Homeদেশপ্রেমানন্দ মহারাজের প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা, শিষ্যের রহস্যময় মৃত্যুর পরে এ বার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে উত্তাল ‘কেলিকুঞ্জ

প্রেমানন্দ মহারাজের প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা, শিষ্যের রহস্যময় মৃত্যুর পরে এ বার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে উত্তাল ‘কেলিকুঞ্জ

Premananda-1je2e

নিউজ ডেস্ক: বৃন্দাবন, উত্তরপ্রদেশশিষ্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এ বার আরও বড় আশঙ্কার কথা সামনে এল বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমকে ঘিরে। ‘শ্রী হিত রাধা কেলি কুঞ্জ’-কে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সেই দ্বন্দ্বের জেরেই প্রেমানন্দ মহারাজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক ধর্মীয় সংগঠনের নেতা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে মহারাজের জন্য জ়েড-প্লাস নিরাপত্তার দাবিও জানানো হয়েছে। তবে প্রাণসংশয়ের অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও সরকারি তদন্তে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংগ্রাম ন্যাসের সভাপতি দীনেশ শর্মার দাবি, কেলি কুঞ্জকে ঘিরে দু’টি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এক দিকে রয়েছেন দীর্ঘদিনের সেবায় যুক্ত মানুষজন, অন্য দিকে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যাঁরা সাধুর বেশে আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত সেবকদের পুলিশি যাচাই এবং মহারাজের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীন সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এরই মধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেমানন্দ মহারাজের এক শিষ্য দীপক লোধী ওরফে রসিক দুলারি শরণের মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বৃন্দাবনের গৌকৃপা কুঞ্জের একটি বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে মৃত্যুর আগে তাঁকে ছাদে কিছু সময় বসে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরে তদন্ত করলেও মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর থেকেই কেলি কুঞ্জ আশ্রমের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। একাধিক পরিবারের সদস্য তাঁদের পরিজনদের বিষয়ে খোঁজ নিতে আশ্রমের বাইরে গিয়ে বিক্ষোভও দেখান। সম্প্রতি ১৭ বছরের এক কিশোর শিষ্যকেও অন্য একটি আশ্রম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কিশোর জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বলে পরিবার জানিয়েছিল। পুলিশ তদন্তের পর তাঁকে বারসানার একটি আশ্রমে খুঁজে পায়।

বিতর্কের আবহে আশ্রম কর্তৃপক্ষও বিবৃতি দিয়েছে। কেলি কুঞ্জ ট্রাস্ট জানিয়েছে, দীপকের মৃত্যুর ঘটনায় তারা শোকাহত এবং পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর আবেদনও জানানো হয়েছে।

অন্য দিকে, আশ্রমের পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে নিয়মকানুনেও। অক্টোবরের শুরু থেকে দীক্ষা সংক্রান্ত কিছু কর্মসূচি এবং নির্দিষ্ট দর্শন-ব্যবস্থা স্থগিত করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। ফলে শিষ্যের মৃত্যু, নিখোঁজের অভিযোগ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব—পরপর একাধিক ঘটনায় কেলি কুঞ্জ এখন পুলিশের তদন্ত ও জনচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।

No Comments

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved