Last updated: August 15th, 2026 at 12:58 pm
ক্ষমা চেয়েও পার পেলেন না অনন্ত মহারাজনিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রনেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে সমগ্র বাঙালি সমাজ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। তবে ভিডিও বার্তায় অনুশোচনা প্রকাশ করলেও আইনি পদক্ষেপ থেকে রেহাই মিলল না তাঁর। অনন্তর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো, বিদ্বেষপূর্ণ ভাষণ এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপরাধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) জামিন অযোগ্য তিনটি পৃথক ধারায় শুক্রবার মামলা দায়ের করেছে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, “অনন্ত মহারাজ ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন ভালো কথা, কিন্তু আইন নিজের পথে চলবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর ২৮৭টি বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইতিমধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এ পর্যন্ত ৬টি এফআইআর দায়ের হওয়ার পাশাপাশি ৫ জন অনুগামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হতেই পারেন, কিন্তু বাঙালি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে কেউ নন।”
অন্যদিকে, অনন্ত মহারাজের বিতর্কিত মন্তব্য এবং নিউ আলিপুরে নেতাজি মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এলগিন রোডে নেতাজি ভবনের সামনে প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন শুরু হলে পুলিশ অনুমতি না থাকায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়সহ একাধিক নেতাকে গ্রেফতার করে। শিলিগুড়িতে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসেন সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। নিউ আলিপুরে ভাঙা মূর্তির সামনে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তবে নিউ আলিপুরের ওই স্থানে ইতিমধ্যেই একটি নতুন নেতাজির আবক্ষ মূর্তি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে অনশনে বসেছেন এক সাধারণ গৃহবধূ এবং লালবাজার সাইবার ক্রাইম শাখায় তৃণমূলের আইটি সেল পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই এক জনসভা থেকে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজ সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে অনন্তর বিরুদ্ধে। গত ৭ আগস্ট কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল দে একটি জেনারেল ডায়রি করেন। পরবর্তীতে সরকার কড়া মনোভাব গ্রহণ করায় বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়ার পর ওই জিডি-কেই এফআইআর (কোতোয়ালি থানা কেস নম্বর ৭৯২/২০২৬) হিসেবে গণ্য করে পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত শুরু করল পুলিশ।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments