Homeপূর্ব মেদিনীপুরনন্দীগ্রামপড়ুয়াদের সঙ্গে মাটিতে বসে মিড ডে মিল খেলেন জেলাশাসক! নন্দীগ্রামের স্কুলে আচমকা প্রশাসনিক কর্তাদের হানা

পড়ুয়াদের সঙ্গে মাটিতে বসে মিড ডে মিল খেলেন জেলাশাসক! নন্দীগ্রামের স্কুলে আচমকা প্রশাসনিক কর্তাদের হানা

নিউজ ডেস্ক : স্কুলে আচমকাই হাজির জেলাশাসক। সঙ্গে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। তবে শুধুমাত্র স্কুল পরিদর্শন করেই ফিরে
resizeplus_Mid-Day-Meal-2026-08-b209f6a6bfbebe8000ad0e6509a49aad-1200×800

নিউজ ডেস্ক : স্কুলে আচমকাই হাজির জেলাশাসক। সঙ্গে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। তবে শুধুমাত্র স্কুল পরিদর্শন করেই ফিরে গেলেন না তাঁরা। খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে একেবারে মাটিতে বসে পাত পেড়ে দুপুরের খাবার খেলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার-সহ প্রশাসনের কর্তারা। পড়াশোনা থেকে স্কুলের পরিকাঠামো, মিড ডে মিলের মান থেকে পড়ুয়াদের সুযোগ-সুবিধা—সব কিছু নিয়েই তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

ঘটনাটি নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া সিদ্ধনাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। হঠাৎ করে জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের স্কুলে উপস্থিতি দেখে প্রথমে কিছুটা চমকে যান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পরে পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক ভাবে মিশে যেতে দেখে বদলে যায় পরিস্থিতি। বিশেষ করে দুপুরের খাবারের সময়ে জেলাশাসককে পড়ুয়াদের পাশে মাটিতে বসে খেতে দেখে খুশি খুদে পড়ুয়ারাও।

জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমারের সঙ্গে এ দিন স্কুলে পৌঁছন হলদিয়ার মহকুমাশাসক এবং জেলা ও ব্লক প্রশাসনের আরও কয়েক জন আধিকারিক। তাঁরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি সংলগ্ন হাই স্কুলও পরিদর্শন করেন। স্কুলের পরিকাঠামো, ছাত্রছাত্রীদের জন্য থাকা বিভিন্ন পরিষেবা এবং প্রশাসনের তরফে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেন আধিকারিকেরা।

শুধু নথিপত্র বা অফিসঘর ঘুরে পরিস্থিতি বোঝার বদলে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার উপর জোর দেন তাঁরা। স্কুলে কী কী সুবিধা রয়েছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে, পড়াশোনার পরিবেশ কেমন, পড়ুয়াদের কী ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রশাসনের কর্তারা।

এরই মধ্যে দুপুরের খাবারের সময় হয়ে যায়। পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে মিড ডে মিল খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জেলাশাসক-সহ আধিকারিকেরা। স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে মাটিতে বসে পাত পেড়ে খাবার খান তাঁরা। প্রশাসনিক কর্তাদের এ ভাবে নিজেদের সঙ্গে একই সারিতে বসে খাবার খেতে দেখে স্বাভাবিক ভাবেই উৎসাহিত হয়ে ওঠে ছাত্রছাত্রীরা।

খাওয়ার সময়ও অবশ্য শুধুমাত্র খাবার নিয়েই কথা হয়নি। পড়ুয়াদের সাধারণ জ্ঞান যাচাই করতেও নানা প্রশ্ন করেন জেলাশাসক। একটি স্কুলে পড়ুয়ারা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সাধারণ তথ্য সম্পর্কে কতটা অবগত, তা বোঝার চেষ্টা করেন তিনি।

জেলাশাসক জানতে চান, পড়ুয়ারা কোন ব্লকে পড়াশোনা করছে। তার পর প্রশ্ন করেন, স্কুলটি কোন জেলায় এবং কোন রাজ্যে অবস্থিত। সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। পড়ুয়াদের জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা কোন দেশে বসবাস করেন এবং সেই দেশের রাজধানীর নাম কী। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাকে এত কাছ থেকে পেয়ে প্রথমে কিছুটা ইতস্তত করলেও পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে খুদে পড়ুয়ারা।

এই আচমকা পরিদর্শন এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পড়ুয়া—দুই পক্ষই খুশি। প্রশাসনিক কর্তারা সরাসরি স্কুলে এসে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলায় তাঁদের সমস্যাগুলি সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

একই সঙ্গে স্কুল পরিদর্শনের সময় পরিকাঠামোগত বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হয়। স্কুলে প্রয়োজনীয় সুবিধা কতটা রয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের পরিষেবা পেতে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনও অসুবিধা রয়েছে কি না—সেই সমস্ত বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন আধিকারিকেরা। প্রশাসনের এই ধরনের সরাসরি পরিদর্শন স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মিড ডে মিল ঘিরে রাজ্যে বদলের ইঙ্গিত

নন্দীগ্রামের এই স্কুলে জেলাশাসকের পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে মিড ডে মিল খাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই রাজ্যের স্কুলগুলিতে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে চর্চা চলছে।

মিড ডে মিল প্রকল্পটি বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম পোষণ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হয়। স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে এই প্রকল্পে নির্দিষ্ট মেনু অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে এই খাবারের গুণমান, পুষ্টিমূল্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার একাধিক স্কুলে মিড ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্পের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনের হাতে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতার পর এ বার রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলার স্কুলে এই প্রকল্পের খাবার সরবরাহের দায়িত্ব অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন-এর হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত সাপ্তাহিক মেনুও প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের বক্তব্য, শুধুমাত্র খাবার পৌঁছে দেওয়া নয়, পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় খাবার তৈরির জায়গা থেকে শুরু করে স্কুলে তা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গুণমান নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের দায়িত্ব পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে রান্না, প্যাকেজিং, পরিবহণ এবং স্কুলে খাবার পৌঁছনোর পুরো প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।

তবে প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন এক নয়। স্কুলের পড়ুয়াদের খাদ্যাভ্যাস, স্থানীয় বাস্তবতা এবং পুষ্টির প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে মেনুতে পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কুল, প্রশাসন এবং অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে পরিষেবা ও খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনার কথাও জানিয়েছে অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন।

ফলে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া সিদ্ধনাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একেবারে পড়ুয়াদের পাশে বসে জেলাশাসকের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার ঘটনা শুধু সৌজন্যমূলক পরিদর্শন হিসাবেই নয়, স্কুলের বাস্তব পরিস্থিতি সরাসরি বোঝার একটি উদ্যোগ হিসাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনের কর্তারা নিজেরাই খাবারের সময়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলায় স্কুলের পরিবেশ, ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজন এবং মিড ডে মিল নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্কুলে প্রশাসনের এমন আচমকা উপস্থিতি আগামী দিনে আরও কী ধরনের পরিদর্শন বা নজরদারির পথ খুলে দেয়, সে দিকে নজর থাকবে। একই সঙ্গে রাজ্যের আরও স্কুলে পিএম পোষণ প্রকল্পের খাবার সরবরাহের দায়িত্বে পরিবর্তন এলে তার প্রভাব পড়ুয়াদের খাবারের মান ও পরিষেবায় কতটা পড়ে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved