
নিউজ ডেস্ক : ক্রিকেটের মাঠে তাঁর নেতৃত্ব, টেলিভিশনের পর্দায় ‘দাদাগিরি’—দুই ভূমিকাতেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এ বার সেই পরিচিত ‘দাদা’কেই দেখা যাবে আরও এক নতুন ভূমিকায়। ‘বিগ বস বাংলা’-র সঞ্চালকের আসনে বসতে চলেছেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক। গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের আগে শো নিয়ে একাধিক বিষয়ে মুখ খুলেছেন সৌরভ। গসিপ থেকে শুরু করে শোয়ের অন্দরমহলের রাজনীতি, প্রতিযোগীদের ঝগড়া কিংবা প্রেম—কোনও প্রশ্নই এড়িয়ে যাননি তিনি।
গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের আগে এক সাক্ষাৎকারে সৌরভকে ঘিরে ছিল একের পর এক মজার প্রশ্ন। ক্রিকেট মাঠে যেমন কঠিন বল সামলানোর অভ্যাস রয়েছে তাঁর, তেমনই সাক্ষাৎকারেও বেশ সহজ এবং রসিক ভঙ্গিতে প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়েছেন তিনি। ‘বিগ বস’-এর মতো একটি রিয়্যালিটি শোয়ের সঞ্চালক হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্ব নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল এমনিতেই তুঙ্গে। সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক কথাবার্তা।
‘বিগ বস’-এর নামের সঙ্গে গসিপ, ব্যক্তিগত জীবনের অজানা গল্প এবং ঘরের নানা টানাপড়েন ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাই সৌরভকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি যদি কখনও প্রতিযোগী হিসেবে এই ঘরে ঢুকতেন, তা হলে নিজের জীবনের কোন অজানা দিক দর্শকদের সামনে প্রকাশ করতেন?
প্রশ্ন শুনে অবশ্য সোজা প্রতিযোগীর ভূমিকায় যাওয়ার পথেই হাঁটেননি সৌরভ। বরং হাসতে হাসতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তিনি প্রতিযোগী হওয়ার বদলে সঞ্চালকের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, প্রতিযোগী হলে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা কথা প্রকাশ করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু সঞ্চালকের ভূমিকায় থেকে বরং অন্যদের গল্প শোনার সুযোগ বেশি। আর সেটাই তাঁর কাছে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ।
সৌরভের এই রসিক উত্তর থেকেই স্পষ্ট, ‘বিগ বস’-এর মূল আকর্ষণ সম্পর্কে তাঁর ধারণা যথেষ্ট পরিষ্কার। এই শোয়ে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মতবিরোধ এবং আচরণই গল্প তৈরি করে। সঞ্চালকের কাজ সেই গল্পের মধ্যে দর্শকদের নিয়ে যাওয়া, আবার প্রয়োজন হলে প্রতিযোগীদের সামনে প্রশ্নও তুলে ধরা। সেই দায়িত্বই এ বার সামলাতে হবে তাঁকে।
এর পরেই আসে আরও ব্যক্তিগত একটি প্রশ্ন। ‘বিগ বস’-এর ঘরে প্রতিযোগীদের বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। মোবাইল ফোন কিংবা ঘড়ির মতো দৈনন্দিন জীবনের নানা অভ্যাস থেকেও দূরে থাকতে হয় তাঁদের। সৌরভকে যদি একই ভাবে মোবাইল ও ঘড়ি ছাড়া দীর্ঘদিন থাকতে বলা হয়, তিনি পারবেন কি না—জানতে চাওয়া হয় সেটিও।
সৌরভের উত্তর ছিল তাঁর স্বভাবসিদ্ধ মজার ভঙ্গিতে। মোবাইল কিংবা ঘড়ি ছাড়া থাকা হয়তো কোনও ভাবে সম্ভব, কিন্তু তাঁর মেয়ে সানা গঙ্গোপাধ্যায়কে ছাড়া টানা একশো দিন থাকা তাঁর পক্ষে একেবারেই সম্ভব নয়—এই কথাই স্পষ্ট করে দেন তিনি। মেয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা অজানা নয়। ফলে ‘বিগ বস’-এর মতো দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবার থেকে দূরে থাকার প্রসঙ্গে সানার কথা উল্লেখ করতেই তাঁর উত্তর মুহূর্তে আবেগঘন হয়ে ওঠে।
সৌরভের এই জবাব নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। কারণ ক্রিকেট মাঠের আক্রমণাত্মক অধিনায়ক কিংবা টেলিভিশনের পরিচিত সঞ্চালকের বাইরে, এই উত্তরে ধরা পড়েছে এক বাবার সহজ আবেগ। সানাকে ছাড়া এতদিন থাকা তাঁর কাছে কতটা কঠিন, সেই কথাই মজার ছলে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
তবে ‘বিগ বস’-এর ঘরের আবেগের পাশাপাশি রয়েছে সংঘাতও। প্রতিযোগীদের মধ্যে মতবিরোধ, ঝগড়া, প্রেম, বন্ধুত্ব, গসিপ—সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় রিয়্যালিটি শোয়ের নাটকীয়তা। সেই পরিস্থিতি সঞ্চালক হিসেবে কী ভাবে সামলাবেন সৌরভ? এই প্রশ্নও করা হয়েছিল তাঁকে।
ক্রিকেটের সঙ্গে রিয়্যালিটি শোয়ের মিল খুঁজেই তার উত্তর দিয়েছেন সৌরভ। তাঁর মতে, ক্রিকেটারদের জীবনও কোনও ভাবেই বিতর্ক, সমালোচনা, গসিপ কিংবা নানা ধরনের আলোচনার বাইরে নয়। মাঠে খারাপ পারফরম্যান্স হলে সমালোচনা যেমন হয়, তেমনই ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা চলে। ফলে ‘বিগ বস’-এর ঘরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামলানোর অভিজ্ঞতা একেবারে অচেনা নয় তাঁর কাছে।
বরং বর্তমান সময়ে ক্রিকেট এবং বিনোদন জগতের খবরকে ঘিরে নানা ধরনের গল্প তৈরি হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঘটনার পাশাপাশি গল্প তৈরির প্রবণতা দেখা যায় বলেও ইঙ্গিত করেছেন সৌরভ। ফলে ‘বিগ বস’-এর গসিপ কিংবা অন্দরমহলের উত্তেজনা সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের জনসমক্ষে থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
নতুন দায়িত্বের জন্য নিজের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন সৌরভ। ক্রিকেটের মতোই কোনও নতুন দায়িত্ব গ্রহণের আগে মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। তবে তাঁর কথাবার্তা থেকে বোঝা গিয়েছে, ‘বিগ বস বাংলা’ নিয়ে বিশেষ চাপের বদলে আগ্রহই বেশি কাজ করছে।
এই শোয়ের সঞ্চালক হিসেবে সৌরভকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা যে যথেষ্ট বেশি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। ‘দাদাগিরি’-র মাধ্যমে বাংলা বিনোদন জগতে তাঁর যে স্বতন্ত্র সঞ্চালন-স্টাইল তৈরি হয়েছে, ‘বিগ বস’-এর মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে সেই স্টাইল কী ভাবে বদলায়, সেটিই এখন দেখার।
‘বিগ বস’-এর ফরম্যাটে সঞ্চালকের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগীদের আচরণ, তাঁদের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্ব এবং দর্শকদের আগ্রহ—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রেখে অনুষ্ঠান এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তাই ক্রিকেট মাঠে কৌশল সাজানোর অভিজ্ঞতা থাকা সৌরভ এই নতুন মঞ্চে কী ধরনের কৌশল প্রয়োগ করেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই গ্র্যান্ড ওপেনিংকে ঘিরে আরও কয়েকটি সম্ভাব্য চমকের খবর সামনে এসেছে। শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় দলের প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিং-কে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে তাঁকে প্রতিযোগী হিসেবে নয়, শুধুমাত্র গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের বিশেষ পর্বে উপস্থিত থাকতে দেখা যেতে পারে বলেই জল্পনা।
শুধু হরভজন নন, প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসকেও অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সামনে আসেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের মঞ্চে কারা হাজির হন, তা জানার জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
‘বিগ বস বাংলা’-র গ্র্যান্ড ওপেনিং যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। কারণ নতুন সিজনের প্রতিযোগীরা যেমন দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে, তেমনই সঞ্চালকের আসনে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এ বার অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ।
ক্রিকেটের ময়দান থেকে টেলিভিশনের মঞ্চ—সৌরভের কেরিয়ারে নতুন ভূমিকায় পা রাখার ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। কিন্তু ‘বিগ বস’-এর মতো একটি রিয়্যালিটি শোয়ের সঞ্চালনা তাঁর আগের কাজগুলির থেকে একেবারেই আলাদা। এখানে ক্রিকেটের মতো নির্দিষ্ট নিয়ম বা স্কোরবোর্ড নেই। রয়েছে মানুষের আচরণ, সম্পর্ক, আবেগ এবং মুহূর্তের সিদ্ধান্ত। সেই জটিল পরিবেশে ‘দাদা’ কী ভাবে নিজের সঞ্চালনার ছাপ রাখেন, সেটিই এখন দেখার।
এক সময় ক্রিকেট মাঠে প্রতিপক্ষের বোলারকে পাল্টা আক্রমণে চাপে ফেলার জন্য পরিচিত ছিলেন সৌরভ। এ বার তাঁর সামনে অন্য রকমের চ্যালেঞ্জ। ‘বিগ বস’-এর ঘরের বাউন্সার সামলে প্রতিযোগীদের সঙ্গে দর্শকদেরও কী ভাবে নিজের সঙ্গে রাখেন, সেই উত্তর মিলবে অনুষ্ঠান শুরু হলেই।
সব মিলিয়ে ‘বিগ বস বাংলা’-র নতুন সিজন শুরু হওয়ার আগেই সৌরভকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। তাঁর মজার উত্তর, সানাকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য এবং নতুন সঞ্চালক হিসেবে প্রস্তুতির কথা—সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের আগে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু পর্দা ওঠার। দেখা যাক, ‘দাদাগিরি’-র পর ‘বিগ বস’-এর মঞ্চে সৌরভের নতুন ইনিংস কতটা জমিয়ে তুলতে পারে বাংলা টেলিভিশন।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments