Homeউত্তর ২৪ পরগনামধ্যমগ্রামবহুতলে রং করতে গিয়ে ছিঁড়ল ক্যাটেল, মধ্যমগ্রামে মৃত্যু দুই নির্মাণকর্মীর

বহুতলে রং করতে গিয়ে ছিঁড়ল ক্যাটেল, মধ্যমগ্রামে মৃত্যু দুই নির্মাণকর্মীর

নিউজ ডেস্ক; বহুতল আবাসনের বাইরের অংশে রং করার কাজ চলছিল। ঝুলন্ত ক্যাটেলে বসেই কাজ করছিলেন নির্মাণকর্মীরা। আচমকাই ছিঁড়ে গেল ক্যাটেল
Screenshot 2026-08-29 182028_edited

নিউজ ডেস্ক; বহুতল আবাসনের বাইরের অংশে রং করার কাজ চলছিল। ঝুলন্ত ক্যাটেলে বসেই কাজ করছিলেন নির্মাণকর্মীরা। আচমকাই ছিঁড়ে গেল ক্যাটেল ধরে রাখা তার। উপর থেকে নীচে পড়ে গুরুতর জখম হলেন তিন শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও এক জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার বিকেলে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায়। দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মৃত দুই নির্মাণকর্মীর নাম মলয় চন্দ হাওলাদার (৪৮) এবং মিন্টু মণ্ডল (৪২)। দু’জনেই অশোকনগর থানা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। আহত অপর শ্রমিককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের গঙ্গানগর এলাকায় একটি বহুতল আবাসনের বাইরের অংশে রং করার কাজ চলছিল। শনিবার বিকেলে কয়েক জন শ্রমিক বহুতলের উঁচু অংশে রং করছিলেন। সেই কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল ঝুলন্ত একটি ক্যাটেল। সাধারণত এ ধরনের উঁচু জায়গায় কাজ করার সময়ে শ্রমিকেরা ওই ধরনের প্ল্যাটফর্মে বসে বা দাঁড়িয়ে কাজ করেন। কিন্তু কাজ চলাকালীন আচমকাই ঘটে বিপত্তি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ক্যাটেলটি দড়ি বা তারের সাহায্যে উপরে ঝোলানো ছিল। আচমকা সেটির তার ছিঁড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে নীচে পড়ে যান শ্রমিকেরা। বিকট শব্দে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আবাসনের বাসিন্দা এবং নিরাপত্তাকর্মীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রমিকদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও মলয় ও মিন্টুকে বাঁচানো যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কী ভাবে ক্যাটেলের তার ছিঁড়ল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়। ক্যাটেলটির অবস্থা কেমন ছিল, নিয়মিত তার পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, কাজ শুরুর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পরেই নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বহুতলের মতো উঁচু ভবনের বাইরের অংশে কাজ করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সুরক্ষা বেল্ট, হেলমেট, নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থা বা ঠিকাদার নিরাপত্তা বিধি মেনে চলেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, মধ্যমগ্রাম এলাকায় এর আগেও নির্মাণকাজের সময়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমনকী একই ধরনের ঘটনায় এক নির্মাণকর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল বলে তাঁদের দাবি। তারপরেও উঁচু জায়গায় কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কেন আরও সতর্কতা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

শ্রমিকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল কি না, কাজের আগে ক্যাটেল এবং তারের ভারবহন ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তরও এখন খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা। কারণ, উঁচু জায়গায় নির্মাণ বা রং করার কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ত্রুটি বা অসাবধানতাও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

এ দিন দুর্ঘটনার পরে ঘটনাস্থলে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবাসনের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত আহত শ্রমিকদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মৃতদেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। যে ক্যাটেলে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হবে। পাশাপাশি বহুতল আবাসনের ওই অংশে রং করার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথিপত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় আবারও সামনে এল নির্মাণশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি। শহর ও শহরতলিতে প্রতিদিনই অসংখ্য বহুতল ভবনে নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, রং বা সংস্কারের কাজ চলে। সেখানে উচ্চতায় কাজ করা শ্রমিকদের জন্য সামান্য নিরাপত্তার গাফিলতিও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফলে শুধু দুর্ঘটনার পরে তদন্ত নয়, কাজ চলাকালীন নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি উঠছে।

মধ্যমগ্রামের এই দুর্ঘটনায় দুই পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে। একই সঙ্গে আহত শ্রমিকটির দ্রুত সুস্থতার কামনা করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং নিরাপত্তা বিধি মানার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত শেষেই তার উত্তর মিলবে।

No Comments

তাজা খবর

আরও পড়ুন

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved