Homeকলকাতাঅভিষেকের পর এ বার ডেরেক ও’ব্রায়েনকে পুলিশের নোটিস, ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডে তলব রাজ্যসভার সাংসদকে

অভিষেকের পর এ বার ডেরেক ও’ব্রায়েনকে পুলিশের নোটিস, ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডে তলব রাজ্যসভার সাংসদকে

নিউজ ডেস্ক : ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে হোর্ডিং ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আঁচ এ বার পৌঁছল তৃণমূলের সর্বভারতীয় স্তরের
resizeplus_AITC Derek OBrien PC 1

নিউজ ডেস্ক : ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে হোর্ডিং ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার আঁচ এ বার পৌঁছল তৃণমূলের সর্বভারতীয় স্তরের নেতৃত্বের কাছেও। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এ বার রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নোটিস দিল কলকাতা পুলিশ। রবিবার দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস পৌঁছে দেন পুলিশ আধিকারিকেরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী সোমবার তাঁকে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

রবিবারের এই ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। এর আগের দিনও ডেরেকের বাড়িতে গিয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। কিন্তু সে সময় নোটিস গ্রহণ করার মতো কেউ বাড়িতে ছিলেন না বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ফলে শনিবার নোটিস দেওয়া সম্ভব হয়নি। রবিবার ফের তাঁর ঠিকানায় পৌঁছন তদন্তকারী দলের সদস্যেরা।

এ দিন বাড়ির ভিতর থেকে এক পরিচারিকা বাইরে এসে পুলিশের হাতে থাকা নোটিসটি গ্রহণ করেন। তাঁকে নোটিস নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ফোনে কথা বলার পর তাঁকেই পুলিশের দেওয়া নোটিসটি গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, ডেরেক নিজে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নোটিসটি গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আগামীকাল ডেরেক ও’ব্রায়েনকে থানায় ডাকা হয়েছে। ক্যামাক স্ট্রিটে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া উত্তেজনার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা বা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও তথ্য তাঁর কাছ থেকে জানার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। আপাতত তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের বাইরে তৃণমূলের নাম লেখা হোর্ডিং সরাতে গিয়েছিল কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশ। পুরসভার তরফে হোর্ডিং সরানোর উদ্যোগ ঘিরেই সেখানে জড়ো হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। হোর্ডিং খোলার কাজে তাঁরা বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তার পরেই পুলিশ এবং তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনই মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও এই ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট ভাবে জানা যাবে। পুলিশের তরফে ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট তিনটি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে দু’টি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসাবেই তাঁকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে শেক্সপিয়র সরণী থানায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

অভিষেকের পর ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নোটিস দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ মুখকে একই ঘটনার তদন্তে পুলিশের তলব ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাটি যে শুধুমাত্র স্থানীয় প্রশাসনিক বিষয় হয়ে থাকছে না, বরং তা রাজনৈতিক স্তরেও প্রভাব ফেলছে—ডেরেককে নোটিস দেওয়ার ঘটনায় সেই জল্পনা আরও বাড়ল।

তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি তদন্তের একটি প্রক্রিয়ামাত্র। কোনও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ, তাঁদের বক্তব্য জানা এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করার জন্য তদন্তকারীরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। ডেরেক ও’ব্রায়েনকে কেন নির্দিষ্ট ভাবে তলব করা হয়েছে, তাঁর কাছ থেকে ঠিক কী জানতে চাওয়া হবে, তা এখনও বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্য দিকে, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার পর থেকেই হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসন এবং তৃণমূলের মধ্যে টানাপড়েন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। পুরসভার বক্তব্য, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই হোর্ডিং সংক্রান্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছিল। অন্য দিকে, ঘটনাস্থলে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাধা এবং তার পরবর্তী উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এখন নজর আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুপুর ১২টার মধ্যে শেক্সপিয়র সরণী থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। তার আগেই ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও থানায় ডাকা হয়েছে। ফলে পর পর তৃণমূলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে পুলিশের নোটিস দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটিই এখন দেখার। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের পদক্ষেপই বা কী হয়—সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

এই পরিস্থিতিতে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার তদন্তে পুলিশ একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য নথিবদ্ধ করছে। ডেরেক ও’ব্রায়েনের ক্ষেত্রে সেই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী তথ্য উঠে আসে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর ডেরেককে নোটিস দেওয়ায় ঘটনাটি যে রাজনৈতিক ভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved