Last updated: August 29th, 2026 at 03:26 pm

শফিকুল ইসলাম: অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে পারাপারের সময় ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। একটুর জন্য প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেলেন চারচাকা গাড়ির আরোহীরা। শান্তিপুর-কৃষ্ণনগর রেললাইনের বাগদিয়া-বাদকুল্লা রাজ্য সড়কের ওপর ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনা। দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা একটি রেল ইঞ্জিনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি চারচাকা গাড়ি। এই দুর্ঘটনায় চালকসহ মোট ৩ জন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নদীয়া জেলায় ঘটা এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় রাজ্য সড়কে বেশ কিছুক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নদিয়ার বাগদিয়া এলাকার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া কৃষ্ণনগর-বাদকুল্লা রাজ্য সড়কের ঠিক মাঝখানেই রয়েছে এই রেল লাইন। প্রতিনিয়ত অসংখ্য যানবাহন এবং পথচারী এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও একটি চারচাকা গাড়ি ওই এলাকার লেভেল ক্রসিংটি পার হচ্ছিল। গাড়িটি যখন লাইনের মাঝখানে পৌঁছায়, ঠিক তখনই আচমকা উল্টো দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে আসে রেলের একটি ফাঁকা ইঞ্জিন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইঞ্জিনটি সজোরে ধাক্কা মারে চারচাকা গাড়িটির পাশে। ইঞ্জিনের তীব্র ধাক্কায় গাড়িটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয় রক্তাপ্লুত ৩ জন আরোহীকে। বিকট শব্দ শুনে মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তাঁরাই প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং দ্রুত খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানা ও রেল পুলিশকে। যৌথ প্রচেষ্টায় আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাড়ি থেকে বের করে দ্রুত শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় আপাতত তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বাগদিয়া এলাকার এই লেভেল ক্রসিংটি দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। সেখানে কোনো স্বয়ংক্রিয় রেল গেট বা বারিয়ার নেই, এমনকি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার জন্য কোনো রেল কর্মী বা গেটম্যানও মোতায়েন থাকেন না। এর ফলে চালক ও পথচারীদের সম্পূর্ণ নিজেদের ঝুঁকিতেই প্রতিদিন এই বিপজ্জনক রেললাইন পার হতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মহবুব হোসেন শাহ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি অসাবধানতার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজেদেরই নিতে হয়। সেখানে কোনো কর্মী না থাকায় লাইন পার হওয়ার ঠিক আগে গাড়ি থামিয়ে দু’দিক ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত ছিল। ট্রেন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আসে, চালক চাইলেও অত বড় ইঞ্জিনকে মুহূর্তে থামাতে পারেন না। চারচাকা গাড়ির চালক সম্ভবত অসাবধানতাবশত দুই দিক না দেখেই হুট করে রেললাইনে উঠে পড়েছিলেন, যার দরুন এই বিপত্তি।”
এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই অকুস্থলে পৌঁছায় রেল পুলিশ (GRP) এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তকারী আধিকারিকেরা। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটিকে ক্রেন এনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং কিছু সময় পর রাজ্য সড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অরক্ষিত এই লেভেল ক্রসিংয়ে কেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়নি এবং চালকের ঠিক কতটা গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি যৌথ তদন্ত শুরু করেছে রেলওয়ে ও স্থানীয় পুলিশ। তবে এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মানুষজনের দাবি, অবিলম্বে এই বিপজ্জনক স্থানে স্থায়ী গেট বসাতে হবে এবং গেটম্যান নিয়োগ করতে হবে, তা না হলে আগামী দিনে আরও বড়সড় প্রাণহানির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments