Homeমালদাআবাস যোজনায় অযোগ্যদের টাকা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ! সাড়ে ১২ হাজারকে আইনি নোটিস, মালদহে বড় বার্তা দিলীপ ঘোষের

আবাস যোজনায় অযোগ্যদের টাকা ফেরাতে কড়া পদক্ষেপ! সাড়ে ১২ হাজারকে আইনি নোটিস, মালদহে বড় বার্তা দিলীপ ঘোষের

নিউজ ডেস্ক: সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, অথচ সরকারি টাকা নিয়েছেন—এমন উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত
resizeplus_dilip-ghosh-251047956-16x9_0

নিউজ ডেস্ক: সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, অথচ সরকারি টাকা নিয়েছেন—এমন উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ১২ হাজার অযোগ্য উপভোক্তাকে টাকা ফেরতের জন্য আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার মালদহ সফরে গিয়ে প্রাতঃভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, শুধু এই সংখ্যাতেই বিষয়টি থেমে থাকবে না। যাচাই প্রক্রিয়া এগোলে আরও অযোগ্য উপভোক্তাকে নোটিস পাঠানো হতে পারে।

আবাস যোজনার টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে। কোথাও প্রকৃত উপভোক্তার বদলে অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার অভিযোগ, কোথাও আবার সরকারি প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা চাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই আবহে যোগ্যতা যাচাইয়ের পর যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের কাছ থেকে সরকারি অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেই মন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।

দিলীপের দাবি, রাজ্যে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেই তালিকা ধরে ধাপে ধাপে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজও এগিয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ উপভোক্তা ইতিমধ্যেই প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ পেয়েছেন। আরও প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ উপভোক্তা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। দ্বিতীয় কিস্তির ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ ২০ হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে তালিকা যাচাই এবং বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখার পর বেশ কিছু নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ হাজার উপভোক্তাকে আবাস প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা ইতিমধ্যেই সরকারি অর্থ পেয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সেই টাকা ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই প্রায় সাড়ে ১২ হাজার অযোগ্য উপভোক্তাকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানান দিলীপ। শুধু নোটিস পাঠিয়েই প্রশাসন থেমে থাকবে না বলেও তাঁর বক্তব্য। যাঁরা সরকারি প্রকল্পের টাকা নেওয়ার যোগ্য ছিলেন না, তাঁদের প্রত্যেককেই নিয়ম মেনে টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকায় এমন কিছু নামও রয়েছে, যাঁদের ক্ষেত্রে ভোটার সংক্রান্ত সরকারি নথিতে বিশেষ ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। ‘ডি-ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত কয়েকজনের নামও এই তালিকায় পাওয়া গিয়েছে বলে তাঁর দাবি। সরকারি নথি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে এই গোটা প্রক্রিয়ায় শুধু টাকা ফেরতের নির্দেশ নয়, ইতিমধ্যেই কতটা সাড়া মিলেছে, সেই পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় এক হাজার অযোগ্য উপভোক্তা ইতিমধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। কেউ কেউ একবারে পুরো অর্থ ফেরত দিতে না পারায় কিস্তিতে টাকা দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।

মন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের অর্থ কোনওভাবেই অযোগ্য ব্যক্তির হাতে থাকার কথা নয়। যাচাইয়ের পর যাঁদের নাম প্রকল্পের শর্ত পূরণ করছে না বলে ধরা পড়েছে, তাঁদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে প্রকৃত উপভোক্তার পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি সুবিধা না পান, সে বিষয়েও নজরদারি আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

মালদহে আবাস যোজনা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। রাজনৈতিক পালাবদলের পর জেলার বিভিন্ন ব্লকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের টাকা বণ্টন নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। কোথাও প্রকৃত উপভোক্তার বদলে অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। আবার কোথাও ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপভোক্তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এই ধরনের অভিযোগের জেরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষ করে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির জন্য আবাসন প্রকল্পের টাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপও রয়েছে। একদিকে অযোগ্যদের বাদ দেওয়া, অন্যদিকে প্রকৃত উপভোক্তাদের তালিকা নিশ্চিত করা—দুই দিকেই নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

শনিবার মালদহে চা-চক্রে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েও রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন দিলীপ। আবাস প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত বিতর্ক, রাজ্য রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের অবস্থান এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন।

তবে এ দিনের সফরে আবাস যোজনার টাকা ফেরতের বিষয়টিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ চালিয়ে যেতে চাইছে সরকার। ইতিমধ্যে যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের পর আরও কতজনের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।

সরকারি আবাসন প্রকল্পের অর্থ যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় পরিবারগুলির কাছেই পৌঁছয়, সেই লক্ষ্যেই যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাঁরা অযোগ্য হয়েও অর্থ পেয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সরকারি টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এবং কার্যকর হয়, তার উপরও নজর থাকবে। ফলে আবাস যোজনায় উপভোক্তা তালিকা যাচাই থেকে শুরু করে টাকা ফেরতের এই অভিযান আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved