই পক্ষই পূর্বের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, “আমাদের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য ছিল, এবং ভবিষ্যতেও সবসময় এটাই থাকবে যে—ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই, কোনো উপায়ে বা কোনো রূপেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে না পারে।” দুই দেশের মধ্যস্থতাকারীরা এই ৬০০ দিনের ট্রানজিশনাল পিরিয়ড বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি, ফলে এই অঞ্চলে সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্য দিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ সচল রাখার স্বার্থে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় হেঁটেছে ইরান। ওমান ও ইরানের যৌথ সীমান্তে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠকে প্রণালীটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন রুট এবং ভৌগোলিক মানচিত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই তেহরানে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “হরমুজ প্রণালীর ট্রানজিট রুট এবং নির্দিষ্ট মানচিত্র নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা তৈরি হয়েছে। আমরা এখন একটি সমন্বিত প্যাকেজ বা যৌথ বিবৃতি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছি।” বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজগুলি ইরানের উপকূলীয় সীমানার কাছাকাছি তৈরি বিশেষ রুট দিয়ে প্রণালীতে প্রবেশ করবে এবং ওমানের ভূখণ্ডের নিকটবর্তী রুট দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য জাহাজগুলির থেকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক বা টোল আদায় করা হবে না বলেও প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে।
তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের মূল দাবিকে কতটা সন্তুষ্ট করতে পারবে, তা নিয়ে বড়সর প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে। আমেরিকার মূল দাবি ছিল, ইরানের সমস্ত পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় মার্কিন ও মিত্র দেশগুলির জাহাজের ওপর থেকে যাবতীয় অবরোধ তুলে নিতে হবে। ওমানের সঙ্গে তেহরানের এই আঞ্চলিক চুক্তি মূলত সমুদ্রপথের অচলাবস্থা কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা হলেও, ওয়াশিংটন যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে স্থায়ী শান্তি ফেরানো কঠিন। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক কড়া বক্তব্য সেই জট আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments