Homeরাজ্যঅগ্নি-নিরাপত্তায় গাফিলতি! বকখালি থেকে হাওড়া, রাজ্যজুড়ে হোটেল বন্ধের কড়া নির্দেশ

অগ্নি-নিরাপত্তায় গাফিলতি! বকখালি থেকে হাওড়া, রাজ্যজুড়ে হোটেল বন্ধের কড়া নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের তারাপীঠ এবং কলকাতার মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানির পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের
Screenshot 2026-08-26 133538

নিউজ ডেস্ক: বীরভূমের তারাপীঠ এবং কলকাতার মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানির পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রগুলির হোটেল, লজ ও গেস্টহাউসগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক কতটা সুরক্ষিত, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যব্যাপী ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিপূর্বে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তারাপীঠ, মেদিনীপুর ও কলকাতার একাধিক হোটেল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই কড়া নজরদারির আওতায় উঠে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জনপ্রিয় উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র বকখালি, বাঁকুড়ার অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র জয়রামবাটি এবং শিল্পশহর হাওড়ার একাধিক হোটেল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালিতে আচমকাই বিশেষ পরিদর্শন বা ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ চালায় কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসন। গত মঙ্গলবার কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক (এসডিও) শুভঙ্কর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি বিশেষ যৌথ দল বকখালির একাধিক হোটেলে অভিযান চালায়। এই তদন্তকারী দলে এসডিও ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফায়ার ব্রিগেড (দমকল) এবং জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

তদন্তকারী দলটি আচমকা হোটেলগুলিতে হাজির হয়ে তাদের ফায়ার সেফটি লাইসেন্স, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্রের বর্তমান কার্যকারিতা, জরুরি নির্গমন পথ (Emergency Exit), ইলেকট্রিক্যাল ওয়ারিং এবং রান্নাঘরের এলপিজি (LPG) গ্যাস ব্যবহারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শন শেষে মহকুমা শাসক সাংবাদিকদের জানান, বকখালির বেশ কিছু হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিতে গুরুতর গলদ ও গাফিলতি নজরে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবীকরণ করা হয়নি, আবার কোথাও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামই অনুপস্থিত।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে স্থানীয় হোটেল মালিক এবং বকখালি হোটেল অ্যাসোসিয়েশনকে এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহকুমা প্রশাসন। আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি হোটেলকে তাদের ফায়ার সেফটি লাইসেন্স নবীকরণ করতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শুধুমাত্র পর্যটকদের থাকার ঘর নয়, হোটেলের রান্নাঘর ও পিছনের অংশের নিরাপত্তাও সমানভাবে দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশিকা না মানলে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

একই দিনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে অভিযান চালানো হয় বাঁকুড়ার পবিত্র তীর্থক্ষেত্র জয়রামবাটিতে। শ্রীশ্রী মা সারদা দেবীর জন্মভূমি হওয়ায় জয়রামবাটিতে সারা বছরই দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম ঘটে। সেখানকার হোটেল ও লজগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে যৌথভাবে হানা দেয় দমকল, স্থানীয় পুলিশ, ব্লক প্রশাসন এবং রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের (WBSEDCL) আধিকারিকেরা।

অভিযান চলাকালীন বহু হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় বড়সড় ত্রুটি ধরা পড়ে। দমকল আধিকারিক অশেষ রায় জানান, তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে কোনোপ্রকার আপস করা হবে না। প্রাথমিক পর্বে হোটেল কর্তৃপক্ষকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধন না হলে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, হাওড়া রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হোটেলগুলির বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। শহরের জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই হোটেলগুলির অনেকগুলিতেই ন্যূনতম ফায়ার সেফটি বিধি মানা হয় না বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল। সূত্রের খবর, হাওড়া শহরের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩৭টি হোটেলকে ইতিমধ্যেই দমকলের পক্ষ থেকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে।

ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার (ডিএফও) অরিজিৎ দাস জানিয়েছেন, যে সমস্ত হোটেলের দমকলের ছাড়পত্র নেই কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম মেলেনি, তাদের দ্রুত সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নোটিস পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ত্রুটি না মেটালে হোটেল সাময়িকভাবে সিল বা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে। আগামী দিনে কেবল হোটেলই নয়, বিভিন্ন জনবহুল শপিং কমপ্লেক্স, গুদাম ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও এই যৌথ পরিদর্শন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।

No Comments

তাজা খবর

একটি স্বাধীন ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম, যার লক্ষ্য শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়— মানুষের কথা, মানুষের অধিকার এবং সমাজের বাস্তব চিত্রকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরা।

Copyright 2026 NGTV News. All rights reserved