Homeকলকাতা১৬ বছর পর জট কাটল বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রোয়, পিঙ্ক লাইনে ছুটবে মেট্রো

১৬ বছর পর জট কাটল বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রোয়, পিঙ্ক লাইনে ছুটবে মেট্রো

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে জট কাটতে চলেছে বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের। কলকাতা পুরনিগমের তরফে বি.টি. রোড বরাবর
resizeplus_AI চিত্র (3)

নিউজ ডেস্ক; দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে জট কাটতে চলেছে বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের। কলকাতা পুরনিগমের তরফে বি.টি. রোড বরাবর প্রস্তাবিত পিঙ্ক লাইন মেট্রো করিডরের জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা NOC দেওয়ায় বহু বছর ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্প ফের গতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত সরাসরি মেট্রোয় যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে উত্তর শহরতলির মানুষের জন্য।

প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রো করিডরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। সেই সময় দেশের রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্পের কাজ আর প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। একের পর এক প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত থমকে ছিল বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো।

এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল বি.টি. রোডের নীচে থাকা পানীয় জলের পাইপলাইন নিয়ে। কলকাতা পুরনিগমের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, বি.টি. রোডের নীচে একটি ৬০ ইঞ্চি এবং একটি ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন রয়েছে। পলতা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানীয় জল ওই দুই পাইপলাইনের মাধ্যমে টালা জলাধারে পৌঁছয়।

প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল, মেট্রো নির্মাণের সময় ওই পাইপলাইনের কোনও ক্ষতি হলে উত্তর কলকাতা ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষের পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মেট্রোর নির্মাণকাজ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি ৬৪ ইঞ্চি নতুন পাইপলাইন বসানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও প্রকল্পের কাজ বাস্তবে এগোয়নি।

২০২৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্প নিয়ে ফের তৎপরতা শুরু হয়েছে। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের জট কাটানোর উদ্যোগের পাশাপাশি পিঙ্ক লাইন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কলকাতা পুরনিগমের NOC পাওয়াকে বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কলকাতা পুরনিগমের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, বি.টি. রোড বরাবর বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো করিডরের জন্য কলকাতা পুরনিগমের NOC দেওয়ার সিদ্ধান্ত উত্তর শহরতলিতে গণপরিবহণ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তর শহরতলির মানুষের যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একইসঙ্গে বি.টি. রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের চাপও কমতে পারে। মেট্রো পরিষেবা চালু হলে প্রতিদিনের যাতায়াতে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক গণপরিবহণের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ।

জলের পাইপলাইন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। শহরের অত্যাবশ্যকীয় পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেই মেট্রো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য পৃথক নতুন জল পরিবহণ পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে যেমন মেট্রো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হবে, অন্যদিকে শহরের পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাকেও সুরক্ষিত রাখা হবে। প্রশাসনের দাবি, গণপরিবহণ সম্প্রসারণ এবং নাগরিক পরিষেবা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর—কোন কোন স্টেশনে থামবে মেট্রো?

বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো করিডরটি পিঙ্ক লাইনের অংশ। প্রস্তাবিত রুটটি হবে মূলত উঁচু পথে বা এলিভেটেড করিডর। অর্থাৎ মেট্রো এই অংশে মাটির নীচ দিয়ে নয়, মাথার উপর দিয়ে চলবে।

এই করিডরে মোট ১১টি স্টেশন থাকার কথা রয়েছে। স্টেশনগুলি হল—

  • বরাহনগর
  • কামারহাটি
  • আগরপাড়া
  • পানিহাটি
  • সুখচর
  • সোদপুর
  • খড়দহ
  • টাটা গেট
  • টিটাগড়
  • তালপুকুর
  • ব্যারাকপুর

এই রুট চালু হলে উত্তর শহরতলির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত হবে। বরাহনগর, কামারহাটি, পানিহাটি, সোদপুর, খড়দহ, টিটাগড় এবং ব্যারাকপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার যাত্রীদের জন্য এই মেট্রো পরিষেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ করে প্রতিদিন কলকাতায় কাজ, ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত করা মানুষের জন্য মেট্রো একটি দ্রুত বিকল্প তৈরি করতে পারে। বর্তমানে বি.টি. রোডের উপর দিয়ে বাস ও অন্যান্য যানবাহনের বিপুল চাপ রয়েছে। ফলে যানজটের কারণে যাত্রাপথে অনেক সময় অতিরিক্ত সময় লাগে। মেট্রো চালু হলে সেই চাপের একটি অংশ রেলভিত্তিক গণপরিবহণে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে NOC পাওয়া মানেই যাত্রী পরিষেবা অবিলম্বে শুরু হয়ে যাচ্ছে না। নির্মাণকাজ, পরিকাঠামো তৈরি, বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ধাপ এখনও বাকি। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবে কবে সম্পূর্ণ হবে এবং কবে থেকে সাধারণ যাত্রীরা পরিষেবা পাবেন, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কাজ কত দ্রুত এগোয় তার উপর।

দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পে কলকাতা পুরনিগমের NOC নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি। এবার নির্মাণকাজ বাস্তবে কত দ্রুত শুরু হয় এবং প্রকল্প কতটা সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়, সেদিকেই নজর থাকবে উত্তর শহরতলির বাসিন্দাদের।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved