Homeহুগলিহিন্দমোটরহিন্দমোটরে বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে র‍্যাপিডো চালকের মৃত্যু, ঋণের চাপে আত্মহত্যার অনুমান পুলিশের

হিন্দমোটরে বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে র‍্যাপিডো চালকের মৃত্যু, ঋণের চাপে আত্মহত্যার অনুমান পুলিশের

নিউজ ডেস্ক; গভীর রাতে বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে র‍্যাপিডো চালকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপাড়ার হিন্দমোটর এলাকায়। শুক্রবার রাতের
resizeplus_Screenshot 2026-08-29 194619_edited

নিউজ ডেস্ক; গভীর রাতে বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে র‍্যাপিডো চালকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপাড়ার হিন্দমোটর এলাকায়। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩০ বছরের যুবক স্বরূপানন্দ সাহুর। রাত প্রায় ১টা নাগাদ আবাসনের পাঁচ তলার ছাদ থেকে নীচে পড়ে যান তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে আবাসনের নীচে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দ্রুত উদ্ধার করে উত্তরপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, আর্থিক দেনার চাপ এবং পারিবারিক অশান্তির জেরেই হয়তো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বরূপানন্দ। তবে ঠিক কী কারণে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিন্দমোটরের একটি আবাসনে স্ত্রী কিরণবালাকে নিয়ে থাকতেন স্বরূপানন্দ। তাঁর সঙ্গে থাকতেন তাঁর মা-ও। যুবকের বাবা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন বলে প্রতিবেশীদের দাবি। শুক্রবার রাতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই আবাসনের পাঁচ তলার ছাদে ঘুমিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রাতের দিকে আচমকাই স্বরূপানন্দ ছাদ থেকে নীচে পড়ে যান। বিকট শব্দে কিংবা ঘটনার পর স্থানীয়দের নজরে আসে বিষয়টি। আবাসনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।

তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। আবাসনের নীচে যে জায়গায় যুবক পড়েছিলেন, সেটি ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কী ভাবে এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে যুবক নীচে পড়লেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বরূপানন্দের ব্যক্তিগত জীবনেও গত কয়েক বছর ধরে নানা টানাপড়েন চলছিল বলে পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুন কিরণবালার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় বেশ কিছু টাকা ধার করেছিলেন স্বরূপানন্দ। বিয়ের অনুষ্ঠানে বিপুল খরচের জেরে সেই ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই দেনা শোধ করা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি।

শুধু ঋণ নয়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, মাত্র দু’দিন আগেই স্বামী ও স্ত্রী দু’জনকে থানায় ডেকে পাঠিয়েছিল পুলিশ। পারিবারিক বিবাদ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয় এবং বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

এর পরেই শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। ফলে পুলিশের তদন্তে স্বাভাবিক ভাবেই ওই পারিবারিক বিবাদ এবং আর্থিক সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিবারের তরফে আরও জানা গিয়েছে, স্বরূপানন্দ তাঁর স্ত্রীর কিছু গয়না একটি বেসরকারি ঋণদাতা সংস্থার কাছে বন্ধক রেখেছিলেন। আর্থিক সঙ্কটের কারণে সেই গয়না বন্ধক রাখার ঘটনা নিয়েও সংসারে অশান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। ধীরে ধীরে পারিবারিক সমস্যার সঙ্গে দেনার চাপ যুক্ত হওয়ায় যুবক মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার তাপস মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ওই পরিবারটি আর্থিক সমস্যার মধ্যে ছিল বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর কথায়, কয়েক দিন আগে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগও কেটে দেওয়া হয়েছিল। অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে পরিবারে অশান্তি চলছিল এবং তার জেরে স্বরূপানন্দ মানসিক চাপে ছিলেন বলেও স্থানীয় ভাবে জানা গিয়েছে। তবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি না, নাকি অন্য কোনও ঘটনা ঘটেছে, পুলিশকে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অন্য দিকে, প্রতিবেশী অসীম বারিক জানিয়েছেন, স্বরূপানন্দ তাঁদের পরিচিত ছিলেন। তিনি র‍্যাপিডো বাইক চালিয়ে সংসার চালাতেন। তবে ঠিক কী ভাবে ওই যুবক ছাদ থেকে নীচে পড়লেন, তা তিনি জানেন না। তাঁর কথায়, আবাসনে স্বরূপানন্দ, তাঁর স্ত্রী এবং মা থাকতেন। যুবকের বাবা বাইরে থাকেন। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্তের উপরই ভরসা করছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার পর স্বরূপানন্দের মা ও স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ছাদে ঠিক কী ঘটেছিল, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও কথা কাটাকাটি হয়েছিল কি না, যুবক কখন ছাদ থেকে পড়ে যান এবং সেই সময় সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না—এমন একাধিক বিষয় জানতে তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

পাশাপাশি আবাসনের অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। পাঁচ তলার ছাদে ওঠার পথ, ছাদের রেলিং বা সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং যে জায়গা দিয়ে যুবক নীচে পড়েছেন, সেগুলিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে পুলিশের তদন্তকারীরা বোঝার চেষ্টা করছেন, এটি ইচ্ছাকৃত ভাবে ছাদ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা, নাকি কোনও ভাবে দুর্ঘটনাবশত তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।

মৃতদেহ ইতিমধ্যেই শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃতি সম্পর্কে তদন্তকারীদের কাছে আরও নির্দিষ্ট তথ্য আসতে পারে। পাশাপাশি যুবকের মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেন এবং সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

এই ঘটনায় আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। ঋণ এবং পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বরূপানন্দ আত্মহত্যা করেছেন—এমন সম্ভাবনা তদন্তে গুরুত্ব পেলেও পুলিশ এখনও সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না। ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, মাত্র দু’দিন আগে স্বামী-স্ত্রীকে থানায় ডেকে পারিবারিক সমস্যা মেটানোর পরামর্শ দেওয়ার পর কী এমন ঘটল যে গভীর রাতে ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল স্বরূপানন্দের? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, পরিবারের সদস্যদের বয়ান এবং ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক তথ্য মিলিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved