Homeদেশমাঝআকাশে চিরকুটে বোমার হুমকি, লখনউ-বেঙ্গালুরু ইন্ডিগো বিমানে তীব্র চাঞ্চল্য: নিরাপদে নামানো হলো যাত্রীদের

মাঝআকাশে চিরকুটে বোমার হুমকি, লখনউ-বেঙ্গালুরু ইন্ডিগো বিমানে তীব্র চাঞ্চল্য: নিরাপদে নামানো হলো যাত্রীদের

নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে উড়ানের মাঝেই আচমকা বোমাতঙ্ক। উড়ন্ত বিমানের কেবিনে চিরকুট ঘিরে তৈরি হলো চরম উত্তেজনা ও ভয়াবহ পরিস্থিতি। বুধবার
Screenshot 2026-08-26 141712

নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে উড়ানের মাঝেই আচমকা বোমাতঙ্ক। উড়ন্ত বিমানের কেবিনে চিরকুট ঘিরে তৈরি হলো চরম উত্তেজনা ও ভয়াবহ পরিস্থিতি। বুধবার সকালে লখনউ থেকে বেঙ্গালুরুগামী ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবাহী বিমানে চিরকুটের মাধ্যমে বোমার হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বিমান চালক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত সকাল পৌনে দশটা নাগাদ বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটিকে জরুরি ও নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়। যাত্রীদের সুরক্ষিতভাবে নামিয়ে এনে বম্ব স্কোয়াড তল্লাশি চালালেও কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বোমা মেলেনি।

প্রতিদিনের মতোই বুধবার সকালে নির্ধারিত সূচি মেনে লখনউ বিমানবন্দর থেকে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ইন্ডিগোর 6E321 নম্বর ফ্লাইটটি। বিমানটি মাঝআকাশে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কেবিন ক্রু সদস্যরা বিমানের একটি অংশে একটি সন্দেহজনক চিরকুট পড়ে থাকতে দেখেন। চিরকুটটি খুলতেই চমকে ওঠেন তাঁরা। সেখানে পরিষ্কার হরফে লেখা ছিল যে, বিমানের কেবিনের ভেতরেই একটি শক্তিশালী বোমা রাখা রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে সেটির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

চিরকুটটি নজরে আসামাত্রই কালবিলম্ব না করে পুরো বিষয়টি বিমানের প্রধান চালক অর্থাৎ পাইলটদের অবহিত করেন কেবিন ক্রু-রা। পরিস্থিতির গুরুত্ব ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উড়ানের পাইলট তৎক্ষণাৎ বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরের বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রণ কক্ষের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ঘটনাটি জানান। খবর পাওয়ামাত্রই বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয় এবং রানওয়ে সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তুত রাখা হয় দমকল, অ্যাম্বুলেন্স ও কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) জওয়ানদের।

সকাল ঠিক ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বিমানটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে নিরাপদ অবতরণ করে। বিমানটি থামার পর সেটিকে দ্রুত টার্মিনাল থেকে দূরবর্তী একটি আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয়। আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন যাত্রীদের জরুরি প্রটোকল মেনে একে একে অত্যন্ত নিরাপদে বিমান থেকে বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়। যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিএস), স্নিফার ডগ এবং নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ দল বিমানের ভেতর প্রবেশ করে।

সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে বিমানটির প্রতিটি কোণ, যাত্রীদের হাতব্যাগ এবং মেঝের নিচের ক্যাবিন পরীক্ষা করা হয়। প্রায় দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর দমকল ও বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকেরা নিশ্চিত করেন যে, সেখানে কোনো রকম বোমার অস্তিত্ব নেই। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি ভুয়ো বোমাতঙ্ক বা ‘হোক্স কল’ বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে মাঝআকাশে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে কে বা কারা এই চিরকুটটি রেখেছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিমানের যাত্রী তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, বিমানে এই ধরণের ভুয়ো চিরকুট বা ইমেলের মাধ্যমে বোমার হুমকি দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসেই লখনউ থেকে দিল্লিগামী একটি ইন্ডিগো বিমান থেকেও একই স্টাইলে চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছিল। সেবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি বম্ব স্কোয়াড। বারবার লখনউ থেকে ছেড়ে আসা বিমানেই কেন এই একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন দেশের নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved