Last updated: August 19th, 2026 at 05:51 pm

নিউজ ডেস্ক: ছাত্রসমাজের গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে নজিরবিহীন ‘ইউ-টার্ন’ নিল তামিলনাড়ুর প্রশাসন। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের যে কোনও ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল রাজ্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতর। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় চারদিক থেকে সমালোচনার ঝড় উঠতেই টনক নড়ে প্রশাসনের। শেষ পর্যন্ত নির্দেশিকা জারির ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথাতেই সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে পিছু হঠতে বাধ্য হল তারা।
নির্দেশিকার নেপথ্যে কী ছিল? সম্প্রতি কলেজ শিক্ষাদফতরের (ডাইরেক্টরেট অব কলেজিয়েট এডুকেশন বা ডিসিই) তরফে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়ে স্কুল শিক্ষা দফতর, উচ্চ শিক্ষা দফতর, পুলিশ এবং সমস্ত জেলা প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের যাতে কোনওভাবেই মিটিং, মিছিল, ঘেরাও বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হতে না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। মূলত বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও অন্যান্য রাজনৈতিক মঞ্চগুলির তরফে ডাকা লাগাতার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী কর্মসূচিকে রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি।
কী কারণে বিতর্ক ও ক্ষোভ? প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাজ্যের শিক্ষা মহল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। প্রশ্ন ওঠে— গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের কি মতপ্রকাশ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা নেই? বিরোধীদের অভিযোগ, দমনপীড়নের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল।
এই প্রসঙ্গে গত সপ্তাহেই ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রেখেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। নিজের ছাত্রজীবনের আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা ছাত্রসমাজের একটি মৌলিক অধিকার। মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গিতে ত্রুটি বা মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সেই কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। প্রধান বিচারপতির এমন মন্তব্যের পরেই তামিলনাড়ু সরকারের এই পদক্ষেপ জাতীয় স্তরেও ব্যাপক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবং তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মঙ্গলবারই নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রশাসন। কলেজ শিক্ষাদফতরের যুগ্ম অধিকর্তা সিনথিয়া সেলভি পি একটি নির্দেশিকায় জানিয়ে দেন, গত ১৭ অগস্ট জারি করা বিতর্কিত নির্দেশটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি কলা ও বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত জরুরি চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অগস্ট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের নেতৃত্বে একাধিক নতুন প্রতিবাদী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের এমন সংগঠিত আন্দোলনের আবহেই তামিলনাড়ু সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা জারির চেষ্টা ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের ‘কোর্স কারেকশন’ বা ভুল সংশোধনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শিক্ষা মহল ও সাধারণ ছাত্রসমাজ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments