Homeমালদারক্তে ভাসল ঘর, গলার নলি কাটা দেহ! মালদায় ব্যবসায়ী খুনে চাঞ্চল্য

রক্তে ভাসল ঘর, গলার নলি কাটা দেহ! মালদায় ব্যবসায়ী খুনে চাঞ্চল্য

নিউজ ডেস্ক; গলার নলি কাটা। ঘরের মেঝে ও আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রক্ত। তার মধ্যেই পড়ে রয়েছে এক বৃদ্ধের দেহ। বৃহস্পতিবার
AI

নিউজ ডেস্ক; গলার নলি কাটা। ঘরের মেঝে ও আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রক্ত। তার মধ্যেই পড়ে রয়েছে এক বৃদ্ধের দেহ। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা থেকে মালদার বাড়িতে ফেরার পরদিনই এমন নৃশংস ভাবে খুন হলেন এক ব্যবসায়ী। আরও রহস্যজনক বিষয়, দেহ উদ্ধারের সময় তাঁর হাতে দেখা যায় রাখি বাঁধা। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, রাখি বন্ধনের দিন শুক্রবার সকালেই সম্ভবত খুন করা হয়ে থাকতে পারে তাঁকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার ইংরেজবাজার শহরে।

ঘটনাটি ঘটেছে শহরের গৌড় সংলগ্ন ২ নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি এলাকায়। মৃতের নাম অর্ণব সেন ওরফে পল্টু। বয়স প্রায় ৬০ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার যাদবপুর এলাকায় তাঁর বাড়ি। সেখানে হলুদের ব্যবসা ছিল তাঁর। পাশাপাশি মালদাতেও তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা থেকে মালদার সেই বাড়িতে ফিরেছিলেন অর্ণব। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর আর বেশিক্ষণ জীবিত ছিলেন না তিনি।

শুক্রবার সকালে বাড়ির ভিতর থেকে অর্ণবের দেহ উদ্ধার হয়। গলার নলি কাটা অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়ে ছিলেন তিনি। ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল রক্ত। পরিস্থিতি দেখে প্রথম থেকেই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত খুন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে খুন করা হল, আততায়ী বা আততায়ীরা কী ভাবে বাড়িতে ঢুকেছিল এবং খুনের পর কী ভাবে বেরিয়ে গেল— সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

অর্ণব অবিবাহিত ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। মালদার তিনতলা বাড়িটির একতলায় তাঁর থাকার ঘর ছিল। দোতলা এবং তিনতলায় তাঁর অন্যান্য আত্মীয়েরা থাকেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকালে কোনও এক সময় কেউ বা কারা বাড়িতে ঢুকে অর্ণবকে খুন করে থাকতে পারে। ঘটনার সময় বাড়ির অন্য সদস্যেরা কী অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁরা কোনও আওয়াজ বা সন্দেহজনক কিছু শুনেছিলেন কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

খুনের পরে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র লন্ডভন্ড অবস্থায় পাওয়া যায়। আলমারি বা অন্যান্য সামগ্রীতে কোনও জিনিস খোঁজার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘরের এমন অবস্থা দেখে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অনুমান, হয়তো ডাকাতির উদ্দেশ্যেই দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকেছিল। বাধা পেয়ে অর্ণবকে খুন করে পালিয়ে যায় তারা— এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে তদন্তকারীদের সামনে অন্য একটি সম্ভাবনাও রয়েছে। হয়তো ডাকাতি নয়, কোনও নির্দিষ্ট জিনিসের খোঁজেই আততায়ী বাড়িতে ঢুকেছিল। সেই জিনিসটি কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মৃতের ব্যবসা, আর্থিক লেনদেন, কলকাতা ও মালদায় তাঁর পরিচিতদের পরিধি— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত কোনও শত্রুতা বা ব্যবসায়িক বিবাদের জেরে এই খুন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ঘটনার একটি বিশেষ দিক তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে। অর্ণবের হাতে রাখি বাঁধা অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবারই ছিল রাখি বন্ধন। সেই কারণেই তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সম্ভবত শুক্রবার সকালেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক সময় সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকেই মৃত্যুর আনুমানিক সময় এবং খুনের ধরন সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। গলার নলি কাটার জন্য কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা-ও ময়নাতদন্ত এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ঘরটি পরীক্ষা করে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘরে থাকা জিনিসপত্র, দরজা-জানালার অবস্থা এবং সম্ভাব্য প্রবেশ ও বেরোনোর পথ পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কোনও জোর করে ঢোকার চিহ্ন ছিল কি না, সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তদন্তে। কারণ, বাড়ির একতলায় একা থাকা অর্ণবের ঘরে আততায়ী কী ভাবে ঢুকেছিল, তা পরিষ্কার না হলে তদন্তের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর অধরা থেকে যাবে।

পাশাপাশি ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে অর্ণব কখন বাড়িতে ফিরেছিলেন, তার পর থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কারা ওই বাড়ির আশপাশে যাতায়াত করেছে, কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গাড়ি দেখা গিয়েছিল কি না— সিসিটিভি ফুটেজে তার সূত্র খোঁজা হচ্ছে। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অর্ণবের কলকাতার যাদবপুরের ব্যবসা নিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। হলুদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক পরিচিত এবং সাম্প্রতিক সময়ে কারও সঙ্গে কোনও বিবাদ হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে মালদার বাড়িতে তাঁর যাতায়াত, স্থানীয় পরিচিতি এবং পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত ইংরেজবাজারের ওই এলাকায় দিনের শুরুতেই এমন নৃশংস খুনের ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, শহরের তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়ির ভিতরে একজনকে এ ভাবে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত আততায়ীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পুলিশের সামনে এখন মূল লক্ষ্য, খুনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং আততায়ীকে শনাক্ত করা। ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুন, নাকি নির্দিষ্ট কোনও জিনিসের সন্ধানে এসে পরিকল্পিত ভাবে অর্ণবকে হত্যা— এই দুই সম্ভাবনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত তথ্য মিলিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা থেকে মালদার নিজের বাড়িতে ফেরা, শুক্রবার সকালে গলার নলি কাটা অবস্থায় দেহ উদ্ধার এবং হাতে বাঁধা রাখি— এই তিনটি বিষয়ই আপাতত রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে। অর্ণব সেনের খুনের পিছনে আসল কারণ কী, তাঁর ঘরে কারা ঢুকেছিল এবং কী উদ্দেশ্যেই বা তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার উত্তর মিলবে না। তবে নৃশংস এই ঘটনায় দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে গোটা এলাকায়।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved