Homeকলকাতাপুজোর আগে সল্টলেকের রাস্তা সংস্কারে বড় চমক বিধাননগরের! পিচের বদলে জল-যন্ত্রণার সমাধান এবার মজবুত কংক্রিট ব্লকে

পুজোর আগে সল্টলেকের রাস্তা সংস্কারে বড় চমক বিধাননগরের! পিচের বদলে জল-যন্ত্রণার সমাধান এবার মজবুত কংক্রিট ব্লকে

নিউজ ডেস্ক: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। আকাশে-বাতাসে ইতিমধ্যেই শরতের আগমনী বার্তা। কিন্তু এই
road repair

নিউজ ডেস্ক: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। আকাশে-বাতাসে ইতিমধ্যেই শরতের আগমনী বার্তা। কিন্তু এই উৎসবের আবহের মধ্যেই শহরবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বর্ষার খামখেয়ালি বৃষ্টি এবং তার জেরে তৈরি হওয়া রাস্তার বেহাল দশা। প্রতি বছরই বৃষ্টির মরশুমে শহরের বিভিন্ন রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয় বড় বড় খানাখন্দ। আর সেই জলমগ্ন, ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চূড়ান্ত নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার এক স্থায়ী সমাধান খুঁজতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করল বিধাননগর পুরসভা। বৃষ্টির জলে পিচের রাস্তার ক্ষতি রুখতে এবং রাস্তার স্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়াতে এবার সনাতনী বিটুমিন বা পিচের বদলে কংক্রিটের ব্লক (Concrete Blocks) পাতার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।

Table of Contents

    ইতিমধ্যেই সল্টলেক-সহ বিধাননগর পুরসভা এলাকার ২২টি গুরুত্বপূর্ণ ও মূল রাস্তায় পিচের আস্তরণ সরিয়ে সেখানে অত্যাধুনিক কংক্রিটের ব্লক বসানোর কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের যে সমস্ত রাস্তায় জল জমার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি এবং যেখানকার রাস্তা প্রতি বছর বর্ষায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রাথমিকভাবে সেই রাস্তাগুলিকেই এই প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের এই ২২টি রাস্তার কাজ শেষ হলে, আগামী দিনে শহরের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাকে একই পদ্ধতিতে কংক্রিট ব্লকের সাহায্যে ঢেলে সাজানো হবে বলে পুরসভার তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে শহরের রাস্তাঘাট যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ মসৃণ ও নিরাপদ হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    বিধাননগর পুরসভার অন্দরমহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাস্তা সংস্কারের এই মেগা প্রকল্পের জন্য পুরসভার তরফে মোট প্রায় ৬৩ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিধাননগর পুরসভার অন্তর্গত ৪১টি ওয়ার্ডের মোট ১৯৩টি রাস্তাকে নতুন করে সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এই ১৯৩টি রাস্তার মধ্যে বেশ কিছু রাস্তাকে কংক্রিট ব্লকের মাধ্যমে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অনুমোদন এবং টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। শহরের একাধিক জায়গায় এখন দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নির্মাণকর্মীরা।

    সল্টলেকের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল এলাকার ভেতরের দিকের রাস্তাগুলির বেহাল দশা নিয়ে। বর্ষা এলেই সল্টলেকের বিভিন্ন ব্লকের ভেতরের রাস্তাগুলি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই রাস্তাগুলির মেরামতির কাজ শুরু হলেও, একটি বড় সমস্যা থেকে গিয়েছিল। দেখা যাচ্ছিল, পুরনো রাস্তার ওপর যে প্যাচওয়ার্ক বা জোড়াতালির কাজ করা হচ্ছিল, তা বৃষ্টির জলে খুব দ্রুত ধুয়ে মুছে গিয়ে ফের গর্তের সৃষ্টি করছে। এতে নাগরিকদের ক্ষোভ বাড়ছিল। তাই এবার আর কোনও সাময়িক প্যাচওয়ার্ক নয়, পুজোর আগে একেবারে গোড়া থেকে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের পথে হেঁটেছে প্রশাসন। শুধুমাত্র সল্টলেক এলাকার মোট ৬৩টি রাস্তা আমূল সংস্কার করার জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যে মূল ট্রাফিক চলাচলকারী বেশ কয়েকটি রাস্তাকে সম্পূর্ণরূপে কংক্রিট ব্লকে মুড়ে ফেলা হবে।

    কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানা গিয়েছে, বিধাননগর উত্তর থানার সামনের রাস্তাটি, যা সারা বছরই খারাপ থাকার জন্য কুখ্যাত, সেখানে বর্তমানে পিচ তুলে ফেলার কাজ শেষ করে কংক্রিট ব্লক বসানোর কাজ চলছে। একইভাবে সল্টলেকের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা অনিন্দিতা আইল্যান্ডের সামনের রাস্তাতেও জোরকদমে কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই এই রাস্তার একদিকের লেনে ব্লক বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবার অন্য লেনেও দ্রুত কংক্রিটের ব্লক পাতা হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।

    কংক্রিট ব্লক দিয়ে রাস্তা তৈরির এই ধারণা কিন্তু বিধাননগরে একেবারে নতুন নয়। আজ থেকে বছর দুয়েক আগে পরীক্ষামূলকভাবে কাদাপাড়া মোড় থেকে সল্টলেকে ঢোকার মুখে একটি অপেক্ষাকৃত ছোট অংশে কংক্রিটের ব্লক পাতা হয়েছিল। আগে মূলত এই ধরনের ছোট ও নির্দিষ্ট এলাকার জন্যই কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করা হত। কিন্তু কাদাপাড়ার সেই রাস্তায় দেখা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টি বা লাগাতার যানজটেও এই রাস্তা অত্যন্ত মজবুত থাকছে এবং এতে জল জমার কারণে কোনও গর্ত তৈরি হচ্ছে না। সেই সফল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এবার গোটা রাস্তাজুড়ে কংক্রিটের ব্লক বসানোর এই বৃহত্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা।

    পুরসভার এক পদস্থ আধিকারিক এই ব্লকের প্রযুক্তিগত দিকটি ব্যাখ্যা করে বলেন, “রাস্তার দু’ধারে ফুটপাতের ওপর হাঁটার জন্য যে ধরনের পেভার ব্লক (Paver Block) ব্যবহার করা হয়, এই রাস্তার ব্লকগুলি তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। মূল রাস্তায় ব্যবহৃত এই ব্লকগুলি আকারে অনেক বেশি চওড়া এবং এদের পুরুত্ব বা থিকনেসও অনেক বেশি। যেহেতু এই রাস্তা দিয়ে বাস, লরি বা অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল করবে, তাই এই ব্লকগুলির ওজন ধারণ ক্ষমতা (Load bearing capacity) সাধারণ ব্লকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রাখা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই ব্লকগুলি সহজে নষ্ট হয় না এবং বৃষ্টির জলে এদের কোনও ক্ষতি হয় না। তাই মূল রাস্তাগুলিতে আমরা এই ব্যবস্থা করছি। তবে সল্টলেকের বিভিন্ন ব্লকের ভেতরের দিকের যে রাস্তাগুলি রয়েছে, সেখানে আমরা বিটুমিন বা পিচের সঙ্গে ম্যাস্টিক (Mastic Asphalt) ব্যবহার করছি, যাতে সেই রাস্তাগুলিও দীর্ঘস্থায়ী হয়।”

    সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে বিধাননগর পুরসভার এই উদ্যোগ সল্টলেক ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মনে বিপুল আশার সঞ্চার করেছে। এবার বর্ষায় অন্তত খানাখন্দে ভরা রাস্তার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে, এমনটাই প্রত্যাশা শহরবাসীর।

    No Comments

    তাজা খবর