
নিউজ ডেস্ক: নীলরতন সরকার (NRS) মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নার্স রূপালী বর্মনের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নেমে নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড়ের মুখোমুখি পুলিশ। হাসপাতালের শৌচাগার থেকে উদ্ধারের পর মৃত নার্সের মোবাইলটি হাতে পেলেও তদন্তকারীদের হাত সম্পূর্ণ খালি। ফোন পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, রূপালীদেবীর মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপের সমস্ত মেসেজ, ইনবক্স এবং কল হিস্ট্রি একেবারে মুছে ফেলা বা ‘ডিলিট’ করা হয়েছে। ফোনের ডিরেক্টরিতে কেবল কয়েকটি সংরক্ষিত ফোন নম্বর ছাড়া যোগাযোগের যাবতীয় তথ্য উধাও হয়ে যাওয়ায় ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান ও সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ রূপালীদেবী একাই শৌচাগারে প্রবেশ করেন। তার প্রবেশের পূর্বে ভিতরে কেউ উপস্থিত ছিল না এবং ১০টা ২৭ মিনিটে দেহ উদ্ধারের মধ্যবর্তী সময়ে অন্য কেউ সেখানে ঢোকেওনি। ফলে একটি সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে যে, শৌচাগারে বসেই অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তিনি নিজে সমস্ত ডেটা মুছে ফেলেছিলেন। অপর একটি দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে— পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী কিংবা অন্য কেউ আগেই মোবাইল থেকে যাবতীয় তথ্য ও কথা বলার প্রমাণ লোপাট করেছিল কি না। যদিও তাঁর স্বামী রাহুলবাবু পরিবারের অভ্যন্তরীণ কোনো অশান্তির কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
তবে রূপালীদেবী কেনই বা নিজে সমস্ত চ্যাট ও কল লিস্ট মুছে ফেললেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁর মোবাইলে এমন কোনো স্পর্শকাতর তথ্য বা কথোপকথন ছিল, যা জানাজানি হলে তাঁর ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে বড়সড় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা ছিল। কোনো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা মানসিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার তিনি হচ্ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিলিট হওয়া সব মেসেজ ও কল ডেটা পুনরুদ্ধার (Retrieve) করতে মোবাইল ফোনটি ইতিমধ্যেই সাইবার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, রূপালীদেবীর সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রবল মানসিক চাপের (Stress) মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। কাজের চাপ ছাড়াও সন্তান নেওয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। এই সমস্ত তথ্য সামনে রেখে সাইবার ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments