Last updated: August 26th, 2026 at 06:20 pm

নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে মেলানো হল বড় সাফল্য। মালদহের হবিবপুর থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF)-র হাতে ধরা পড়ল ৫ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। এই চক্রের পেছনে থাকা এক ভারতীয় দালালকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত দালালের আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃতদের মধ্যে একজনের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সখ্যতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে হবিবপুর থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিএসএফ এবং হবিবপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। সীমান্ত পার করার মুহূর্তেই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় রিপন বিশ্বাস নামে এক স্থানীয় দালালকে। ধৃত রিপনের বাড়ি হবিবপুরের দাল্লা এলাকায়। অভিযোগ, মোটা টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশে সাহায্য করত সে। ওই দিন মহম্মদ মানিক নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে কাঁটাতার পার করিয়ে ওপারে পাঠানোর চেষ্টা করছিল রিপন। এর বিনিময়ে মানিকের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা চুক্তি করা হয়েছিল বলে বিএসএফ সূত্রের দাবি।
উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধৃত বাংলাদেশি মহম্মদ মানিক বেশ কিছু দিন ধরেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। তার আসল বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায়। মানিকের এই দীর্ঘ দিন এ রাজ্যে গা ঢাকা দিয়ে থাকার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীদের একাংশের সন্দেহ, মানিক সাধারণ অনুপ্রবেশকারী নয়, বরং সীমান্তপার কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকতে পারে। ভারতে তার প্রবেশের পেছনে কোনো বড়সড় ষোড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, হবিবপুর সীমান্তেরই অপর একটি সংবেদনশীল এলাকা থেকে টহলদারি চালানোর সময় আরও চার জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিএসএফের জওয়ানরা। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পরবর্তীতে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত এই চার জনের বাড়িও বাংলাদেশের রাজশাহী এলাকাতেই। তাঁরা কী উদ্দেশ্যে এবং কার সাহায্যে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তর্জাতিক পাচারকারী ও অনুপ্রবেশকারী চক্রের নেটওয়ার্ক কতটা শক্তিশালী, এই গ্রেফতারির ঘটনায় তা আরও একবার স্পষ্ট হলো। জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ধৃত দালাল রিপন বিশ্বাসকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সহযোগীদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই কোনো অসাধু চক্র এই ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটাতে না পারে।
একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।
Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved
No Comments